1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

ভাস্কর্য বিরোধিতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ মামুনুল হক ও বাবুনগরীদের গ্রেপ্তার দাবি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮৯ বার পড়া হয়েছে

ভাস্কর্যবিরোধী অবস্থান নেয়ায় হেফাজতে ইসলামের আমীর বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, চরমোনাই পীর মাওলানা সৈয়দ মো. রেজাউল করিমের গ্রেপ্তার দাবি করেছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াত, হেফাজতের মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক-সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে এই কমিটি। গতকাল বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে ‘স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ধৃষ্টতার প্রতিবাদে’ এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন থেকে এই দাবি করা হয়। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃত্বে এতে অংশ নেয় ৬০টি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ সময় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক সংক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ’ সাত দফা দাবি উত্থাপন করে। বিক্ষোভ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত শিখা চিরন্তনে একাত্তরের শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে নাগরিক সমাজ।

এ সময় ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মীয় সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা করা হয়। এর আগে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এবং সংবিধানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি একের পর এক যে ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ হুমকি প্রদান করছে আমরা তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি- বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন এই মহান বিশ্বনেতার ভাস্কর্য স্থাপন করা হচ্ছে, তখন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত হেফাজত-খেলাফতের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক নেতারা ওয়াজের নামে বড় বড় সমাবেশ করে ঘোষণা দিচ্ছেন বাংলাদেশে কোথাও তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করতে দেবেন না এবং ইতিমধ্যে স্থাপিত ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবেন। তাদের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ হুমকি জাতির পিতা, দেশের সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ সময় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে মূল্যবোধের ভিত্তিতে আমরা ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছি, সে বাংলাদেশকে আমরা কখনো সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেবো না। আমরা আমাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর নেতা মামুনুল হক, বাবুনগরীদের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো। তিনি বলেন, ভাস্কর্য আর মূর্তি এক জিনিস নয়। পৃথিবীর মুসলিম প্রধান সব দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে। কেউ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয়ার দুঃসাহস দেখালে তা আমরা প্রতিরোধ করবো। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, কিছু ধর্মান্ধ, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একাত্তরে যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম সে দেশে একাত্তরের দালালেরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে দেয়া ও গুঁড়িয়ে দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে তার বিরুদ্ধে আজকের এ বিক্ষোভ। ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন তা এ দেশের কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতাকে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আজকে যারা আস্ফালন করে, মৌলবাদী বক্তব্য রাখে, জাতির পিতার প্রতি কটূক্তি করে তারা হয়তো ভুলে গেছে, বাঙালি জাতি এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে এই বাংলাদেশে এখনো জীবিত আছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখবো ইনশাআল্লাহ। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি অবিলম্বে এ দুষ্কৃতিকারী ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি বলেন, ভাস্কর্য আর পূজা করার মূর্তি এক জিনিস না। তুরস্ক, পাকিস্তান, লিবিয়া, ইরাকে ভাস্কর্য আছে। সারা বিশ্বে যত জাতির পিতা রয়েছে সবার ভাস্কর্য রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, যারা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে বলছে, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে বিনষ্ট করা। সেটা তারা কখনো পারবে না। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সংবিধান একই সূত্রে গাঁথা। সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো মামুনুল হক, বাবুনগরীসহ অন্যান্য ধর্ম ব্যবসায়ী যারা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি তাদের গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হোক। কারণ তারা বঙ্গবন্ধু ও সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলছে। যেটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। সমাবেশে নাগরিক সমাজের পক্ষে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে জাতির পিতা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অবমাননাকারী মামুনুল-বাবুনগরী গংকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং করোনা মহামারি কালে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনকারী সবরকম সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার জন্য এবং ধর্মের নামে যাবতীয় হত্যা ও সন্ত্রাস বন্ধের উদ্দেশ্যে সংবিধানে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী তার সহযোগীরা ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। অবিলম্বে বাংলাদেশ জামায়াত-হেফাজতের মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক-সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিল ও খুতবার নামে ভিন্নধর্ম, ভিন্নমত, নারী এবং ভিন্ন জীবনধারায় বিশ্বাসীদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচারকারী ও হুমকি প্রদানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা এবং জাতির পিতার জীবন ও দর্শন পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা অস্বীকারকারীদের শাস্তির জন্য কার্যকর আইন দ্রুত পাস করতে হবে এবং ১লা ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের ঘোষণা দিতে হবে। অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষানীতি, নারীনীতি, সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ, জাতি, সংবিধান এবং জাতির পিতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গারকারীদের কঠোর শান্তি প্রদান করার দাবি জানান তারা।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এসোসিয়েশন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রজন্ম ‘৭১, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, ইতিহাস সম্মিলনী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), জাতীয় যুব জোট, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কেন্দ্র, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ, ৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ), বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম, গৌরব ’৭১, অপরাজেয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, কর্মজীবী নারী, জাতীয় নারী জোট, নারী মুক্তি সংসদ, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ (বাংলাদেশ চাপ্টার), জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা, সেক্যুলার ইউনিটি বাংলাদেশ, ইউথ ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঘাসফুল শিশু কিশোর সংগঠন, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর