1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. shaker@dailykhabor24.com : shaker :
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

দুদলের ভোটে বড় ব্যবধান

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

চতুর্থ ধাপের ৫৪টি পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। এর মধ্যে ৫২টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পেয়েছেন প্রদত্ত ভোটের ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট। সংখ্যার হিসাবে, এ ৫২টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পেয়েছেন ছয় লাখ সাত হাজার ৬১৮ ভোট।

আর ৫১টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৩৭৮ ভোট। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিল না। এছাড়া এ নির্বাচনে বিএনপির ২৩ জন মেয়র প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।

চতুর্থ ধাপের ফল বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। এতে আরও দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) তুলনায় কাগজের ব্যালটে পৌরসভাগুলোতে গড়ে বেশি সংখ্যক ভোট পড়েছে।

রোববার ৫৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫৪টিতে ভোট হয়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাওয়ায় সেখানে শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট হয়েছে।

চারটি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় নরসিংদী ও দুটি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভার ফল ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় এ দুটি পৌরসভার বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো বাদে বাকি সব কেন্দ্রের ফলাফল একীভূত করেছে।

একীভূত ফলাফলে দেখা গেছে, এসব পৌরসভায় ১৬ লাখ ১৪ হাজার ১১১টি ভোটের মধ্যে মেয়র পদে পড়েছে ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩১ ভোট; যা মোট ভোটের ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি হারে ভোট পড়েছে বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভায়। কাগজের ব্যালটে অনুষ্ঠিত এ পৌরসভায় ৯২ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অপরদিকে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে চট্টগ্রামের পটিয়ায়।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া এ পৌরসভায় পড়েছে ৪৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। আরও দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ৪৭টিতে, বিএনপি একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চারটিতে মেয়র পদে জয় পেয়েছেন।

নরসিংদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আমজাদ হোসেন বাচ্চু ও ডামুড্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম এগিয়ে রয়েছেন।

এ ধাপের পরশুরাম পৌরসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আগেই জয় পান। এ নিয়ে চতুর্থ ধাপে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৮টিতে।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, বর্জনের মধ্য দিয়ে রোববার চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্তত ১১টি পৌরসভায় সহিংসতার খবর পাওয়া যায়।

ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্রার্থীর ভাই মারা যান। যদিও ইসি ভোট ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে।

এর আগে তিন ধাপে ১৪৭টি পৌরসভায় ভোট হয়। ওই ১৪৭টিতে আওয়ামী লীগ ১১১টি, বিএনপি ৯টি ও স্বতন্ত্ররা ২৫টিতে মেয়র পদে জয় পান। চতুর্থ ধাপের ৫৩টিসহ মোট চার ধাপে ২০০ পৌরসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ করল ইসি।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ ১৫৯টি, বিএনপি ১০টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৯টিতে মেয়র পদে জয় পেলেন। বাকি দুটিতে দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র নির্বাচিত হন।

চতুর্থ ধাপের ৫২টি পৌরসভার ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, রোববার ২৯টিতে ইভিএম ও বাকি পৌরসভাগুলোতে কাগজের ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কাগজের ব্যালটে ভোট হয়েছে এমন পৌরসভাগুলোতে গড়ে বেশি ভোট পড়েছে।

ইভিএমে ভোট হওয়া একটি মাত্র পৌরসভায় ৮০ দশমিক ১৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। সেটি হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ। এ পৌরসভায় ৩২ হাজার ৯৭৯ ভোটারের মধ্যে ২৬ হাজার ৪৩১ ভোট পড়েছে।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ মুনিরুল ইসলাম ১৫ হাজার ৭৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. ওজিউল ইসলাম পেয়েছেন নয় হাজার ৯৯৯ ভোট। বাকিগুলোতে ৭৫ শতাংশের কম ভোট পড়েছে।

অপরদিকে কাগজের ব্যালটে সবচেয়ে বেশি ৯২ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে বরিশালের বানারীপাড়ায়। ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে রাজশাহীর নওহাটা, তানোর ও তাহেরপুর, যশোরের বাঘারপাড়া এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভায়।

সবচেয়ে কম ৬৩ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে। বাকিগুলোতে ৬৪ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে।

ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, চতুর্থ ধাপের ৫২টি পৌরসভার মধ্যে ২৭টিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। বাকি ২৫টির মধ্যে তিনটি- লালমনিরহাট, রাজবাড়ী সদর ও ত্রিশাল পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

২২টিতে স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসেন। এছাড়া চতুর্থ ধাপের অন্তত ১৬টি পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা ভোট পাওয়ার দিক থেকে হাজারের কোঠা পেরুতে পারেননি।

ওইসব পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পান। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাগেরহাট সদর পৌরসভা। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের খান হাবিবুর রহমান ১৮ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়েছেন।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. সাইদ নিয়াজ হোসেন মাত্র ৩৩৮ ভোট পেয়েছেন। এ পৌরসভায় ৩৮ হাজার ২০০ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১৯ হাজার ২৪৭জন; যা মোট ভোটের ৫০ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

একই চিত্র দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভা নির্বাচনে। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ার হোসেন ১৪ হাজার ৬২৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. এহসান কুফিয়া পেয়েছেন ৬৯৭ ভোট।

এছাড়া যেসব পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীর ভোট হাজারের কোঠা পেরোনি সেগুলো হচ্ছে- রানীশংকৈল, কালাই, তাহেরপুর, জীবননগর, বাঘারপাড়, মুলাদী, বানারীপাড়া, মাধবদী, নগরকান্দা, আখাউড়া, দাউদকান্দি, রামগতি ও চন্দনাইশ।

বিএনপির ২৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত : পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির ২৩ মেয়র প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, পৌরসভা নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

পৌরসভাগুলো হচ্ছে- রানীশংকৈল, কালাই, বড়াইগ্রাম, তাহেরপুর, জীবননগর, চৌগাছা, বাঘারপাড়া ও বাগেরহাট। আরও রয়েছে মুলাদী, গোপালপুর, বাজিতপুর, মিরকাদিম, মাধবদী, রাজবাড়ী, নগরকান্দা, আখাউড়া, দাউদকান্দি, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ, রামগতি, পটিয়া, চন্দনাইশ ও ত্রিশাল।

এ জাতীয় আরো খবর