1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

বিধিনিষেধ শুধুই নির্দেশনায়

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

‘আবারও করোনা আইস্যা গেছে, ওমিক্রন, ওমিক্রন। করোনা থেকে বাঁচতে চাইলে মাস্ক পরেন। আমার কাছে সস্তায় মাস্ক আছে।’ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশে এ বুলি আওড়েই ভ্যানে করে মাস্ক বিক্রি করছিলেন একজন। এর পাশেই নারায়ণগঞ্জগামী ‘উৎসব’ বাসের জন্য গায়ে গা মিশিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় করছেন যাত্রীরা। বেশিরভাগ মাস্ক ছাড়া। কারও আবার থুতনিতে রয়েছে মাস্ক। কেউ বা মাস্ক পকেটে রেখেছেন। একটু এগোলেই গুলিস্তান মার্কেটের উল্টো পাশে খাবার হোটেল। সেখানে চা-নাস্তা খেতে বসেছেন অনেকেই।

কিন্তু খাবার খেতে আসা এসব ভোক্তার কেউই করোনা টিকার সনদ বহন করেননি। হোটেল থেকে টিকা সনদ কারও কাছে চাওয়া হয়নি। আর আশপাশের বিপণিবিতানগুলোতে দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মানতে। বৃহস্পতিবার থেকে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। কিন্তু দেখা যায়, বিধিনিষেধ শুধু নির্দেশনাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

 

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে অবস্থা ফের ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে চার মাস পর আবার ৩ হাজারের ঘর পেরিয়ে গেছে। তিন মাস পর মৃত্যু বেড়ে পৌঁছেছে দুই অঙ্কের ঘরে। এমন পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১২ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীকে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে নাসহ ১১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

কিন্তু করোনার ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বাণিজ্য মেলা চলছে। চলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নতুন করে নির্বাচনের তফসিল না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সামাজিক, বিয়ে-শাদি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছে পুরোদমে। বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়ক, গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট সর্বত্র উপচে পড়া ভিড়। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার তৎপরতা নেই। অধিকাংশ মানুষই মাস্ক পরেন না। পাশাপাশি বর্ডার এলাকাগুলোতে নেই কোনো কড়াকড়ি। করোনা শনাক্তের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

 

বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো এলাকায় করোনার সংক্রমণ হার ১০ শতাংশের বেশি হলে সেটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’, ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে হলে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৫ শতাংশের নিচে হলে ‘স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। করোনায় ফের মহামারির ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ।

১১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধে বলা হয়েছিল- দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেঁস্তোরাসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীনের কথা বলা হয়েছে। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানাতে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। রেঁস্তোরায় বসে খাবার খেতে এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য করোনার টিকার সনদ দেখাতে হবে। ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকার সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

রাজধানীর শাহবাগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। বিধিনিষেধের প্রথম দিনে থুতনিতে বা পকেটে মাস্ক রাখায় ১১ জনকে জরিমানা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মাস্ক ছাড়া যাত্রী ও পথচারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি মুচলেকা দিয়ে ছাড়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধ বিবেচনায় সীমিত অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে কয়েকজনকে। অভিযানের প্রথম দিনে মুচলেকায় জোর দেওয়া হয়।

 

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. সঞ্জীব দাস বলেন, বাসের যাত্রীরা মাস্ক পরে চলছেন কি না তা দেখছি। এখনও অনেকে মাস্ক ছাড়া বের হচ্ছেন, কেউ মাস্ক পকেটে রাখছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। মৌখিকভাবে সতর্ক করা, মুচলেকা নেওয়া ও অপরাধ বিবেচনায় অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত শুরুর প্রথম ঘণ্টায় বেশ কয়েকজনকে সতর্ক করার পাশাপাশি পাঁচজনকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান সঞ্জীব দাস।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকার সনদ ছাড়া ১২ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থী ১ কোটি ১৬ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। তাদের মধ্য ৭৫ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী করোনার কোনো টিকা পায়নি। প্রায় ৪৪ লাখ প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছে। আর দুই ডোজ টিকা পেয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে ৪৮ লাখ ১৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী করোনার টিকা পেয়েছে। আর ৭৫ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী করোনার কোনো টিকা পায়নি। সোমবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা পেতে নিজেদের পরিচয়ের প্রমাণ দিলেই টিকা পাওয়া যাবে। ১২ জানুয়ারির মধ্যে যারা এক ডোজ টিকা নিয়েছে, তারা শুধু শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে আসবে। অন্যরা আপাতত অনলাইন বা টেলিভিশনে শিক্ষার কার্যক্রমে অংশ নেবে। সবার অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়া হলে তারপর থেকে তারা সশরীরে ক্লাস করতে পারবে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছি।

অন্যদিকে ১২ বছরের নিচের প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমিত পরিসরে আগের মতো শ্রেণি কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেছেন, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেছেন, করোনা সামাল দিতে সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু জনগণের সহযোগিতা দরকার। তিনি বলেন, সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে, কিন্তু এগুলো পালিত হচ্ছে কি না এ জন্য মনিটরিং ও সুপারভিশনের পরামর্শ দেন তিনি।

অধ্যাপক কামরুল বলেন, কেউ অমান্য করলে তাকে শাস্তি দিতে হবে। আর এ কাজে জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, টিকার সনদ নিয়ে রেস্টুরেন্টে যাওয়া শুরুর দিকে একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। আস্তে আস্তে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তবে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এটি আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, যারা টিকা নিচ্ছেন তাদের আমরা কাগজের একটি কার্ড দিচ্ছি যেটা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে। কার্ডটি নিজেদের কাছে রাখতে হবে। প্রমাণ হিসেবে কার্ডটি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর