1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

বাজেটে জীবন-জীবিকা রক্ষায় বহুমুখী পদক্ষেপ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

করোনার থাবা থেকে মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগ মানুষকে বিনামূল্যে টিকাদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাকরিপ্রার্থীদের সহায়তা সর্বোপরি কর ছাড়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাজেটে।

এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জীবন রক্ষা : করোনার কবল থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করোনার টিকা সংগ্রহের জন্য বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার (১২ হাজার ৬শ কোটি টাকা) ঋণ সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে টিকা কেনায় ৫০ কোটি ডলার ও অন্যান্য সহায়তা বাবদ ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার ঋণ পাওয়া যাবে।

এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক থেকে আরও টিকা ক্রয়ে ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার পেতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া টিকা কিনতে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক থেকেও ঋণ পাওয়া যাবে। আর টিকা কিনে মানুষকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। এ জন্য প্রতি মাসে ২৫ লাখ করে টিকা দেওয়া হবে। বেশির ভাগ মানুষ টিকার আওতায় এলে করোনা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

এছাড়া করোনার মোকাবিলায় সরকার স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক থেকে ৬০ কোটি ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার এবং এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার অর্থ পাচ্ছে। এসব অর্থে হাসপাতালের জন্য অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন, পিপিই, মাস্ক স্যানিটাইজার তৈরির শিল্প স্থাপন করা হবে। করোনা রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে নার্স ও ডাক্তারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

পিপিই, মাস্ক, স্যানিটাইজার তথা স্বাস্থ্য সামগ্রী তৈরিতে বাজেটে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পের কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ আমদানিতে কর ছাড় পাওয়া যাবে। এসব খাতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে জীবন রক্ষায় এসব পদক্ষেপ কাজে লাগবে।

মানুষকে বিজ্ঞানভিত্তিক জীবনযাত্রায় উৎসাহিত করতে এবারের বাজেটে প্রথম বারের মতো ‘সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল’ নামে একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এ অর্থে মানুষের বিজ্ঞানসম্মত জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়া বাজেট সহায়তা বাবদ সরকার আরও ২০০ কোটি ডলার বিদেশি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাচ্ছে। এসব অর্থে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

জীবিকা রক্ষা : মানুষের জীবিকা রক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। করোনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য সরকার ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। চলতি অর্থবছরে এগুলোর বেশি কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামী অর্থবছরেও প্রণোদনা প্যাকেজগুলো চালু থাকবে। কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য চাকরি প্রার্থীদের সহায়তা করতে সরকারি বেসরকারি (পিপিপি) উদ্যোগে ইন্টার্নশিপ চালু করা হবে। আগামী অর্থবছর থেকে এ কার্যক্রম চলবে। এ বিষয়ে একটি নীতি কাঠামো তৈরি করা হবে। এর আওতায় বেকারদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। ফলে তারা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।

কৃষি খাতের উৎপাদন বাড়াতে জিন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফলে কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়বে। ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে আরও ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে এ খাতে ১০ হাজার কর্মী কর্মরত আছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে সাড়ে ৮ লাখ কর্মীকে দক্ষ করা হবে। ১১টি খাতে ২৮টি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এসব কাজ করবে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কর্মসংস্থান তৈরি, সরবরাহ চেইনকে ঠিক রাখতে ১৩০টি গ্রোফ সেন্টার করা হবে। এর আওতায় গ্রামীণ হাটবাজারকে উন্নয়ন করা হবে। হাটবাজারের উন্নয়ন হলে ওইসব স্থানে মানুষের আত্মকর্মসংস্থান বাড়বে। বর্তমানে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প নগরী রয়েছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আলাদা নতুন চামড়া শিল্প নগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন অর্থবছরে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করা হবে। এগুলোতে সব ধরনের সুবিধা থাকবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, অফিস ইত্যাদি। এছাড়া ঢাকার চার পাশে চারটি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করা হবে।

বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়ায় বিনিয়োগ বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়লে কমসংস্থানও বাড়বে।

এ জাতীয় আরো খবর

বিজ্ঞাপন