1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

বিয়ে করে বহু নারীকে বিদেশে বিক্রি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

এইচএসসি পাস করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন লিটন মিয়া। এরপর নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সেখান থেকে চাকরিচ্যুত হলে চলে যান ইরাকে। তিনি ইরাকের একটি হাসপাতালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন বলে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এ পরিচয়ে দেশে এসে বিয়ে করেছেন অন্তত ছয়টি।

বিয়ের পরই পর্যায়ক্রমে এসব নারীকে ইরাকে নিয়ে বিক্রি করে দিতেন। এখন পর্যন্ত ৩০-৪০ নারীসহ অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে পাচার করেছেন কথিত ডাক্তার লিটন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের বিয়ে প্রলোভনে এবং মেডিকেলে চাকরির প্রলোভন দেখিয়েই মানব পাচার করতেন তিনি। লিটনকে এ কাজে সার্বিকভাবে সহায়তা করতেন আজাদ।

শনিবার সকালে র‌্যাব-৪ ব্যাটালিয়নের অভিযানে লিটন ও আজাদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, বিয়ার, দেশি-বিদেশি জাল টাকা, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন সিল।

শনিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এই এলিট ফোর্সের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেফতার দুজন সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। বিশেষ করে বিউটি পার্লারে কাজ জানা নারী ও নার্সিং পেশায় নিয়োজিত নারীদের টার্গেট করে পাচার করতেন তারা। সেখানে সুপারশপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের পাচার করতেন। ইরাক, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে জিম্মি করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন। ওইসব দেশে তাদের একাধিক ‘সেফ হাউস’ রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী-পুরুষকে তারা পাচার করেছেন।

র‌্যাব মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে নারীদের বিক্রি করে দেওয়া হতো। চক্রের ১০ সদস্যের মধ্যে সাতজন ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে আর বাকিরা দেশে থেকে এ কাজ করছিল। তিন থেকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে এসব নারীকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হতো। মানব পাচারের প্রথম ধাপে ট্যুরিস্ট ভিসায় দুবাই, এরপর ভিজিট ভিসার মাধ্যমে ইরাকে নেওয়া হতো। চক্রটি কেবল ৩০-৪০ নারীসহ প্রায় ২৫০ জনকে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে।

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতরা ছাড়াও দুই ভুক্তভোগী নারী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভুক্তভোগী এক নারী ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, ‘বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া এক এজেন্সির মাধ্যমে ইরাকে গেলে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয় আমাদের। এ ছাড়া বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক কাজ করাতে বাধ্য করে ও মুক্তিপণ দাবি করতেন মানব পাচারকারীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে এক নারী বলেন, ‘যদি পারতাম তাহলে তখনি মেরে ফেলতাম, শাস্তি দিতাম; কিন্তু তা পারিনি। আমার এটুকুই চাওয়া, নারী পাচারকারী এই প্রতারকদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।’

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর