1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

বহুরূপী ঈশিতা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

কখনও তিনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, কখনও চিকিৎসা বিজ্ঞানী, কখনও গবেষক হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। এমপিএইচ, এমডি, ডিওসহ নানা ভুয়া বিশেষজ্ঞ ডিগ্রিও আছে তার। এজন্য বিভিন্ন সাইটে চিকিৎসা শাস্ত্রে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ, আর্টিকেল বা থিসিস পেপারের ভুয়া প্রকাশনাও ব্যবহার করেছেন দীর্ঘদিন। আর এভাবেই চলছিল বহুরূপী ঈশিতার বহুমুখী প্রতারণা।

রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুর থেকে ইশরাত রফিক ঈশিতা (৩৪) নামে এক চিকিৎসক গ্রেফতারের পর প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন র‌্যাবের কাছে। ঈশিতা ছাড়াও তার সহযোগী শহিদুল ইসলাম দিদার নামে এক যুবককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সংস্থার আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে শ্রেষ্ঠ গবেষকসহ নানা পরিচয় দিতেন নিজেকে। যদিও তার এসব বিশেষ ডিগ্রি বা তথাকথিত আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সবই ভুয়া। মূলত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ ও খ্যাতি অর্জনে নিজেই এসব ডিগ্রি ও পদকজুড়ে দিয়েছেন নিজের নামে।

এদিকে ঈশিতা গ্রেফতারের পর অনলাইনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি অনলাইনে নানা ধরনের বিতর্কিত কাণ্ড ঘটিয়ে গ্রেফতার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ ঈশিতাকে গ্রেফতার করে। তার বাসা থেকে ভুয়া আইডি কার্ড, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড, ভুয়া সিল, ভুয়া সনদ, ভুয়া প্রত্যায়নপত্র, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, ইয়াবা, বিদেশি মদ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের দুটি ইউনিফর্ম ও র‌্যাংক ব্যাচ উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, ঈশিতা নিজেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানী, গবেষক, বিশিষ্ট আলোচক, ডিপ্লোম্যাট, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পিএইচডি হোল্ডারসহ বিভিন্ন পরিচয় দিতেন। যদিও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া চিকিৎসা শাস্ত্রে তার আরও কোনো উচ্চতর ডিগ্রি নেই।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, ইন্টারন্যাশনাল ইন্সপিরেশনাল ওমেন অ্যাওয়ার্ড, বছরের সেরা নারী বিজ্ঞানী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রিসার্চ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, ভারতের টেস্ট জেম অ্যাওয়ার্ড, থাইল্যান্ডের আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড রিসার্চার অ্যাওয়ার্ডসহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননাসহ যত ধরনের পুরস্কার ও সম্মান পাওয়ার কথা বলেছেন সবই ভুয়া বলে স্বীকার করেছেন। মূলত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই প্রতারণা শুরু করেন। করোনাকালীন বিভিন্ন চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এই নারী চিকিৎসক।

র‌্যাব জানায়, ঈশিতা ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ২০১৩ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করে পরের বছর মিরপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। এরপর একটি সরকারি হাসপাতালে চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করেন। তবে ৪ মাস পর অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

র‌্যাব জানায়, তার দাবিকৃত ২০২০ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে হোটেল পার্ক অ্যাসেন্টে অনুষ্ঠিত জিআইএসআর ফাউন্ডেশনের ইন্টারন্যাশনাল ইন্সপিরেশনাল ওমেন অ্যাওয়ার্ড (আইআইডবিউ ২০২০) প্রাপ্তি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রিসার্চ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’, ভারতের ‘টেস্ট জেম অ্যাওয়ার্ড ২০২০’, থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে ‘আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’সহ অন্যান্য ভুয়া বলে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া ২০১৮ সালে জার্মানিতে ‘লিন্ডা ও নোবেল লরিয়েট মিট-মেডিসিনে’ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অংশগ্রহণ ও বিশ্বের ৬০-৬৫টি দেশ ভ্রমণের তথ্যও ভুয়া।

আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে অর্থের বিনিময়ে প্রতিনিধি
ঈশিতা ‘ইয়াং ওয়ার্ল্ড লিডারস ফর হিউম্যানিটি’ নামে একটি অনিবন্ধনকৃত ও অননুমোদিত সংগঠন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। সংস্থাটির সদর দফতর নিউইয়র্কে অবস্থিত বলে প্রচারণা করা হলেও অনলাইন প্লাটফর্মে শুধু ফেসবুক পেজ ও লিংকইন আইডি রয়েছে। আবার ফেসবুক পেজের কো-অ্যাডমিনও তিনি।

এ পেজের মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতারণা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বুরুন্ডি, আমেরিকা, নাইজেরিয়া, ওমান, সৌদি আরব ইত্যাদি দেশে অর্থের বিনিময়ে প্রতিনিধি নিয়োগ হয়েছে। এ ছাড়াও ওই দেশগুলোয় এই সংগঠনের ব্যানারে সেমিনার, অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি আয়োজন করা হয়ে থাকে। যেখানে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানীর একটি অডিটোরিয়ামে ৩০ জন বাংলাদেশিকেও ‘ইয়াং ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফর হিউম্যানিটি’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, ফিলিপাইনে পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট থেকে ৪০০ ডলারের বিনিময়ে সামরিক বাহিনীর মতো ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল’ পদটি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঈশিতা। তবে ওই সংগঠনটির কোনো অস্তিত্ব পায়নি র‌্যাব। এ ছাড়াও তিনি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন ও কাউন্টার ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন ইত্যাদি সদস্য পদের ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রচারণা চালাতেন।

সহযোগী দিদারও ভুয়া মেজর জেনারেল
র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার দিদার ছিল প্রতারণার অন্যতম প্রধান সহযোগী। তিনি টেলিফোন-অনলাইন আবার ক্ষেত্র বিশেষে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঈশিতার পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করতেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনলাইনে তিনি এ ভূমিকা পালন করতেন। দিদার ২০১২ সালে একটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একটি গার্মেন্টসে কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। তারা দুজনই বিভিন্ন সংস্থার ভুয়া সদস্য, কর্ণধার বা দূত হিসেবে দেশে-বিদেশে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অপরাধ কার্যক্রমে যুক্ত। তিনিও ফিলিপাইনে একই সাইট থেকে অর্থের বিনিময়ে মেজর জেনারেল পদ ধারণ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া নিজেকে আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক); ইয়াং ওয়াল্ড লিডার ফর হিউমিনিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ফাউন্ডার (প্রতিষ্ঠাতা) বা কর্ণধার হিসেবে উপস্থাপন করেন। একইভাবে তিনি দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার দূত বা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পরিচয় দিতেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রতারণার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। ঈশিতা ও দিদারের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর