1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৩ অপরাহ্ন

প্রেসিডেন্ট হত্যার নেপথ্যে বিরোধী দল

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

‘চোখের পলকে ঘাতকেরা আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। এরপর বুলেট দিয়ে তারা আমার স্বামীর বুক ঝাঁঝরা করে ফেলে। তাকে একটা কথা বলারও সুযোগ দেয়নি।’ হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে কথাগুলো বলেছেন স্ত্রী মার্টিন মইস। স্বামীর হত্যার জন্য ‘রাজনৈতিক শত্রু’ বিরোধী দলকে দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘সড়ক-যোগাযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে স্বার্থের কারণে ঘাতকদের পাঠিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ এদিকে প্রেসিডেন্ট হত্যার পর অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে হাইতি। প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী ‘গ্যাং বসরা’র নেতা জিমি শেরিজিয়ার বলেছেন, তার অনুগতরা প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নামছে। এতে দরিদ ও সহিংসতাপূর্ণ ক্যারিবীয় দেশটির টালমাটাল পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার বিবিসি ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ৫৩ বছর বয়সি প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসকে রাজধানী পোর্ট-ও-প্রিন্সে তার নিজ বাসভবনে খুন করা হয় গত বুধবার খুব সকালে। হাইতি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য মতে, ‘উচ্চ প্রশিক্ষিত ও ভারি অস্ত্রে সজ্জিত একদল ঘাতক তাকে গুলি করে হত্যা করে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ২৮ সদস্যের এক কমান্ডো দল (যার মধ্যে ২৬ জন কলম্বিয়ার ও দুই হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত মার্র্কিন নাগরিক) ঝড়ের গতিতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তাদের লক্ষ্য করে ওপেন ফায়ার করে। এ সময় প্রেসিডেন্ট দম্পতি এক ঘরেই ছিলেন।

ওই ঘটনায় আহত হন ফার্স্টলেডি মার্টিন মইস। তাকে প্রথমে হাইতির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নততর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শনিবার হাসপাতাল থেকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খোলেন তিনি। এদিন নিজের টুইটার পেজে একটি ভয়েস মেসেজ পোস্ট করেন। এই বার্তা যে মার্টিন মইসির, তা একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই বার্তায় ভাড়াটে ঘাতকরা কিভাবে আচমকাই বাড়িতে ঢুকে চোখের সামনেই তার প্রেসিডেন্ট স্বামীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে ফেলে-সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘হামলার ঘটনায় আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি।’ মার্টিন বলেন, ‘চোখের পলকে ভাড়াটে (খুনিরা) আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বুলেটের গুলিতে আমার স্বামীকে ঝাঁঝরা করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাকে কী বলা যেতে পারে! কারণ একটা শব্দও বলার সুযোগ না দিয়ে জোভেনেল মইসের মতো একজন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করার জন্য যে কাউকে চরম অপরাধী হতে হবে।’ মার্টিন ইঙ্গিত দেন যে রাজনৈতিক কারণে তার স্বামীকে নিশানা করা হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান পরিবর্তনে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কারণে। তিনি বলেন, ‘আমি কাঁদছি, এটা সত্য। কিন্তু দেশকে তার গতিপথ থেকে সরে যেতে দেওয়া যায় না।’

মার্টিন মইসি জানান, অজ্ঞাত হত্যাকারীরা বলেছিল, তারা প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসের স্বপ্ন শেষ করে দিতে চায়। তিনি আরও বলেন, ‘আমি কান্নকাটি করছি এটা সত্য। তবে আমরা তার পথ ভুলে যেতে পারি না। আমার স্বামী, আমাদের প্রেসিডেন্টকে আমরা অনেক বেশি ভালোবাসি। তার রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারি না।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মইসের হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন গ্যাংয়ের ফেডারেশন জি-৯ এর প্রধান সাবেক পুলিশ সদস্য শেরিজিয়ার। তিনি বারবিকিউ নামে বেশি পরিচিত। শনিবার এক বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেরিজিয়ার বলেন, হাইতির পুলিশ ও বিরোধী রাজনীতিকরা ‘নোংরা বুর্জোয়াদের’ সঙ্গে মিলে মইসকে ‘বলি’ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর