1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু বেক্সিমকোর

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম অনুমোদিত জেনেরিক রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়েজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগটির উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে নমুনা হিসেবে এক হাজার রেমডেসিভির ওষুধ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে এই ওষুধ দেওয়া হবে।

অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির সম্প্রতি কভিড-১৯ চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার (এফডিএ) জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই রেমডেসিভির সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের রেপ্লিকেশন বা বংশবৃদ্ধি রোধে প্রথম কার্যকরী ওষুধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর; ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিডিএ) মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান; প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ড. এ বি এম আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদুল্লাহ।

বেক্সিমকো উৎপাদিত ওষুধ রেমডেসিভির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের সুস্থ করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিশ্বের কোথাও কোনো দেশে করোনা রোগীদের শতভাগ সুস্থ করে তোলার মতো ভ্যাকসিন বা ওষুধ উৎপাদিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে রেমডেসিভির ওষুধটি কার্যকর হচ্ছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য এটির অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। ওষুধ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে করোনাভাইরাস রোগীদের এই ওষুধে চিকিৎসা প্রদান করা হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এখন বাড়লেও তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তুলনামূলকভাবে সফল হয়েছে।’

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। তাদের সুচিকিৎসার জন্য নমুনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরির সংখ্যা বৃদ্ধি, ডেডিকেটেড হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, এ সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।

ওষুধের প্রথম ব্যাচ ওষুধ হস্তান্তরের সময় বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান এমপি বলেন, ‘আমরা সরকারি হাসপাতালের গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে রেমডেসিভির প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেক্সিমকো ফার্মা শুধু কভিড-১৯ চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতেই রেমডেসিভির (বেমসিভির) সরবরাহ করবে, কোনো ফার্মেসিতে সরবরাহ করবে না। ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপ্রাপ্তির প্রথম দিনেই বেক্সিমকো ফার্মা বিপুল পরিমাণে রেমডেসিভির (বেনসিভির) কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে।’

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটের (এআইএম) তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মা বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আবেদন করে। পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জরুরি ব্যবহারের জন্য বেমসিভির ব্র্যান্ড নামে বেক্সিমকো ফার্মার উৎপাদিত রেমডেসিভির ইঞ্জেকশনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গিলিয়াড সায়েন্সেস রেমডেসিভিরের উদ্ভাবক। প্রত্যক্ষ অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে রেমডেসিভির ভাইরাসের আরএনএ সংশ্লেষণ প্রতিরোধে সরাসরি কাজ করে। রেমডেসিভির রক্তনালিতে ইঞ্জেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। কভিড-১৯-এ গুরুতর অসুস্থ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ জাতীয় আরো খবর