1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:১৩ অপরাহ্ন

বিবিসিকে শেখ হাসিনা: নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় শুধু আওয়ামী লীগের সময়েই

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আমার সংগ্রাম করতে হয়েছে। কারণ আনুমানিক বিশবার বাংলাদেশে সামরিক শাসনের চেষ্টা হয়েছিল। প্রতিবারই রক্তক্ষয় হয়েছে। এদেশে কোনো গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। তিনি আরও বলেন, শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রোববার তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি পাঠাকের জন্য তুলে ধরা হলো-
বিবিসি : আপনার দেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। অনেক বাংলাদেশি নাগরিক যুক্তরাজ্যে আসেন, এখানে জীবনযাপন করেন। আপনার দেশে নিযুক্ত প্রয়াত রানির হাইকমিশনার আপনার সরকারের কাছে আগামী বছর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চেয়েছেন। আপনি কি নিরপেক্ষ নির্বাচনের অঙ্গীকার করবেন?
শেখ হাসিনা : দেখুন, আমাদের দেশ দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কিংবা গোপনেই হোক। ১৯৭৫ সালে যখন আমার বাবাকে হত্যা করা হয়, তিনি তখন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। আপনি জানেন, আমাদের পুরো পরিবার, মা, ভাইয়েরা ও তাদের স্ত্রীরা এবং অন্যান্য সদস্যসহ ১৮ জনকে হত্যা করা হয়। তখন থেকে পরের ২১ বছর পর্যন্ত কোনো না কোনো সময় আমাদের দেশে সামরিক শাসন ছিল। আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আমার সংগ্রাম করতে হয়েছে। কারণ আনুমানিক বিশবার বাংলাদেশে সামরিক শাসনের চেষ্টা হয়েছিল। প্রতিবারই রক্তক্ষয় হয়েছে। এদেশে কোনো গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না।
বিবিসি : জাতিসংঘ ও রানির কমিশনার আপনার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অঙ্গীকার করতে এবং গুমের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘ কথা বলেছে। আপনি কী বলবেন?
শেখ হাসিনা : অনেক মানুষই অভিযোগ তুলতে পারে। কিন্তু তা কতটুকু সত্য, তা আপনাকে বিচার করতে হবে। এর আগে কারও কোনো মন্তব্য করা উচিত না। কারণ আমি আপনাকে বলছি, সেনাশাসক দেশ শাসন করেছে। তারা রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল। তারা কখনো মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চায়নি। তারা সেনাবাহিনী, প্রশাসন ব্যবহার করেছে শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য। শুধু আওয়ামী লীগের সময় আপনি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে পাবেন।
বিবিসি : আমি পরিষ্কার শুনেছি, আপনি নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অঙ্গীকার করেছেন।
শেখ হাসিনা : অবশ্যই এটা আমার সংগ্রাম। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা আমার সংগ্রাম। বিবিসি : গুমের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, আপনি কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন? এ বিষয়ে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শেখ হাসিনা : আপনার দেশে বা অন্য দেশে কত মানুষ হারিয়ে যায় তা বিচার করতে পারেন? এই বিষয়ে আমি মনে করি, প্রথমে আমার এ বিষয়ে সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তারপর তারা অভিযোগ করতে পারে।
বিবিসি : রানিকে ঘিরে আপনার ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলো কী?
শেখ হাসিনা : তিনি যুক্তরাজ্যের রানি ছিলেন, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনি কমনওয়েলথেরও নেতা ছিলেন। তাই কমনওয়েলথের হিসাবেও তিনি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি সত্তর বছর ধরে সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন। তিনি শুধু রানিই ছিলেন না, তিনি মমতাময়ী মাসুলভ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। যখনই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, তখনই তা অনুভব করেছি। ১৯৬১ সালে তিনি যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সফর করেন,আমার তখন তাকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। আমরা তখন ছোট ছিলাম। আমরা বাবার অফিসে ছিলাম, কারণ আমরা জানতাম তিনি ওই রাস্তা দিয়ে যাবেন। আমাদের পুরো পরিবার জানালায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। হাতে বাইনোকুলার নিয়ে ছিলাম, যাতে আমরা তাকে ভালোভাবে দেখতে পারি।
আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিটি সফরে রানির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আমি সাতটি কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। কাজেই প্রতিবারই তার সঙ্গে দেখা ও সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। অলিম্পিক গেমসের সময় তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, আমি এসেছিলাম। সেটিও খুব ভালো একটা সুযোগ ছিল। আমরা দীর্ঘসময় আলোচনা করেছিলাম।
বিবিসি : কয়েক দশকে রানির সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে আপনার। যখন শিশু ছিলেন তখন বাবার অফিসে, এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এবং পরে অনেকগুলো কমনওয়েলথ সম্মেলনে, তিনি আপনার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন।
শেখ হাসিনা : তার স্মৃতিশক্তি ছিল চমৎকার। তিনি আমাকে না দেখতে পেলে খোঁজ নিতেন। হাসিনা কোথায়? আমি তো তাকে দেখতে পাচ্ছি না।
বিবিসি : কমনওয়েলথ আপনার কাছে ও বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
শেখ হাসিনা : আমরা একত্রে থাকলে অনেক সুযোগ তৈরি হয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় কিংবা নতুন আইডিয়া পাওয়া যায়। দেশ ও মানুষের জন্য ভালো কিছু করার সুযোগ তৈরি হয় কমনওয়েলথে। সুতরাং আমি মনে করি, কমনওয়েলথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে একা একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। পৃথিবীতে সবাই পরস্পর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর জন্য কমনওয়েলথের গুরুত্ব অনেক। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তাহলে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করতে পারব। কারণ এখানে উন্নত, উন্নয়নশীল, দরিদ্র সব ধরনের দেশই রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর