1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

বাড়তি দামে কালোবাজারে টিসিবির পণ্য

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

ডিলারশিপ নিয়োগ ও বাতিলে কঠোর হয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। অনিয়ম করায় এবং পণ্য উত্তোলন না করায় গত তিন মাসে ৭০০টি প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রায় ১০০ জনের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম, কারচুপি ও কালোবাজারে বিক্রির দায়ে। এর আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি ডিলার বাতিল করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

টিসিবি সব সময় বাজারমূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমে পণ্য বিক্রি করে। বাজারে যখন বিভিন্ন কারণে তেল, চিনি, ডালের চাহিদা ও দাম বাড়ে, তখন টিসিবি তালিকাভুক্ত ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ অনেকটাই পণ্যমূল্যে স্বস্তি পায়। সরকার এসব পণ্যে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে ছাড়ে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ডিলার বাজারের অধিক চাহিদার সুযোগে টিসিবির পণ্য নির্ধারিত স্থানে বিক্রি না করে বাড়তি দামে কালোবাজারে বিক্রি করে দেন।

টিসিবির ডিলার নিয়োগ গাইডলাইনে ডিলারশিপ বাতিলের ১৬টি কারণ বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর শর্তটি হলো—বরাদ্দকৃত পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম, ওজন বা মূল্যে কারচুপি করলে অথবা পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করলে ডিলারশিপ বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এর পরও প্রায়ই ওজনে কম দেওয়া এবং পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনিয়ম হাতেনাতে ধরাও পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটা সময় ছিল, যখন বছরে মাত্র একবার পণ্য দেওয়া হতো ডিলারদের। সেটা হতো রমজান মাসে। তা-ও খুব ব্যাপকভাবে নয়। কমিশনও কিছুটা কম ছিল। ফলে নিয়ম-কানুনে অনেকটাই ছাড় দেওয়া হতো। এতে অনেক ডিলার অবহেলা করে দীর্ঘদিন পণ্য উত্তোলন করতেন না। অনেকে দুই বছর পণ্য না তুলেও ডিলার হিসেবে থেকে যেতেন। জামানতের পরিমাণ কম থাকায় একটা গাছাড়া ভাব ছিল পণ্য বিক্রিতে। অনিয়মও ছিল বেশি। কিন্তু এখন অনেক কিছুই বদলে গেছে। নানা প্রয়োজনে, বিভিন্ন উপলক্ষে বছরে তিন থেকে চারবার পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুই ঈদ ছাড়াও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পণ্য বিক্রি করা হয়। ফলে প্রায় সারা বছরই টিসিবির পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিলারদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। তাই নিয়ম-নীতিতেও কঠোরতা এসেছে। এতে ডিলারশিপ বাতিলও হচ্ছে বেশি।

টিসিবির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে গত মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত কুমিল্লায় ২২ জন, ময়ময়নসিংহে ১৪ জন, বগুড়ায় চারজন ঝিনাইদহে সাতজন এবং খুলনায় তিনজনের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে বিভিন্ন কারণে।

টিসিবির হিসাব বলছে, আগে রমজানে টিসিবির সর্বোচ্চ ট্রাক থাকত ১৮০টি। কার্যক্রম চলত ২০ থেকে ২৫ দিন। এখন তা অনেক বেড়েছে। সর্বশেষ গত বছর রমজানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়েছে ৩৮ দিন। দেশব্যাপী ট্রাকের সংখ্যা ছিল ৫২০। এ ক্ষেত্রে পণ্য বিক্রির আওতাও বেড়েছে। এখন জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলায়ও পণ্য বিক্রি হয়। অথচ এটি একসময় শুধু বিভাগীয় শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল। বেড়েছে ডিলারদের সুযোগও। বছর তিনেক আগেও ডিলাররা প্রতি কেজিতে দূরত্ব অনুসারে দোকানভাড়া পেতেন তিন থেকে পাঁচ টাকা। এখন চার থেকে ছয় টাকা। কমিশন ছিল প্রতি কেজিতে চার থেকে ছয় টাকা। এখন পাঁচ থেকে সাত টাকা।

নতুন গাইডলাইন অনুসারে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে জামানতের পরিমাণও দ্বিগুণ করে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। দুই বছরের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নম্বর শর্ত অনুসারে পর পর তিন কিস্তি পণ্য তুলতে ব্যর্থ হলে ডিলারশিপ বাতিল করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, জামানতের টাকা কম থাকলে ডিলারদের মধ্যে পণ্য উত্তোলনে একধরনের অবহেলা তৈরি হয়। এ ছাড়া পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ ডিলারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে তা বিগত বছরগুলোতে হয়নি। আবার প্রয়োজনের তাগিদে নিয়োগও দেওয়া হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ ডিলার। গত তিন মাসে ৭৫০ জন ডিলার নিয়োগ দিয়েছে টিসিবি।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর