1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

আরও তিন সহযোগী সংগঠন মেয়াদোত্তীর্ণ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের আরও তিন সহযোগী সংগঠন মেয়াদোত্তীর্ণ। গত মার্চে মেয়াদ শেষ হয়েছে যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগের। আর কমিটি ঘোষণার দিন ধরে হিসাব করলে জুলাইয়ে মেয়াদ শেষ হয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের।

এছাড়া দীর্ঘদিন আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। মেয়াদ শেষের পরেই সম্মেলনের সিদ্ধান্ত থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মূল দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সহযোগীরাও ফের শুরু করেছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। ইতোমধ্যে সম্মেলন হওয়া পাঁচ সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যুবলীগ ছাড়া চারটির পূর্ণাঙ্গ কমিটিও হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, সংগঠনকে দীর্ঘসময় মেয়াদোত্তীর্ণ রাখার সুযোগ নেই। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সম্মেলন করা হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের সম্মেলন হবে, সেটা তো সিদ্ধান্ত ছিলই। করোনার কারণে সম্ভব হয়নি। আর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা পূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন এই বছরের জানুয়ারিতে। সে হিসেবে তাদের এখনই মেয়াদোত্তীর্ণ বলা যাবে না।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আওয়ামী মহিলা লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও মৎস্যজীবী লীগ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন। এছাড়া জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। গত জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই চার সহযোগী ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সবটিতেই শীর্ষ পদে এসেছে নতুন নেতৃত্ব। সম্প্রতি যুবলীগ ছাড়া বাকিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাকি সংগঠনগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেসময় মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের এ বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন দল গোছানোর কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল, ফলে সম্মেলন আয়োজন আর সম্ভব হয়নি। সূত্র জানায়, এই সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর কাজে আর সময়ক্ষেপণ করতে চায় না আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি এক যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি আর একটু ভালো হলেই এই সম্মেলনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে তাদের প্রস্তুতিও রাখতে বলা হয়েছে।

ছাত্রলীগ : ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর দুই মাস পর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ গঠিত হয়েছিল। সে হিসেবে দুই বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ জুলাই। এর আগে ২৯তম সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। এক বছর গড়াতেই অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শোভন-রাব্বানীকে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর অপসারণ করা হয়। এরপর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এক নম্বর সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে সভাপতি ও এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে ছাত্রলীগের সারা দেশের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর প্রায় সবগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। জানতে জাইলে লেখক ভট্টাচার্য বলেন, সম্মেলন ও কমিটি ঘোষণার দিন হিসাবে মেয়াদ শেষ। তবে আমরা দায়িত্ব পাওয়ার দিন থেকে হিসাব করলে মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি।

মহিলা আওয়ামী লীগ : প্রায় ১৪ বছর পর ২০১৭ সালের ৪ মার্চ মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। এতে সাফিয়া খাতুন সভাপতি এবং মাহমুদা বেগম কৃক সাধারণ সম্পাদক হন। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ৪ মার্চ। এ ব্যাপারে মাহমুদা বেগম কৃক যুগান্তরকে বলেন, করোনার পরে আমরা সীমিত পরিসরে সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছি। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) যখন বলবেন, তখনই আমরা সম্মেলনের আয়োজন করব।

যুব মহিলা লীগ : ২০১৭ সালের ১১ মার্চ যুব মহিলা লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাজমা আক্তার সভাপতি ও অপু উকিল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১১ মার্চ। এর কিছু দিন আগে ফেব্রুয়ারিতে যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ‘অপকর্ম’ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাকে সংগঠন থেকে অজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলেও প্রশ্ন উঠেছিল সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় যুব মহিলা লীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নতুন কমিটি গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা। জানতে চাইলে অপু উকিল যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে আমাদের সাংগঠনিক কাজ বন্ধ ছিল। এখন আবার সেগুলো শুরু করছি। আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত। আপা (শেখ হাসিনা) যখন বলবেন, তখনই সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

তাঁতী লীগ : ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলীকে সভাপতি এবং খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক হন। কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৭০টিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি রয়েছে। তবে এর অনেকগুলোরই যথাসময়ে সম্মেলন হয়নি। এছাড়া তাঁতী লীগ দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে মাঠের কর্মসূচিতে খুব একটা সক্রিয় নয়। এর মধ্যে ১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনের মেয়াদও শেষ হয়েছে। জানতে চাইলে তাঁতী লীগ সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ বলেন, কয়েকদিন আগে এক সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আমাদের বড় সমাবেশ না করে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। জাতীয় সম্মেলনের জন্য সম্ভবত আরও কিছুদিন দেখব। তবে আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত।

এ জাতীয় আরো খবর