1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

মরনফাদে পুরান ঢাকার ৪৪ এলাকা!!!

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: মরনফাদে বসবাস পুরান ঢাকার ৪৪টি এলাকা। অগ্নিকান্ডের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে এই ৪৪টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকাজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন হাজার ৫০০টি রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ ও বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের গুদাম,কারখানা নানারকম দোকান রয়েছে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এক হাজার ৩০১টি। সম্প্রতি পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনের আড়ালে দাহ্য পদার্থের মজুদ ও কারবার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সংস্থা মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। সেখানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পুরান ঢাকা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক এলাকা। এখানকার প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৭ হাজার লোক বসবাস করে। অগ্নিকান্ডে মৃত্যু ও সম্পদহানি সেখানে প্রায়ই ঘটছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ,অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও সরকারের সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবিড় তদারকির ঘাটতির কারণে ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। নিমতলী ট্র্যাজেডির প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও রাসায়নিক কারখানা স্থানান্তরে ধীরগতি সরকারের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের আটটি থানার অন্তর্ভুক্ত পুরান ঢাকা। সেগুলো হলো-চকবাজার, লালবাগ, বংশাল, হাজারীবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া। বড় ট্রাজেডি হয় গত ২০১০ সালে নিমতলী এলাকায়। এই ট্র্যাজেডিতে ১২৪ জন, ২০১৯ সালে চুড়িহাট্টায় ৭১ জন এবং চলতি বছর আরমানিটোলায় আগুনে চারজনের মৃত্যু হয়। পুরান ঢাকার মধ্যে যেসব এলাকা অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক মজুদ রয়েছে তা হলো-ইসলামবাগ, ওয়াটার-ওয়ার্কস রোড, হাজী বাল্লু রোড, হরনাথ ঘোষ রোড, আজগর লেন, গৌরী সুন্দর লেন, খাজা দেওয়ান লেন, জয়নাগ রোড, কমল দাশ রোড, বকশীবাজার লেন, তাঁতী বাজার রোড, নাজিমুদ্দীন রোড, শহীদনগর, আর এন ডি রোড, মনসুরবাগ, সিরাজনগর, মুন্সিরহাট, নয়াগাঁও, আশরাফাবাদ, রহমতবাগ, বাগচানখাঁলেন, নিজামবাগ, জঙ্গলবাড়ি, নূরবাগ, দুখুরিয়া, মমিনবাগ, হুজুরপাড়া, আলীনগর, ইসলামনগর, গজমহল, সনাতনগড়, মনেশ্বর রোড, লালবাগ রোড, আজিমপুর রোড, রাজা শ্রীনাথ স্ট্রিট, আতশখানা রোড, আগা নবাব দেউড়ী, মৌলভীবাজার, আরমানিটোলা, বেচারাম দেউড়ী, মিটফোর্ড ও শুভল দাস রোড। প্রতিবেদনে পুরান ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় রাসায়নিক ও এর কাঁচামালের মুজদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। অতি ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ও বিস্ফোরকের তালিকায় রাখাহয়-টলুইন, ইথাইলঅ্যাসিটেট, পলি-প্রোপাইলিন, রাবার সলিউশন, এলপিজি, ন্যাচারালডি-ওপিগ্যাস।এসব দ্রব্য মিটফোর্ড,চকবাজার,আরমানিটোলা ও ইসলামবাগকেন্দ্রিক। সেখানে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এসব রাসায়নিকের গুদাম বা দোকান আছে এক হাজার ৩০১টি। মধ্যম ঝুঁকির রাসায়নিক বা বিস্ম্ফোরকের তালিকায় আছে পারফিউমারি, পলিদানা, থিনার, কস্টিক সোডা, লিকুইড পারমিন, প্রোপেন, তারপিন, মেশিন অয়েল, সোডিয়াম সালফেট, বরিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড, বিভিন্ন কালার ফ্লেভার, কেরোসিন ও ডিজেল। কম ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ও বিস্ফোরকের মধ্যে আছে-রেজিনপ্লাস্টিক, গাম, লিকুইডআঠা, রংকেমিক্যাল, ডিটারজেন্ট, ওয়াসিং এজেন্ট, গিøসারিন, মনোপিস্টার ও মিথিলিন। প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ হিসেবে বলা হয়, পুরান ঢাকায় যেসব ভবনে বিস্ফোরক ও রাসায়নিকের মজুদ রয়েছে, তার অধিকাংশ পুরোনো ও ঘিঞ্জি ভবনে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য পানির ব্যবস্থাও অপ্রতুল। আবার ধারণক্ষমতার পাঁচ-ছয় গুণ রাসায়নিক উপাদান সেখানে মজুদ করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ দাহ্য পদার্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। অধিকাংশ ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ডে রাসায়নিকের গুদাম। কেমিক্যাল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট অধিকাংশের কেমিক্যাল মজুদ, সংগ্রহ, বিপণন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেই। নীতিমালা অনুসারে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ মজুদাগার ও দোকানের চারপাশে অন্তত ২২ ফুট ফাঁকা রেখে ১০০ মিটারের মধ্যে স্থায়ী স্থাপনার চিত্র, মজুদাগারের অবস্থান ও নকশা তৈরি করে বিস্ফোরক পরিদপ্তরে জমা দিতে হয়। তবে বাস্তবে এসব নীতিমালা না মেনেই পুরান ঢাকার আবাসিক ভবন ঘিরে যুগ যুগ ধরে কেমিক্যাল ব্যবসা চলে আসছে। আবার বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিকেল। বট পলিশ বা উড পলিশের নামে ছাড়পত্র নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বিস্ম্ফোরক ও দাহ্য কেমিক্যাল বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের মূল্যমান কাঁচামাল হিসেবে আমদানি হচ্ছে। এ ছাড়া কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে ১৫টি শর্ত পূরণের বিধান আছে। কোনো শর্ত পূরণ না করেই কেবল সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সের ওপর ভিত্তি করে পুরান ঢাকার রাসায়নিকের ব্যবসা চলছে। রাজউক,ঢাকা সিটি করপোরেশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তর এবং ঢাকা ওয়াসার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের। তবে তারা আইন প্রয়োগ বা নিয়মিত তদারকি করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কেমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা পুরান ঢাকায় আবাসিক ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক বা রাসায়নিকের দাহ্য পদার্থের ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ওই এলাকার অধিকাংশ ভবন মালিক আবাসিক হিসেবে ভাড়ার বদলে লাভজনক হওয়ায় গুদাম ভাড়া দিচ্ছেন। এলাকার অনেক কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর আশঙ্কা, মুন্সীগঞ্জের কেমিক্যাল পল্লিতে ব্যবসা স্থানান্তর করলে তারা মার খাবেন। পরিবহন খরচ ও ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। আবার ব্যবসায়িক সমিতিগুলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করে গুদাম স্থানান্তরে বিলম্বিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়। তা হলো-আবাসিক ভবন থেকে রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম দ্রæত সরকার নির্ধারিত নিরাপদ স্থাপনে সরানো। বিসিক কেমিক্যাল পল্লি স্থাপনের কাজ দ্রæত সম্পন্ন করা। অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থা করা। রাসায়নিক কাঁচামাল উৎপাদন, বিপণন, গুদামজাতকরণের নীতিমালা প্রণয়ন। ছাড়পত্রে আড়ালে যাতে অন্য কেমিক্যাল না আসে সে ব্যাপারে তদারকি। মুন্সীগঞ্জের প্রস্তাবিত কেমিক্যাল পল্লিতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং ওয়াসার লাইনে ফায়ার সার্ভিসের জন্য ওয়াটার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট রাখা। নিয়মিত বিরতিতে অগ্নি মহড়ার ব্যবস্থা। পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত কেমিক্যাল কারখানা ও গুদাম পরিদর্শন। গুদামের অতিরিক্ত কোনো কেমিক্যাল মজুদ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা। অবৈধ ও ভিন্ন ট্রেড লাইসেন্সের আড়ালে বেআইনিভাবে কেমিক্যাল ব্যবসায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। আগে সংঘটিত প্রতি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিপ্রদান। দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত ট্রান্সফরমার পরীক্ষা। তবে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে রাসায়নিক তরলপদার্থ রাখার জন্য গোডাউন ভাড়া দেয়া বা রাখা বন্ধ করতে হবে। তা নাহলে মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে রোধ করা কঠিন হবে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর

বিজ্ঞাপন