1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

ফেসবুকের কালো তালিকায় বাংলাদেশের যারা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো প্রচার ও যোগাযোগ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ ব্যবহার করে। সেটা সহিংস বাণী ছড়ানো থেকে শুরু করে নতুন সদস্য আহ্বান পর্যন্ত। সে অভিযোগ ঝেড়ে ফেলতে ‘বিপজ্জনক ব্যক্তি ও সংগঠনের’ তালিকা তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

এই কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো নিয়ে ফেসবুকে সরাসরি ব্যবহারকারীরা লিখতে পারবেন না। কিছু পোস্ট করলে এবং তা ফেসবুকের নজরে এলে কনটেন্ট সরিয়ে ফেলে ব্যবস্থা নেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তালিকাটি প্রকাশে বরাবরই অনীহা প্রকাশ করে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, এতে তাদের কর্মীরা বিপদে পড়তে পারেন। আবার তালিকাভুক্তরা তখন বিকল্প পথে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করবেন। তবে ফেসবুকেরই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ওভারসাইট বোর্ড’ জনস্বার্থের উল্লেখ করে একাধিকবার সে তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানায়। কারণ, ব্যবহারকারীরা যদি না জানেন যে কাদের নিয়ে ফেসবুকে লেখা যাবে না, তবে লেখার আগে তাঁরা বুঝবেন কী করে?

ফেসবুকের ‘বিপজ্জনক ব্যক্তি ও সংগঠনের’ তালিকার একটি সংস্করণ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট। সেখানে চার হাজারের বেশি নাম পাওয়া যায়। রাজনীতিবিদ আছেন, লেখক আছেন, দাতব্য সংস্থা ও হাসপাতালের নামও পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হলো দীর্ঘদিনের মৃত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বরাও এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন।

সে তালিকায় বাংলাদেশের উল্লেখও রয়েছে। যেমন তালিকায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত ‘আল মুরসালাত মিডিয়া’ (মিডিয়া উইং বোঝানো হয়েছে) পরিচালিত হয় দক্ষিণ এশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশে। সেটি ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবার আল-কায়েদা সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যুক্ত হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ এবং আনসারুল্লাহ বাংলার উল্লেখও পাওয়া যায়। পাশাপাশি ‘ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ’ ও ‘জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ’-এর উল্লেখও আছে। জেমা ইসলামিয়া, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আল-কায়েদা সেন্ট্রাল কমান্ডের মিডিয়া উইং হিসেবে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পরিচালিত ‘সাহাম আল হিন্দ মিডিয়া’র উল্লেখও পাওয়া যায়। তা ছাড়া জেএমবির ‘তারিকুল ইসলাম’ উল্লেখ করে কোনো পোস্টও দেওয়া যাবে না ফেসবুকে।

দ্য ইন্টারসেপ্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুকের কালো তালিকার ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ নাম সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ যুক্ত সশস্ত্র সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে, ১৭ শতাংশ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর জন্য, ৪ দশমিক ৯ শতাংশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এবং ১ শতাংশ নাম ‘ভায়োলেন্ট নন-স্টেট অ্যাক্টরস’।

পূর্ণ তালিকাটি পাওয়া যাবে এখানে।

ফেসবুকের তালিকায় নামগুলো তিন স্তরে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা বিদ্বেষ ছড়ায় এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়, অর্থাৎ টায়ার-১ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে সশস্ত্র সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নামগুলো। দ্য ইন্টারসেপ্টের প্রতিবেদনে এদের বেশির ভাগই ‘মার্কিন সরকারবিরোধী ডানপন্থী মিলিশিয়া, যাদের প্রায় সবাই শ্বেতাঙ্গ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেসবুকের সন্ত্রাস দমন এবং বিপজ্জনক সংগঠনবিষয়ক নীতিমালা পরিচালক ব্রায়ান ফিশম্যান একগুচ্ছ টুইটে বলেন, দ্য ইন্টারসেপ্টের তালিকা সম্পূর্ণ নয়। তালিকাটি প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

ফিশম্যান বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী বিপজ্জনক সংগঠন সংজ্ঞায়িত এবং শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কোনো সংজ্ঞার ব্যাপারেই সবাই একমত নন।’ আরও যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্মে সন্ত্রাসী, বিদ্বেষ এবং অপরাধমূলক সংগঠন চাই না। সে কারণেই আমরা তাদের নিষিদ্ধ করি এবং তাদের হয়ে, সমর্থন জানিয়ে কিংবা প্রশংসা করে দেওয়া কনটেন্ট মুছে ফেলি। ফেসবুকে ৩৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের একটি দল এই সংগঠনগুলো এবং উদীয়মান হুমকি মোকাবিলার জন্য কাজ করছে।’

সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত নামগুলোর সিংহভাগ ফেসবুক নিয়েছে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে। অর্থাৎ মার্কিন সরকার চাইলে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও মুখ বন্ধ করে দিতে পারে। প্রায় এক হাজার নামের পাশে ‘এসডিজিটি’ লেখা, যা ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্টস’ শব্দগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ। নাইন-ইলেভেন হামলার পরপর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে সে তালিকা প্রণয়ন করা হয়, এখন সেটি দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট হালনাগাদ করে।

দ্য ইন্টারসেপ্টের প্রতিবেদনে ফেসবুকের একটি নথিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখে ঠিক করা হয় কোন পোস্ট মুছে ফেলা হবে এবং কোন ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর