1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

রাজস্ব শাখায় বিশৃঙ্খলার রাজত্ব

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব বিভাগে বিশৃঙ্খলার রাজত্ব কায়েম হয়েছে। যার চাকরি থাকার কথা নয়, তিনিও চাকরিতে বহাল আছেন। বহিরাগতরা করছেন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর কাজ। নিয়ম না মেনে দেওয়া হচ্ছে জনবল নিয়োগ। পদ শূন্য থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না দায়িত্ব। এভাবেই গড়ে উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব বিভাগ। ফলে রাজস্ব শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানা অসন্তোষ। ভাটা পড়ছে রাজস্ব আদায়ে।

একই অপরাধে চারজন চাকরিচ্যুত, আরেকজন হয়েছেন বহাল। চারজন কর কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার জন্য ২০০৪ সালের ৪ জানুয়ারি দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। দীর্ঘদিন নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর হঠাৎ ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর প্রার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই দিনই লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মৌখিক পরীক্ষা নেয় কর্তৃপক্ষ। পাঁচজনের নিয়োগপত্রও ইস্যু করা হয় একই দিনে এবং তারা সেই দিনই যোগ দেন কাজে।

একই দিনে ভাগ্য খুলে যাওয়া পাঁচ সৌভাগ্যবানের তারা হলেন খালেদ সাইফুল্লাহ, শামী ফয়সাল, আতাহার আলী খান, মিজানুর রহমান ও এসএম হাসানুজ্জামান। কিন্তু এই তুঘলকি অনিয়ম নিয়ে পরে দুদকে মামলা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে নিয়োগ নিয়ে নানা অনিয়মের কাহিনি। এরই মধ্যে ২০১২ সালে ডিসিসি ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গঠিত হলে চারজনকে দেওয়া হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ও মিজানুর রহমানকে দেওয়া হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি)। কিন্তু অনিয়মের ঘটনা বেরিয়ে আসার পর ডিএসসিসিতে থাকা চার কর কর্মকর্তাকেই বরখাস্ত করা হয় চাকরি থেকে। যদিও ডিএনসিসিতে যুক্ত মিজানুর রহমানের চাকরি এখনও বহাল আছে। তিনি বর্তমানে ডিএনসিসির ২ নম্বর অঞ্চলে (মিরপুরের একাংশ) কর কর্মকর্তা (পৌর কর শাখা) হিসেবে কর্মরত। মিজানুর রহমানের চাকরি থাকা নিয়ে ডিএনসিসিতে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তিনি কীভাবে চাকরিতে বহাল আছেন, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ূয়া। বলেছেন, ভালো করে কাগজপত্রগুলো দেখতে হবে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ : ডিএনসিসির উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহসীন আলীর আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর অঞ্চল-১-এর (উত্তরা) কর কর্মকর্তা এমডি লিয়াকত অবসরকালীন ছুটিতে গেছেন। তবে আগস্টের প্রথম ভাগেই ডিএনসিসির সচিবের দপ্তর থেকে তাদের দু’জনকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। যদিও সিটি করপোরেশনের আইনে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কোনো বিধানই নেই।

ডিএনসিসির এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, কোন আইনে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ডিএনসিসি এর জবাবে জানায়, এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার আইন নেই। তবে ৩১ অক্টোবর ডিএনসিসির দ্বিতীয় বোর্ড সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিএনসিসি উদাহরণ দিয়ে জানায়, ঢাকা ওয়াসা বোর্ড ও রেলওয়ে বোর্ড থেকেও এভাবে প্রস্তাব তৈরি করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করেনি।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, ডিএনসিসির অর্গানোগ্রামে (জনবল কাঠামো) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বলে কিছু নেই। তার পরও এমন প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে পদোন্নতি পেতে ইচ্ছুক কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ ধরনের প্রস্তাব পাঠানো সম্পর্কে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, এ ব্যাপারে রাজস্ব বিভাগের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। ওয়াসা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির জনপ্রশাসনবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, ডিএনসিসির এলাকা বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নেই। অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়ায় ডিএনসিসি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে পারছে না। এ জন্য বোর্ড মিটিংয়ে দু’জন দক্ষ কর্মকর্তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পদ শূন্য থাকলেও পদোন্নতিপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান না : গত ২৫ আগস্ট ডিএনসিসির চারজন উপকর কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে কর কর্মকর্তা করা হয়। তারা হলেন-মহিউদ্দিন আহমেদ, আজিজুর রহমান, সৈয়দ আনিসুজ্জামান ও মনোয়ার হোসেন। তাদের বিভিন্ন অঞ্চলের কর কর্মকর্তার শূন্য পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আনিসুজ্জামানকে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরে কর কর্মকর্তার কোনো পদ না থাকায় তার বেতন বন্ধ থাকে। পরে সংশোধন করে তাকে অঞ্চল-৫-এর (কারওয়ান বাজার) বিবিধ আদায় শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে আবার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরেও সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু অব্জল-৫-এ তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সেখানে উপকর কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম দেওয়ান ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় আনিসুজ্জামান কাজ করতে পারছেন না। আরও কয়েকটি অঞ্চলে কর কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলেও তাকে সেগুলোর কোনোখানে দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হয়তো শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে।

মহাখালীতে ট্রেড লাইসেন্স দেয় বহিরাগতরা : ডিএনসিসির অঞ্চল-৩-এর (মহাখালী) ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা তসলিম উদ্দিনের অফিস শুরু হয় সন্ধ্যার পর। অভিযোগ আছে, সেখানে হেলাল উদ্দিন, হাবিবসহ কয়েকজন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। তারা কেউই ডিএনসিসির সঙ্গে যুক্ত নন। তসলিম উদ্দিনের বন্ধু হিসেবে পরিচিত হেলাল ও হাবিব। নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের বাণিজ্য হয় তাদের মাধ্যমে। অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর এই বাণিজ্য শুরু হয়। রাত ১০-১১টা পর্যন্ত চলে এ বাণিজ্য।

অবশ্য তসলিমের বক্তব্য, তার শাখায় জনবলের অভাব আছে। কিন্তু ট্রেড লাইসেন্স দিতে হলে সরেজমিন পরিদর্শন করতে হয়। তিনি অফিসে না থাকলে অফিস ফাঁকা হয়ে যায়। অন্য কাজ বন্ধ থাকে। এ জন্য তারা একটু সহযোগিতা করে।

এ প্রসঙ্গে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, তিনি এর আগে অভিযান চালিয়ে এ রকম বহিরাগতদের কয়েকজনকে ধরে পুলিশেও দিয়েছিলেন। কিন্তু সব সময় আঞ্চলিক অফিসে যাওয়া সম্ভব হয় না।খোজ নিয়ে জানা গেছে ঢাকা উওর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রাজত্ব অঞলগুলো নানা অনিয়ম দুর্নীতি মুক্ত হয়নি। কৌশলে সেবাগ্রহিতাদের কাছ থেকে নানা উছিলায় অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ কাটলে গেলে ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকেও উৎকোচ নেয়া হয়।

এ জাতীয় আরো খবর