1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

ভক্তকে লেখা সালমান শাহর সেই চিঠি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

মোবাইলের অপর প্রান্তে প্রোপেনের গলা ভারী হয়ে আসে। কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এখনো সালমান শাহর কোনো মুভি কিংবা গান দেখতে পারি না। দেখলে আমার অস্বস্তি লাগে। অস্বস্তি না, আসলে এত কষ্ট হয়, বলে বোঝাতে পারব না। অডিও গান শুনি, ভিডিও গানও দেখি না। সে মুভি যতই ভালো হোক, সবাই মিলে দেখলেও আমি দেখতে পারি না, কষ্ট হয়।’

নব্বইয়ের দশক। সিলেটের এক ছেলে বাংলা ছবিতে এসে একেবারেই ‘নায়ক’-এর সংজ্ঞা পাল্টে দিলেন। মূলত নায়ক নয়, তিনি হয়ে উঠলেন সেই সময়ে তারুণ্যের আইডল। শুধু কী সেই সময়? আজও নয় কি! তা না হলে প্রোপেনের গলা কেন ভারী হয়ে আসে। তরুণ-তরুণীরা ‘নায়ক’ বলতেই কেন এক কথায় হইহই করে ওঠেন তাঁকে নিয়ে। এ ভারী জাদুকরি ব্যাপার। এই জাদুকর ছিলেন সালমান শাহ।

ক্যারিয়ারটা নিতান্তই ছোট। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে শুরু। জ্বলে উঠেছিলেন প্রথম ছবিতেই। কিন্তু ১৯৯৬ সালের এই দিনে চলে যান ভুবন ছেড়ে। মোটে তিন বছর। যাকে বলা যায় ক্ষণিক জীবন। এই ক্ষণিক জীবনই মানুষের হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছিলেন তার স্মার্টনেস, ব্যক্তিত্ব আর অভিনয় দিয়ে।

যাদের কাছে প্রশ্ন উঠেছে সালমান শাহ প্রসঙ্গে প্রোপেন কেন? তাদের বলি, মৃত্যুর ২৬ বছর পরেও সালমান শাহর ভক্তসংখ্যা যেন বেড়েই চলছে। তাকে নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সালমানের পাঁড় ভক্তদের আয়োজন দেখে এ আঁচ করা যায় অনায়াসে। প্রোপেন সেই পাঁড় ভক্তদের একজন। শুধু তাই নয়, প্রোপেন সেই ভাগ্যবতীদেরও একজন যে পাঁচ বোনকে সালমান শাহ নিজ হাতে চিঠি লিখেছিলেন। প্রোপেনের ভাষ্য, সম্ভবত ভক্তের কাছে নিজ হাতে লেখা এটাই সালমান শাহর একমাত্র চিঠি।

‘চিঠিটা পাই ১৯৯৫ সালের ৮ মার্চ। তখন ছোট ছিলাম। আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে যা হয়, সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময় আমাদের ফুপা ছিলেন এফডিসির কর্মকর্তা। ফুপিকে চিঠিটা লিখে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। প্রথমবার ফুপু যখন আসেন উত্তর আসেনি। পরেরবার ফুপি এলে রিকশা থেকে নামার আগেই বলল, তোমাদের জন্য একটা সুখবর আছে। আমরা বুঝতে পারলাম। ফুপির দিকে না তাকিয়ে তার ব্যাগ নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিলাম। কারণ ব্যাগটাই ছিল আমাদের মূল আকর্ষণ। এখনো গা কাঁপে সে কথা মনে হলে। এত খুশির একটা ব্যাপার ছিল।’

বলে রাখা ভালো, ইথেন, মিথেন, প্রোপেন, সোয়েন ও আপনরা পাঁচ বোন। সালমান শাহ বড় বোন ইথেনের নামে এই পাঁচ বোনকে নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। প্রোপেন জানান, চিঠিটা থাকত মিথেনের কাছে। মিথেনের যখন বিয়ে হয়ে যায়, তখন সেটা নিয়ে নেন তারই পরের বোন প্রোপেন। তার কথা, ‘ওর যখন বিয়ে হয়ে গেল, তখন বললাম চিঠিটা আমাদের সবার সম্পত্তি একা তুই নিয়ে যেতে পারবি না। ওই সময় চিঠিটা রেখে গেল। আমি চিঠিটা লেমিনেটিং করলাম। পরে একটা স্ট্যান্ড কিনে রেখে দিলাম। সালমান শাহর একটা ছবিও দিয়েছিল। এত সুন্দর একটা ছবি। ছবিটা সব সময় আমার সঙ্গে থাকত। কে যেন ছবিটা চুরি করল। এটাও আমার একটা কষ্ট। আসলে মানুষ মরে গেলেই মরে যায় না। আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকে। দিন যত যাবে সালমান শাহর প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়বে।’

কথা হয় মিথেনের সঙ্গেও। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা খন্দকার সুমনের স্ত্রী। মোবাইলে স্মৃতিচারণায় উঠে এল সেই সময়ের কথা। বললেন, ‘আসলে সেই সময়ের আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। চিঠিটা আমার বড় বোনকে মেনশন করে লিখেছিল। সালমান শাহকে নিয়ে খুব মজার একটা স্মৃতিও আছে। তখন আমরা গাইবান্ধায় খুব ছোট একটা শহরে থাকতাম। ক্লাস এইটে পড়ি। এর আগে আব্বুকে সিনেমার দেখার কথা কখনোই বলিনি। এবার বললাম সিনেমা দেখব। বলল, আচ্ছা দেখা যাবে। কিন্তু যেদিন লাস্ট ডেট সেদিনও তিনি আমাদের টিকিট এনে দেননি, সিনেমা হলেও নিয়ে যাননি। ওই সময় পাশের বাসার ফুপির সঙ্গে আব্বুকে না বলেই সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। পরে বাসায় এসে দেখি আমাদের সব বিছানাপত্র ঘরের বাইরে!’

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দেখার এই অভিজ্ঞতা বলে দেয়, সেই সময়ের তরুণরা কতটা পাগল ছিলেন সালমান শাহর জন্য। মিথেন জানান, তার কাছে হাজারের ওপর ভিউকার্ড ছিল প্রিয় নায়কের। পোস্টার ছিল ৩০০ থেকে ৪০০।

ওই চিঠির সঙ্গে অটোগ্রাফসহ পাসপোর্ট সাইজের একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন সালমান শাহ। সঙ্গে ছিল দুটো রঙিন চিরকুট। একটাতে ইংরেজিতে লেখা শুভেচ্ছা বার্তা, আরেকটিতে দিয়েছিলেন চিঠি পাঠানোর ঠিকানা।

১৯৯৫ সালে ইথেনরা পাঁচ বোন এলে সালমান খানের চিঠি পাননি, পেয়েছিলেন একমুঠো ভালোবাসা। ঠিক যেন প্রেমিকের প্রথম চিঠি, হৈমন্তী শুক্লার গাওয়া গানের মতো ‘সেই চিঠি খুঁজে পেলাম পাকা হাতে সেই লেখা’।

স্নেহের ইথেন,

আমার অনেক ভালোবাসা ও স্নেহাশীষ নিও। তোমার চিঠি অনেক আগেই পেয়েছি। কিন্তু অসম্ভব ব্যস্ততার কারণে উত্তর দিতে সামান্য দেরি হয়েছে বলে আমি দুঃখিত। মাসুম ভাইয়ের কাছে তোমার কথা অনেক শুনেছি। তোমার মতো একজন ভক্ত আমার আছে জেনে সত্যি খুব আনন্দ পাই এবং মনে মনে খুব গর্বও বোধ করি। তোমাদের মতো অসংখ্য ভক্তদের ভালোবাসাই আমার কাজের প্রেরণা। তোমাদের এই ভালোবাসা আমৃত্যু আমার সঙ্গে থাকে। এই দোয়াই বিধাতার কাছে করি।

ব্যস্ততার কারণে অতি সংক্ষেপে চিঠিটা শেষ করতে হচ্ছে বলে আবারও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ভবিষ্যতে আবারও চিঠি লেখার আমন্ত্রণ রইল।

ইতি

সালমান শাহ

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর