1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

রিকশাচালক থেকে ড্যান্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠা: শতাধিক নারী পাচার

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: রাজধানীতে রিকশা চালাতে ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন কামরুল ইসলাম ওরফে ড্যান্স কামরুল (৩৭)। ঢাকায়। রাজধানীতে এসেই শুরু করেন রিকশা চালানো। কৌতূহলবশত ২০১৬ সালে এফডিসি ও বিভিন্ন শুটিং স্পটে আসা-যাওয়া শুরু তার। এরপর প্রতিষ্ঠা করেন কথিত ‘ড্যান্স ক্লাব’। সেখানে তরুণীদের নাচ বা গান শেখানোর আড়ালে বø্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। তার ক্লাবের মাধ্যমে অনেককে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচারও করা হয়। এরই মধ্যে দু’জন নারী দেশটির কারাগারে রয়েছেন।
কামরুল ড্যান্স ক্লাব বা সেলুনে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় শতাধিক নারীকে ভারতে পাচার করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, তেজগাঁও ও চুয়াডাঙ্গা থেকে বিদেশে পাচার হতে যাওয়া ২৩ জন নারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় নারী পাচার চক্রের প্রধান কামরুলসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কামরুল ইসলাম ওরফে ড্যান্স কামরুল, রিপন মোল্লা,আসাদুজ্জামান সেলিম,প্রমোদ চন্দ্র দাস, নাইমুর রহমান,নুর নবী ভূঁইয়া রানা, আবুল বাশার,আল ইমরান, মনিরুজ্জামান, শহিদ শিকদার ও টোকন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৩টি পাসপোর্ট,২০টি মোবাইল ফোন, বিদেশি মদ,২৩ ক্যান বিয়ার ও ২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গতকাল দুপুরে মিরপুর র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, পার্শ্ববর্তী দেশে মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা কামরুল ইসলাম জলিল ওরফে ডিজে কামরুল বা ড্যান্স কামরুল। এই চক্রে প্রায় ১৫-২০ জন সদস্য রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি সক্রিয়ভাবে মানব পাচার অপরাধে জড়িত। চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কমবয়সী তরুণীদের প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে ও প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে।তিনি আরও জানান, প্রথমে চক্রটি ভিকটিমদের নাচ বা ড্যান্স শেখানোর নামে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সুন্দরী মেয়েদের ঢাকায় নিয়ে আসতো। তাদের বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্থ করা হতো। পরে তাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বিভিন্ন চাকরিতে প্রলুব্ধ করে পাচার করতো চক্রটি। এভাবে চক্রটি তিন বছরে প্রায় শতাধিক মেয়েকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছে। ভিকটিমদের পার্শ্ববর্তী দেশের মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করা হতো। মূলত পার্শ্ববর্তী দেশে অমানবিক ও অনৈতিক কাজ করানোর উদ্দেশ্যে তাদের পাচার করতো। এই চক্রটি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশের সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে। এই চক্রের পার্শ্ববর্তী দেশের সদস্যরা ভিকটিমদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে। এরপর বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন শহর বা প্রদেশে অনৈতিক কাজ করানোর উদ্দেশ্যে বিক্রয় করে দিতো। এরপর থেকে ভিকটিমদের আর কোনো সন্ধান মিলতো না।কে এই ডিজে কামরুল:২০০১ সালে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। এরপর বাড্ডা এলাকায় রিকশাচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কয়েকদিন পর তিনি একটি কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যানচালক হিসেবে কাজ নেন। এরপর ড্যান্স গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরে হাতিরঝিল এলাকায় ডিজে কামরুল ড্যান্স কিংডম নামে একটি ড্যান্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এই ক্লাবের মাধ্যমে উঠতি বয়সী নারীদের বিনোদন জগতে প্রবেশের নামে প্রলুব্ধ করতেন তিনি। একপর্যায়ে তাদের উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করতেন।র‌্যাব জানায়,সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশে বাংলাদেশের এক তরুণীকে পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পার্শ্ববর্তী দেশে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা বস রাফিসহ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এছাড়াও একজন ‘মা’ নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হয়ে মেয়েকে পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করেন, যে ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।র‌্যাব আরও জানায়,কামরুলের মাধ্যমে এক নারীকে ভারতে পাচারের ঘটনায় তার বোন বাড্ডা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় পুলিশ তাকে আটক করে। তিন মাস পর কারাগার থেকে বের হয়ে পুনরায় নারী পাচারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এই নারীদের সীমান্তবর্তী জেলায় অবস্থিত সেইফ হাউজে রাখা হতো। পরে সেইফ হাউজে থাকা অবস্থায় তাদের মোবাইল নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতো। এরপর সুবিধাজনক সময় চক্রের সদস্যরা নারীদের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করতো। এই চক্রের গ্রেপ্তার রিপন, সেলিম ও শামীম নারী পাচারের অবৈধ কাজে মূল হোতাকে সহায়তা করতো বলে স্বীকার করেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে পাচার চক্রের সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচারকারী একটি চক্র। চক্রে দেশের ১০-১২ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ৫ থেকে ৭ বছর ধরে এই চক্রটি সক্রিয়ভাবে মানব পাচার করে আসছে। হাউজ কিপিং,নার্স, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি পেশায় নারী কর্মীদের বিনা টাকায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে উঠতি বয়সী তরুণী ও মধ্যবয়সী নারীদের প্রলুব্ধ করতো চক্রটি। মূলত বিদেশে পাচারের মাধ্যমে ভিকটিমদের বিক্রি করে দেয়া হতো। চক্রটি এরই মধ্যে ৩০-৩৫ জন নারীকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে।খন্দার আল মঈন জানান,প্রথমত তারা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি বয়সী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল তরুণ-তরুণী ও মধ্যবয়সী নারীদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে ও বিদেশে বিভিন্ন লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখায়। এতে তারা রাজি হলে প্রথমত তাদের ঢাকায় অবস্থিত সাজানো অফিসে এনে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো হয়। বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বল্পকালীন ভুয়া প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তারা। এ সময় কোনো নারী বিদেশে যেতে অনীহা প্রকাশ করে পাসপোর্ট ফেরত চাইলে তাদের থেকে দেড়-দুই লাখ টাকা দাবি করতো চক্রটি। এই মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা নুর-নবী ভূঁইয়া রানা।কে এই নুর-নবী ভূঁইয়া রানা: চক্রের প্রধান নুর-নবী ভূঁইয়া রানা লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় একটি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি ঢাকায় এসে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে প্রবাসী হিসেবে কাজ করেন। ওমানে থাকা অবস্থায় পাচারকারী এক চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন থেকেই মানব পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে, ২০২০ সালে ওমান থেকে দেশে ফিরে মানব পাচারের সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন।এ সময় সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মো: মোজাম্মেল হক, সহ-অধিনায়ক জয়িতা ও র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি আনম ইমরান খান ইমন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর