1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

মেজর মান্নান ও স্ত্রীকে তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৬৪০ কোটি টাকা বের করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় বুধবার তাকে ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান-বিআইএফসির অনিয়ম-দুর্নীতিতে কারা কারা জড়িত তা শনাক্তে দুটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে একটি তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তদন্ত করছে, অপর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইতোমধ্যে শতাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিটি। মেজর (অব.) মান্নান ও তার স্ত্রী ছাড়াও এর আগে (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, এসএম মনিরুজ্জামান, সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই কমিটি।

জানতে চাইলে বিআইএফসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম আশফাকুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে কোম্পানি। এর প্রায় পুরোটাই মন্দমানের খেলাপি। এসব ঋণ আদায়ের জন্য প্রায় ৩০০ মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঋণ ৬৪০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৭৬ দশমিক ০১ শতাংশ। তবে বর্তমানে তা সুদে-আসলে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার বেশি। এসব ঋণ আদায়ের জন্য তার নামে ২৭টি মামলা করা হয়েছে। সমস্যা হলো, মামলা করার পর বারবার উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন তিনি। এ আদেশ বাতিল করাতে ৩-৪ মাস সময় লেগে যায়।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে নতুন বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান আমাদের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি টাকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন। তবে এ মুহূর্তে তদন্ত চলমান থাকায় বিষয়টি থমকে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিআইএফসির মোট শেয়ারের ৫৬ শতাংশই মেজর (অব.) মান্নানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। যা আইন পরিপন্থি। এছাড়া রইস উদ্দিন আহমেদের নামে রয়েছে ১.২৭ শতাংশ আর মহিউদ্দিন আহমেদের নামে রয়েছে ১.৮৬ শতাংশ শেয়ার। সম্পর্কে তারা দুজনই মেজর মান্নানের শ্যালক। পরিদর্শনে উল্লে­খ করা হয়, মেজর মান্নান, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয় স্বজনের নামে ৫৭ বারে নেওয়া মোট ঋণের অঙ্ক ৬৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৬টি ঋণই এখন মন্দমানের খেলাপি। পরিদর্শনে আরও উল্লেখ করা হয়, মেসার্স টেলিকম সার্ভিস এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আব্দুল্লাহ ব্রাদার্স, মেসার্স রহমত উল্লাহ অ্যান্ড কোম্পানি এবং মেসার্স টাওয়ার বিল্ডার্সকে দেওয়া কোনো ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম পালন করা হয়নি। সব ক্ষেত্রে এক খাতের ঋণ অন্য খাতে নেওয়া বা ফান্ড ডাইভারসন করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনও ভঙ্গ করা হয়েছে।

বিআইএফসির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে টাকাগুলো বের করেছেন মেজর মান্নান। সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে ডক্টর আফরোজ সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে। তিন বারে বিআইএফসি থেকে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যার পুরোটাই এখন মন্দমানের খেলাপি। এছাড়া গোল্ডেন হরিজন লিমিটেডের নামে নেওয়া হয়েছে ৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে লিমিটেড নিয়েছে ২১ কোটি ৩০ লাখ।

মেজর মান্নানের মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও তার সুপারিশে ঋণ পাওয়া ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা সিএনজি লি. ২৪ কোটি ৫৯ লাখ, সানম্যান শিপিং লি. ৪০ হাজার, মেসার্স টেলিকম এন্টারপ্রাইজ ৮৭ কোটি ৮ লাখ, রফিক উদ্দীন ১৯ কোটি ২১ লাখ, মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৩৪ লাখ, মেট্রো পলিটন সিএনজি লি. ৪২ কোটি ৬৬ লাখ, ইউনাইটেড ড্রেসেস লি. ২৫ কোটি ৪৬ লাখ, টেলিকম সার্ভিস লি. ৮ কোটি ৩৮ লাখ, মেসার্স ইয়াসমিন ট্রেডার্স ৯ কোটি ২৩ লাখ, মো. রইস উদ্দীন ৫ কোটি ২৩ লাখ, ম্যাক্সনেট অনলাইন ৩২ কোটি ৯ লাখ, চৌধুরী অ্যাপারেল ৬ কোটি ৬৩ লাখ, টেলিপ্লাস নিউইয়র্ক লি. ২৬ কোটি ৩৮ লাখ, মটর ট্রেড এন্টারপ্রাইজ ১৫ কোটি ৪০ লাখ, রুনা প্রপার্টিজ ১৬ কোটি ৩৯ লাখ, রহমান টেক্সটাইল ৮ কোটি ৬২ লাখ, ইস্ট এশিয়া এন্টারপ্রাইজ ৭ কোটি ৩৯ লাখ, মেসার্স টেলিকম সার্ভিস এন্টারপ্রাইজ ২৩ কোটি ৮৯ লাখ, মেসার্স টেক্সটাইল ইন্টারন্যাশনাল ৩৭ কোটি ৩২ লাখ, টাওয়ার্স বিল্ডার্স ৩৬ কোটি ৯ লাখ, ক্লিক ২ ডিজাইন লি. ৩১ কোটি ৫৫ লাখ, মেসার্স রহমতউল্লাহ অ্যান্ড কোম্পানি ৩৩ কোটি ৬৫ লাখ, মেসার্স আব্দুল্লাহ ব্রাদার্স ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ, বিলাল ডি মামুন ৯২ লাখ, টেকনো ওয়াইফাই সার্ভিস ৮ কোটি ৩০ লাখ ও ট্রান্সকো লি. ৪৩ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, বিআইএফসির বিতরণ করা ৮৫০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৯৭ শতাংশই কু-ঋণ বা মন্দ মানের খেলাপি। এসব খেলাপির বেশিরভাগই আবার মেজর মান্নান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের দায়। ঋণ জালিয়াতির কারণে ২০১৬ সালে বিআইএফসির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০১৭ সালেই প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ন করতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো অদৃশ্য কারণে সেটি তখন আটকে যায়। বর্তমানে এটি আর্থিক খাতের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখন সব পক্ষ নড়েচড়ে বসেছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর