1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

লকডাউনেও অর্ধ কোটি টাকার ওভারটাইম বিল

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

গত জুলাই মাসে দেশে কঠোর লকডাউনের সময় জরুরি সেবা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও বন্ধ ছিল না সংসদ সচিবালয়ের প্রায় ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওভারটাইম। এই ওভারটাইম বাবদ জনপ্রতি দৈনিক ৫০০ টাকা হিসাবে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বিল দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, কঠোর লকডাউনের সময় ‘অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া’ বাড়ির বাইরে বের হওয়াও ছিল নিষেধ। অন্যান্য সরকারি অফিসের মতো স্পিকারের নির্দেশে বন্ধ ছিল জাতীয় সংসদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব অনুবিভাগও। অথচ লকডাউন চলাকালে জুলাই মাসে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ থেকে ২০ দিনের ওভারটাইম বিল নিয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সরকার ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবারও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন ৩ জুলাই শেষ হওয়ার পর থেকে স্পিকারের মৌখিক নির্দেশে লকডাউনে সংসদ সচিবালয়ের আইন-১, প্রকাশনা, জনসংযোগ, প্রশাসন, কমন ও নোটিস শাখা বাদে অন্যান্য শাখা বন্ধ থাকে। এমনকি গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা বন্ধ শাখার স্টাফদের সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। কিন্তু তার পরও জুলাই মাসে সংসদ সচিবালয়ের প্রায় ১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৮ থেকে ২০ দিনের ওভারটাইম বিল নিয়েছেন, যাদের অধিকাংশেরই কোনো ওভারটাইম বিল পাওয়ার কথা নয়। এর মধ্যে লকডাউন চলাকালে সংসদীয় কমিটির কোনো বৈঠক না হলেও কমিটির সভাপতির কার্যালয়ের প্রায় ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীও ওভারটাইম বিল নিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অধিবেশন চলাকালে অতিরিক্ত কাজের জন্য অধিবেশন শুরুর ৭ দিন আগে থেকে শেষ হওয়ার তিন দিন পর পর্যন্ত ওভারটাইম ভাতা পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া কমিটির বৈঠকের প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাজের জন্য প্রতি বৈঠকের আগে ও পরে মোট ৫ দিন ওভারটাইম পান। কিন্তু ৩ জুলাই অধিবেশন শেষ হওয়ার পর জুলাই মাসে সংসদীয় কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। অথচ কয়েকটি শাখা বাদে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি বাদে মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত ওভারটাইম-ভাতা দাবি করেন এবং তা পেয়েও গেছেন। তবে কী পরিমাণ টাকা ওভারটাইম বিল হিসেবে উত্তোলন করা হয়েছে তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ ও জনসংযোগ) স্বপন কুমার বড়ালও টাকার পরিমাণ জানাতে পারেননি। তবে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধিবেশন না থাকলে ওভারটাইম হিসেবে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৫০০ টাকা পান। পনেরো দিনের ওভারটাইম বিল হয় ৭ হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ওভারটাইম বিল নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ ও জনসংযোগ) স্বপন কুমার বড়াল সময়ের আলোকে বলেন, জুলাই মাসে লকডাউনের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ের যেসব শাখা খোলা ছিল তারা ওভারটাইম বিল পেয়েছেন। তিনি নিজেও ওই সময়ের ওভারটাইম বিল নিয়েছেন। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস না করলেও ওভারটাইম বিল নিয়েছেন কি না, বিষয়টি তার জানা নেই।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, অফিস বন্ধ থাকার পরও যদি কেউ ওভারটাইম নেয় তা হলে সেটা অনৈতিক। কারণ সংসদ সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ওভারটাইম নিলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যদি ওভারটাইম বিলের পক্ষে যৌক্তিক কোনো দাবি না থাকে তা হলে সেটা অনিয়ম। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে যারা বিল দিয়েছেন তারাও দায় এড়াতে পারবেন না। কারণ যিনি দিয়েছেন এবং যিনি বিল নিয়েছেন উভয়ের মধ্যে যোগসাজশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংসদ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীররা যদি এ ধরনের অনিয়মে জড়িত হয় তা হলে গণতন্ত্রের জন্য এটি হবে অশনিসঙ্কেত।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর