1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:৩৬ অপরাহ্ন

শান্তির খোঁজে তারকাদের ধর্মের পথে ফেরা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ: মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে, অন্যদিকে ক্ষমা করা মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম গুণ। এমন বাস্তবতায় ধর্মের পথে ফেরা প্রশংসনীয়। অবশ্যই ফেরাটা হতে হবে, স্বার্থ-শর্তহীন এবং পরিপূর্ণ ও স্থায়ী। পবিত্র কোরআনের আহ্বান—‘তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করো…।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৮)

করোনাতাণ্ডবে বিশ্বের আজ ত্রাহিদশা। ঘরবন্দি এখন সবাই, ব্যতিক্রম নন শোবিজ ও নানা অঙ্গনের তারকারাও। কারো সময়টা যাচ্ছে বন্দেগিতে, কেউ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় সমবেত হওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন এবং কেউ দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারে টানছেন যবনিকা।

সম্প্রতি দীর্ঘ ১৬ বছরের আলোকোজ্জ্বল দুনিয়াকে মড়ড়ফ নুব বললেন মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। উদ্দেশ্য, ধর্মের পথে জীবন পরিচালিত করা। সুজানার ভাষায়, ২০১৮ সালে ওমরাহ পালনে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। বর্তমান করোনা সংকটে ঘরে কোরআন-হাদিসের চর্চায় তাঁর জীবনে নতুন উপলব্ধি আসে। মনে হলো মিডিয়া তাঁর জন্য নয়। এ জন্যই অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে অভিনয় ত্যাগের ঘোষণা দিলেন মডেল ও অভিনেত্রী এ্যানি খান। ধর্মকর্মে জীবন কাটানোর জন্য ২৩ বছরের ক্যারিয়ারকে বিদায় জানালেন তিনি। এ্যানি বলেন, ‘করোনার কারণে গৃহবন্দি থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছি। কোরআন-হাদিসের চর্চায় কাটে দিনকাল। মুসলমান হিসেবে ধর্মের বিষয়গুলো যতই জানছি, ততই জ্ঞান বাড়ছে। অনন্তকালের জন্য কিছু জমা করতে চাই, এই পেশা আমাকে আর টানছে না, তাই সরে আসার সিদ্ধান্ত।’

কেনিয়ার উদ্যোক্তা, মডেল ও নন্দিত বেতার উপস্থাপক তানাশা দোনা বারবিয়ারি। ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর নাম রেখেছেন আয়েশা। তাঁর স্বামী মুসলমান এবং বারবিয়ারিও ধরলেন ইসলামের পথ। গেল ২৫ এপ্রিল তিনি ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার জানান দেন বন্ধু মহলে।

বিখ্যাত ব্রিটিশ জামাইকার নন্দিত নৃত্যশিল্পী লিসা মার্সেদেজ, তাঁর ধর্মের পথে আসা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগে আমি নাচ করতাম। তখন খোলামেলা পোশাক পরতাম। কিন্তু এখন প্রায় সব সময়ই হিজাব পরি।’

কভিড-১৯ ঝড়ে একরকম গৃহবন্দি অস্ট্রেলিয়ার রেসলিং তারকা উইলহেলম। তিনি অবসরে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন ইসলামী জ্ঞান-গবেষণায়। নিজের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘করোনা সংকট আমার বিশ্বাস খুঁজে পেতে সহায়ক হয়েছে। আমার ধর্মবিশ্বাস এখন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং আমার প্রকৃত সত্তাকে চিনতে পেরেছি, তাই আমি গর্বের সঙ্গে কালেমা পড়ে মুসলমান হলাম।’

তারকাদের ধর্মের পথে ফেরা প্রসঙ্গে দুটি ধারা রয়েছে—

(ক) ইসলাম সম্পর্কে পড়ে বুঝে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর,

(খ) জন্মসূত্রে মুসলমান, দীর্ঘ গ্লানিকর জীবনের পর ইসলামের পথে ফেরা।

ধর্মান্তরিতের ক্ষেত্রে আগের কৃতকর্মের দায় নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা কুফরি করে, তাদের বলে দাও, তারা যদি (কুফরি থেকে) বিরত হয়, তাহলে অতীতে যা কিছু হয়েছে, তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে…।’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৩৮)

প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণ আগের সব পাপ মোচন করে দেয়…।’ (মুসলিম)

জন্মসূত্রে মুসলমান নিজের ভুল বুঝে সংশোধিত হলে, তারও আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হওয়া নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন…।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৫৩)

তবে আগের কৃতকর্মের জন্য তাওবা করা জরুরি। মানুষ ভুল ও পদস্খলনের শিকার। গুনাহ করা তার স্বভাবগত অভ্যাস। কিন্তু উত্তম গুনাহগার ওই ব্যক্তি যে গুনাহর কারণে লজ্জিত হয়। আল্লাহর কাছে অশ্রু বিসর্জন দেয়। তাঁরই দিকে ফিরে আসে। করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ভবিষ্যতে গুনাহ না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।

তাওবা মূলত তিন জিনিসের সমষ্টির নাম। এক. বিগত দিনগুলোতে যে গুনাহগুলো হয়ে গেছে এর মন্দ পরিণামের ভয়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্তরে খুব অনুশোচনা সৃষ্টি হওয়া। দুই. তত্ক্ষণাৎ গুনাহ করা ছেড়ে দেওয়া। তিন. সামনের দিনগুলোতে গুনাহ না করার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিমতো তাঁর আনুগত্য করে চলার সংকল্প গ্রহণ করা। এই তিন জিনিস পরিপূর্ণভাবে পাওয়া গেলে তাওবা পূর্ণাঙ্গতা পায়।

কিয়ামত পর্যন্ত তাওবা কবুল হবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ রাতে তাঁর হাত সম্প্রসারণ করেন, যাতে দিনের পাপীরা তাওবা করতে পারে। আবার দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতের পাপীরা তাওবা করতে পারে। এ অবস্থা সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া (কিয়ামত) পর্যন্ত চলতে থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৫৯)

মৃত্যু পর্যন্ত তাওবা কবুলের সুযোগ আছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রুহ গলদেশে এসে আটকাবার আগ পর্যন্ত আল্লাহপাক বান্দার তাওবা কবুল করেন।’ (মিশকাত, হাদিস : ২৩৪৩)

মহান আল্লাহ আমাদের তাওবার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর

বিজ্ঞাপন