1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

বাজারের ব্যাগে করে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: পুলিশের বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি মিজানুর রহমান বাজারের ব্যাগে করে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দেন আরেক বরথাস্ত হওয়া দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে। এই ঘুষ গ্রহণের মামলার সাক্ষ্যে বুধবার ১৯ আগস্ট থেকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ শুরু হয়েছে। মামলার বাদী দুদকের পরিচালক শেখ মো:ফানাফিল্যার সাক্ষ্যে দেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন ওই আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

এর আগে কারাগারে থাকা আসামি খন্দকার এনামুল বাছির এবং মিজানুর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে দুদকের পরিচালক শেখ মো.ফানাফিল্যা বলেন, আসামি খন্দকার এনামুল বাছির দুদকের কর্মকর্তা হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিজানুর রহমানকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার জন্য ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। অন্যদিকে মিজানুর রহমান সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে দুদকের পরিচালক এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেন। মিজানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়টি দুদক অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এনামুল বাছিরকে। অনুসন্ধান চলাকালীন ২০১৯ সালের ৯ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন মিজানুর রহমান এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মিজানুর রহমান গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি জাতির সামনে স্বীকার করে নেন। তিনি তখন জানান, এনামুল বাছিরকে তিনি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। বিষয়টি দুদকের নোটিশে এলে শক্তিশালী একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির কাছে লিখিতভাবে এনামুল বাছির ঘুষের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

মামলার বাদী শেখ ফানাফিল্যা আদালতে বলেন, সরেজমিন অনুসন্ধানকালে দেখা যায়,মিজানুর রহমান ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি বাজারের ব্যাগে করে ২৫ লাখ টাকা এনামুল বাছিরকে দেওয়ার জন্য রমনা পার্কে মিলিত হন। আলোচনা শেষে রমনা পার্ক থেকে মিজানুরের গাড়িতে ওঠেন খন্দকার এনামুল বাছির। পরে গাড়িটি যখন শাহজাহানপুরে থামে,তখন মিজানুর রহমান ২৫ লাখ টাকা এনামুল বাছিরের হাতে তুলে দেন। পরে এনামুল বাছির গাড়ি থেকে নেমে বাসার দিকে রওনা হন। একইভাবে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি মিজানুর রহমান তাঁর আরদালি সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে উত্তরার বাসা থেকে রওনা হন। পরে রমনা পার্কে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন বাছির। তারপর মিজানুরের গাড়িতে উঠে শান্তিনগরে আসেন এনামুল বাছির। তখন মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন এনামুল বাছির। এ ছাড়া এনামুল বাছির মিজানের কাছে একটি গাড়ি দাবি করেন। আর গাড়ি দাবি করার বিষয়টি লিখিতভাবে দুদকের কাছে স্বীকারও করেন বাছির। মামলার বাদী শেখ মো. ফানাফিল্যা আদালতকে জানান, মিজান ও এনামুল বাছির বেআইনিভাবে অন্যের নামে দুটি সিম ব্যবহার করে নিজেরা খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতেন। একটি সিম কেনা হয় মিজানের বডিগার্ড হৃদয়ের নামে, আরেকটি সিম কেনা হয় মিজানের আরদালি সাদ্দামের নামে। মিজানের নির্দেশে একটি সিম এবং মোবাইল এনামুল বাছিরকে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে খুদে বার্তা আদান–-প্রদানের বিষয়টি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন (এনটিএমসি) মনিটরিং সেন্টারের ফরেনসিক কল রেকর্ডিং বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এভাবেই মিজানুর রহমান ও এনামুল বাছির ঘুষ লেনদেন করেছেন।

এর আগে ১৮ মার্চ খন্দকার এনামুল বাছির ও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ঘুষ লেনদেনের মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি মিজানুর রহমান ও এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর