1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা শনাক্তের সংখ্যা। দেশে প্রথমবারের মতো এক দিনে করোনা শনাক্ত সাত হাজারের ঘর অতিক্রম করল গতকাল রোববার। সারা দেশে ৩০ হাজার ৭২৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩.০৭ শতাংশের করোনা শনাক্ত হয়েছে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ৮৭ জন।

সামনের দিনগুলোতে এটি আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। কারণ মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাতে করোনা সংক্রমণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এ দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশব্যাপী চলমান প্রথম ডোজের করোনা টিকা বন্ধ হচ্ছে না, এটি অব্যাহত থাকবে। একই সাথে আগামী ৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া শুরু হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, প্রথম ডোজ টিকা বন্ধ করে দেয়া হবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

৮ এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়ার সাথে সাথে প্রথম ডোজের টিকাও দেয়া হবে। প্রথম ডোজ টিকা যারা নিয়েছেন সরকারের কাছে তো তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার টিকাই নেই; এ অবস্থায় প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা একসাথে দেয়া হলে ঘাটতি দেখা দেবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ‘আমরা আশা করছি টিকার আরেকটি চালান শিগগিরই আসবে। পরবর্তী চালান যেন আসে সে জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, সে কারণে দ্বিতীয় ডোজ টিকার সাথে প্রথম ডোজ দেয়াও চলমান থাকবে।’

এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আবদুল হামিদ জানান, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে কিছু কাজ করতে হবে। সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন ঠিক হয়েছে কী, হয়নি সে দিকে না গিয়ে তিনি বলেন, সরকারঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা, করোনার ঝুঁকি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে কার্যকরভাবে প্রচারণা চালাতে হবে। প্রয়োজনে হেলথ কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে হবে। মানুষ যেন আরো বেশি করে টিকা নিতে আগ্রহী হয় সে জন্য সবাইকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। টিকার কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে বিদ্যমান সংশয় দূর করতে হবে। জিনোম সিকুয়েন্সিং ও সেরো প্রেভিলেন্স স্টাডি নিয়মিত করে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি জানান, করোনা টেস্টের সরকারী ফি নেয়া বন্ধ করতে হবে এবং টিকার নিবন্ধন অনস্পট চালু করতে হবে। করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং শহরাঞ্চলে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, লকডাউনের সময় দরিদ্র মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে যেন খাদ্য সঙ্কট সৃষ্টি না হয়।

দেশে গত বছর ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হলেও ওই বছরের ২ জুলাই এক দিনে সর্বোচ্চ ৪০১৯ জন রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে এক দিনে শনাক্তের সংখ্যা কমে যেতে থাকে। মাঝখানে গত নভেম্বরে সামান্য বাড়লেও দুই হাজার ৬শ’র ঘর অতিক্রম করেনি। ৩০ নভেম্বর সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫২৫ জন শনাক্ত হয়। ডিসেম্বরে এসে আবারো কমতে শুরু করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এক দিনে করোনা শনাক্ত কমে ২৯১-এ (১৩ ফেব্রুয়ারি) নেমে আসার পর গত মার্চ মাসের শুরুতে বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গতকাল রোববার এক দিনে শনাক্ত হলো ৭ হাজার ৮৭ জন। এ দিন মারা গেছেন আরো ৫৩ জন।

করোনা সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার পর পরই হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর জন্য নির্ধারিত শয্যা কমতে থাকে। রাজধানীতে নির্ধারিত সরকারি হাসপাতালে দুই হাজার ৫১৫টি শয্যা থাকলেও গতকাল এর মধ্যে খালি ছিল মাত্র ১১৩টি। গতকাল আইসিইউ শয্যা খালি ছিল মাত্র ২টি। সরকারি হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ কমে যাওয়ার মানুষের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কারণ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই। ফলে সরকারি হাসপাতালে সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর দাবি উঠে। অবশ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক উভয় ধরনের শয্যা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ আগামী দুই সপ্তাহে জেলা হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা ও রিব্রিদার মাস্ক ব্যবহার উপযোগী অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করে জেলাপর্যায়ে করোনা চিকিৎসা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় রেফারেল কমানোরও পরামর্শ দিয়েছেন। একই সাথে সব জেলা ও জেনারেল হাসপাতালে এবং সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দেন।

এ জাতীয় আরো খবর