1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০১ অপরাহ্ন

মাদক কর্মকর্তার পোস্টিং পদোন্নতিতে ঘুস বাণিজ্য

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিক্স) কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পোস্টিং দিতে ঘুস বাণিজ্য করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের দুজন পদস্থ কর্মকর্তা। তবে তারা সরাসরি ঘুস লেনদেন না করে দপ্তরের পিওকে ঘুস লেনদেনের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। মাদকের দুজন কর্মকর্তা এক রকম বাধ্য হয়ে প্রথমে ঘুস দিয়ে পদোন্নতি নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত স্থানে পোস্টিং নিতে আবারো ঘুষ দিতে বাধ্য হন। ঘুস লেনদেন সংক্রান্ত ফোনালাপ ও মেসেজ বিনিময় হয় হোয়াটসআপে। যার কিছু ডকুমেন্টসহ এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও রেকর্ড সম্প্রতি যুগান্তরের হাতে আসে। যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘুস লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত বলে দাবি করেছে দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র।

এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে নারকোটিক্স ডিজিকে চিঠি দিয়েছে দুদক। গত ২৮ অক্টোবর দুদকের মহাপরিচালক একেএম সোহেল স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়, ‘বেশ কয়েকজন পরিদর্শক, উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের টাকা ঘুস দিয়ে পছন্দমতো জায়গায় বদলির জন্য তদ্বিরের অভিযোগ রয়েছে।’ ঘুস গ্রহণে বেপরোয়া ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের অধিকারী এসব কর্মকর্তাদের নাম তালিকাভুক্ত করে গোপনীয়ভাবে বিশেষ বাহকের মাধ্যমে পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়।

সূত্র জানায়, নারকোটিক্সে পোস্টিং বাণিজ্যের মাধ্যমে ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগ বেশ পুরনো। ঘুস লেনদেনের অবারিত সুযোগ রয়েছে এমন সব পদে পোস্টিং নিতে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা মরিয়া হয়ে মাঠে নামে। প্রাইজপোস্টিং নিতে তারা ঘাটে ঘাটে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালতে দ্বিধাবোধ করে না। সম্প্রতি অতিরিক্ত পরিচালকের কয়েকটি পদে পদোন্নতি ও পোস্টিং দিতে মোটা অংকের ঘুস লেনদেন হয়। পদোন্নতি দিতে ২০ লাখ এবং পদোন্নতির পর পোস্টিং দিতে আরও নেওয়া হয় ২০ লাখ টাকা করে। যদিও ঘুসের রেট হাঁকা হয়েছিল কয়েকগুণ বেশি। এ নিয়ে দরকষাকষির কারণে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি বা ডিপিসির মিটিং কয়েকদফা পিছিয়ে যায়।

এদিকে পদোন্নতি ও পোস্টিং নিতে ঘুস বাণিজ্যের স্বীকার ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘুসের টাকা না দিলে তাদের পদোন্নতির ফাইল আটকে থাকে। এক পর্যায়ে কয়েক দফায় ২০ লাখ টাকা পরিশোধের পর এ সংক্রান্ত ফাইল নড়াচড়া শুরু হয়। সচিবালয়ের বাইরে ২, ৫ এবং ১০ লাখ করে মোটা ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সচিবালয়ের বাইরে এসে টাকা বুঝে নেন। তবে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা (পিও) আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। না দিলে পদোন্নতির জিও হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।’

নারকোটিক্সের একজন অতিরিক্ত পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, আলী আসলাম নামের একজন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক পদে পোস্টিং দেওয়া হয়। কিন্তু একটি ইয়াবা মামলার তদন্তে আদালত তাকে শোকজ করেন এবং ভবিষ্যতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে পদায়ন না করার আদেশ দেন। কিন্তু ২৫ মার্চ এক আদেশে মাদকের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক হিসাবে তাকেই পদায়ন করা হয়। আলী আসলাম ছাড়াও আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদায়নের ক্ষেত্রে নারকোটিক্সের প্রস্তাবনা আমলে নেওয়া হয়নি। অপরদিকে সিলেট অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে লাইসেন্সিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের বিস্তর অভিযোগ জমা পড়লেও তাকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। সূত্র বলছে, নারকোটিক্সের পরতে পরতে ঘুসের রেট বাঁধা। লাইসেন্স ইস্যু, হস্তান্তর, নাম পরিবর্তন, মালিকানা পরিবর্তন এবং ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনে টেবিল থেকে টেবিলে ঘুস ছাড়া কাজ হয় না।

এমনকি হাসপাতাল ক্লিনিকের জন্য ব্যথানাশক ইনজেকশনের লাইসেন্স অনুমোদনেও ঘুস আদায়ের অভিযোগ আছে। এছাড়া কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদকবিরোধী অভিযান বাদ দিয়ে ডিবি পুলিশের মতো সাদা পোশাকে ভাড়া করা গাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান। যাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণবার এবং হুন্ডির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন সিপাহি এবং এএসআইকে এ ধরনের অবৈধ তৎপরতার সঙ্গে জড়িত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, নারকোটিক্সের অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকলেও অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুস বাণিজ্য থেমে নেই। অবৈধ আয়ের অবারিত সুযোগ রয়েছে এমন জায়গায় পোস্টিং পেতে দুর্নীতিবাজরা এখনও মরিয়া। চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে একজন সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। ঢাকা মেট্রোর এলাকাভিত্তিক ঘুসের সমান ভাগাভাগি নিয়ে একজন উপ-পরিচালক সহকর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো দেনদরবার শুরু করে দিয়েছেন। এছাড়া ভিআইপি তদ্বিরের কারণে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের যথাযথ জায়গায় পোস্টিং দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার দুদকের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর