1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

রাজধানীতে আবারও অগ্নিকাণ্ড

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

গতকাল রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অবস্থানগত কারণে ভবনটিতে সার্বিক নিরাপত্তাবিষয়ক আধুনিক প্রযুক্তির অভাব থাকবে না, এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আলোচ্য ভবনটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল একেবারেই নাজুক। উল্লিখিত ভবনটি বিল্ডিং কোড মেনে নির্মিত হয়েছে কিনা, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় চার ঘণ্টার বেশি সময় পর এ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে আগুন লাগার পর বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ সময়ে এমনিতেই এই সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকে। আগুনের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এ সড়কসহ আশপাশের আরও কিছু সড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে অফিসগামী মানুষসহ বহু যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের। তাদের অনেকে হয়তো ফ্লাইটও মিস করেছেন। তাদের এ ক্ষতি পূরণের উপায় কী?

রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় পর্যাপ্ত পানিপ্রাপ্তি। গতকালও এ সমস্যাটি আলোচনায় এসেছিল। আলোচ্য ভবনটির কাছাকাছি পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন নেভাতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ওই ভবনে একটি কোম্পানির গুদামে দাহ্য পদার্থও ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এসব দাহ্য পদার্থের কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশি সময় লেগেছে। ভবনটির এক পাশে বিমানবন্দর সড়ক, অন্য পাশে ব্যস্ততম রেললাইন। এমন জায়গায় অবস্থিত ভবনের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাই যদি দুর্বল হয়, তাহলে অন্যান্য স্থানের ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা কেমন এ প্রশ্ন ওঠে।

বস্তুত প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডই অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রেখে যায়। তারপরও অগ্নিকাণ্ড রোধে যেসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

এটি খুবই উদ্বেগের বিষয় যে, দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পরও ভবন মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর টনক নড়ছে না। দেশে গত ১৫ বছরে অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অগ্নিনির্বাপণে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা তথা আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই কোনো মর্মান্তিক ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।

প্রশ্ন হলো, আগুন থেকে বাঁচার জন্য মানুষের আকুতি আমাদের আর কত শুনতে হবে? আর কত তাজা প্রাণ পুড়ে ছাই হলে কর্তৃপক্ষগুলোর টনক নড়বে? কোনো ভবনে বা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ভবনের নির্মাণ ত্রুটি এবং প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা, অব্যবস্থাপনা-এসব আলোচনায় আসে।

প্রশ্ন হলো, এ তথ্যগুলো দুর্ঘটনার আগে জানা যায় না কেন? এসব নজরদারির দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা কতটা সঠিকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করছেন? আমরা আশা করব, উল্লিখিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটিত হবে। অগ্নিকাণ্ডসহ সব ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রতিটি ভবনে কার্যকর সতর্কব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর