1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজ মিশল ধুলায়

হক ফারুক আহমেদ
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

সারাবিশ্ব অবাক তাকিয়ে দেখল আমেরিকার জনগণ কীভাবে তাদের সংসদে আক্রমণ করেছে। ট্রাম্প সমর্থকদের এহেন কাণ্ড সমালোচনার সৃষ্টি করেছে সারাবিশ্বে।

এই বিষয়ে কথা বলেছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজ এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি উদ্ধার করতেও সময় লাগবে।

অনেকেই বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ট্রাম্পের কট্টর বর্ণবাদী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।

এই বর্ণবাদী আচরণ চাপা ছিল: সাবেক রাষ্ট্রদূত শমসের মবিন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের দাঙ্গার বিষয়ে বলেন, অনেকেই এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলছেন। কিন্তু আমি তা বলতে রাজি নই। বরং ট্রাম্পের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ এটি।

ট্রাম্প যে শ্বেতাঙ্গ আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন এটি আসলে সহজে থামার নয়। আমার কাছে এটি একটি নতুন ধারা মনে হয়। যা এতদিন আমেরিকায় চাপা ছিল। ট্রাম্প এসে সেটি উন্মোচিত করেছেন। কতটা অশান্ত হলে একটি দেশের জনগণ তাদের সংসদে আক্রমণ করে।

শমসের মবিন চৌধুরী আরও বলেন, ট্রাম্প কিন্তু তার সমর্থকদের উসকে দিয়েছেন। তাদের সেখানে যেতে বলেছেন। লক্ষ্যণীয়, এ ঘটনার পর ট্রাম্প কিন্তু কোনো নিন্দা জানাননি বরং তার সমর্থকদের প্রশংসা করেছেন।

এই ট্রাম্পবাদ আসলে আমেরিকায় থাকবে। কারণ তিনি শ্বেতাঙ্গদের বলেছেন, এটা তোমার আমার দেশ যা ওরা লুট করেছে। এই অসিংষ্ণু রাজনীতিকে রিপাবলিকান রাজনীতি কীভাবে ধারণ করবে তা দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, মনে হচ্ছে এটি আমেরিকার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। হয়তোবা সেটা আমেরিকার রাজনীতির একটা বড় অংশও হয়ে উঠবে। আমি মনে মনে বিশ্বাস করি বিশ্বের নানা দেশের এই ঘটনায় নিন্দা জানানো উচিত।

ইমেজ পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, যে ঘটনাটি ঘটল তা অপ্রত্যাশিত। এটা গণতন্ত্রের জন্য, সারাবিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র অনেক পুরনো। কিন্তু গণতন্ত্রের সুপথে চলার জন্য আইনের শাসন অত্যন্ত জরুরি। তার জন্য সিভিল সোসাইটিকে সবসময় জাগ্রত থাকতে হয়। ট্রাম্প কীভাবে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটালেন তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমেরিকার গণতন্ত্রের একটি মূল বিষয় হচ্ছে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর।

কিন্তু ট্রাম্প সেটা সহিংসতার মধ্য দিয়ে উলটে দিতে চেয়েছেন। কিন্তু জয় শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের হয়েছে। ভায়োলেন্সের পরে কিন্তু রিপাবলিকানদের বলার ধরনও পালটে গেছে। কারণ, তারাও এই ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করেছে।

দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমেরিকার ইমেজের পতন হয়েছে ভীষণভাবে। তা উদ্ধার করতে অনেক সময় লাগবে। তবে এখন দেখার বিষয় নিয়মের ভেতর ও আইন মেনে আসলে কী হয়।

যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, যারা কনসপারেসি করেছে তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয় সেদিকে চোখ থাকবে সবার।

হতবাক করেছে বিশ্ববাসীকে: সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ বলেন, ট্রাম্প গত চার বছরে যে বর্ণবাদী রূপ দেখিয়েছেন তার চূড়ান্ত প্রকাশ এই তাণ্ডব।

একটি দেশের সংসদে যেখানে দেশ ও জাতির সব আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে সেখানে দখল করে, অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়াস হতবাক করেছে বিশ্ববাসীকে। এটি একটি অবিস্মরণীয় নজির। তবে শেষ পর্যন্ত জয় গণতন্ত্রের হয়েছে। চূড়ান্ত রায় এসেছে জনগণের পক্ষে।

শফিউল্লাহ বলেন, এই ধরনের ঘটনাকে যদি কোনো রাষ্ট্র বা শক্তি নিজেদের জন্য গ্রহণ করে তবে সেটা তাদের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনবে। তবে এটি মনে রাখতে হবে ট্রাম্প বর্ণবাদের যে রূপ দেখিয়েছেন তার পক্ষেও কিন্তু কোটি কোটি মানুষ ভোট দিয়েছে।

তার এই শ্বেতাঙ্গবাদী রাজনীতির প্রভাব ইউরোপের অনেক দেশ, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও পড়েছে। তাই যারা শ্বেতাঙ্গ নয়, ভিন্ন বর্ণের মানুষ তাদের ওপরও এই বিষয়গুলো বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর