1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

বুড়িগঙ্গায় সাকারের রাজত্ব

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকার পাশ দিয়ে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গা নদী কালক্রমে বুড়িয়ে গেছে বেশ আগেই। ঢাকা শহরের জন্ম যে নদীকে ঘিরে, সেখানেই এখন নতুন এক আতঙ্ক ‘সাকার মাছ’। জাল ফেলতেই বুড়িগঙ্গায় একশো থেকে দুশোটি রাক্ষুসে সাকার ধরা পড়ছে। নদীর চারপাশে কিলবিল করছে ভয়ঙ্কর এই মাছ। রাতে মাঝিরা নৌকায় ঘুমাতে ভয় পাচ্ছেন। ভয়ঙ্কর এ মাছ ধীরে ধীরে নদীতে থাকা প্রায় সব মাছ খেয়ে সাবাড় করছে। ফলে অন্য প্রজাতির মাছের দেখা মিলছে না। এমন সঙ্কটে অনেক জেলে মাছ ধরা বন্ধ করে হাত গুটিয়ে বসেছেন।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, সাকার মাছ দেশের জলাশয়ের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাই এই মাছ নিধন করা অতি জরুরি।

সোমবার সরেজমিন পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন সদরঘাট, ওয়াইজঘাট, বাবুবাজার, বাদামতলীর ঘাট, শ্যামবাজার, তেলঘাটসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, নদীর কোলঘেঁষে থাকা কচুরিপানার নিচের কালো কালো পানিতে সাকার মাছের ব্যাপক উপস্থিতি। স্থানীয়রা এটাকে চগবগে বা চেগবেগাইয়া মাছ বলে চিনে থাকেন। চিরচেনা এই বুড়িগঙ্গায় পানি বাড়লে জালে শিং, টেংরা, মাগুর, পুঁটিসহ দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ ধরা দিত; কিন্তু এখন সেখানে শুধু সাকারের রাজত্ব।

সদরঘাট এলাকার শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কাছেই এটি দুর্গন্ধ আর খাওয়ার অনুপযোগী মাছ। ‘সাকার মাছ’ অ্যাকুয়ারিয়ামের শোভাবর্ধক মাছ। আগ্রাসী এই বিদেশি মাছ বর্তমানে দেশের উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। এর পুরো নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকোসটোমাস।

সাকার মাছের উৎপাতে জেলেদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বাঙালির চারশ বছরের ঐতিহ্য বুড়িগঙ্গা নদীকে জীবনের সঙ্গী করে নিয়েছেন অনেক জেলে। কেউ কেউ ৫০ বছর ধরেও এখানে রয়েছেন। তাদের একজন রুহুজ্জেল এলাহি। তিনি বলেন, ‘আগে অনেক মাছ ধরিচি এইখানে। এহন তো সেসব দিন চোখে ভাসে। কত ময়লা-মাটি চোকখে দেখছি। এহন আবার চেগবাচেগবেগাইয়া মাছের দেহা পাইচি। জাল ফেললেই কালা কালা মাছ।’

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীতীরে মাছ ধরে বছরপাঁচেক যাবৎ সংসার চালাচ্ছেন মো. সফিক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চগবগে মাছ তো খাইবার পারি না। ধইরা কী করমুু? জাল ফালাইয়া লাভ নাই। বিপদে পড়ছি! আগে জাল ফালাইলেই মাছ দেখতে পেতাম। এহন ছোডো পুঁটিও পাই না।’

সাকার মাছের জন্য রাতেও বিপদ বাড়ে মাঝিদের। এ প্রতিবেদককে গফুর মাঝি বলেন, ‘রাতে নৌকার উপ্রে ঘুমাইতে পারতেছি না। রাতে ঘুমাইতে গেলে চেগবেগাইয়া মাছ উলাস দেয়। পানি ছিটাই দেয় ল্যাজ দিয়া। আমাদের মসর ভিজাই ফ্যালায়। মাঝিগো অনেক ক্ষতি করতেয়াচে এই মাছ। আমরা আর থাকতে পারতে আচিনা এই অবস্থায়।’

৪০ বছর ধরে বাদামতলীর বাজারে থাকেন কালাম মিয়া। আগে কখনও এই চেগবেগাইয়া মাছ চোখে পড়েনি। তিনি জানান, শুধু দুবছর ধরে এই মাছ চোখে পড়ছে। গেল বছর কিছুটা কম ছিল। তবে এবার অনেক বেশি। তাদের দাবি, দ্রুত এ মাছ নিধন করে সমস্যার সমাধান করা হোক। নয়তো বুড়িগঙ্গার প্রাণপ্রকৃতি টিকবে না। গোসলে নামতেও গা শিরশির করে বলে জানান তিনি।

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক নদীতে সাকার মাছ পাওয়া যায়। এখন বুড়িগঙ্গায় এত পরিমাণে দূষণ হচ্ছে, যাতে কোনো মাছেরই বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। সাকার মাছগুলো শুকনো মাটিতেও টিকতে পারে। এদের জীবনীশক্তি অনেক বেশি। তাই বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে। নগর সভ্যতায় প্রায় সবাই অ্যাকুয়ারিয়াম ঘরে রাখেন। পরে একটা সময় যতœ করে রাখা সাকার মাছটি হয়তো নদীতে ফেলে দেন। সেখান থেকেও ছড়িয়ে পড়ছে রাক্ষুসে প্রজাতির এ মাছটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) ড. মো. খলিলুর রহমান বলেন, বহু বছর আগে গুলশানের এক জলাশয়ে একজন বিদেশি নাগরিক এই সাকার ফিশ ছেড়ে দেন। পরবর্তী সময়ে এটা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে আমরা ধারণা করি। এ মাছ মানুষ চাইলে খেতেও পারবে। তবে অত্যন্ত দুর্গন্ধ থাকার কারণে কেউই এটা খায় না।

বুড়িগঙ্গার পানিতে সাকারের কথা টেনে তিনি বলেন, সাকার ফিশ পচা পানিতে বেঁচে থাকতে পারে। তাই বুড়িগঙ্গায় সহজে বংশবৃদ্ধি করতে পেরেছে। আবর্জনা আর ছোট মাছ খেয়ে থাকে সাকার। তাই বুড়িগঙ্গা তথা দেশের জলাশয়ে থাকা মাছের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে নদী তথা জলাশয়ের একেবারে নিচে থাকা মাছগুলোর জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। তাই সাকার মাছ নিধন করা অতি জরুরি।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, বুড়িগঙ্গায় সাকার মাছের বিষয়টি আমরা আমলে নিয়েছি। ক্ষতিয়ে দেখছি। যদিও বুড়িগঙ্গা পুরোটা আমাদের দখলে না।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর