1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০ অপরাহ্ন

শিক্ষায় নতুন রূপরেখা বাস্তবায়নে প্রয়োজন মানসম্মত পাঠ্যবই

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষাব্যবস্থা বদলে প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন রূপরেখা। আসছে আমূল পরিবর্তন। আমূল এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক বলছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, মাধ্যমিক পর্যন্ত একমুখী এই শিক্ষা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে এজন্য প্রয়োজন মানসম্মত পাঠ্যবই, প্রশিক্ষিত ও মেধাবী শিক্ষক। এর সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে শিক্ষায়। আর নতুন সংযোজনে করতে হবে বিস্তর গবেষণা।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই পরিবর্তনে মাধ্যমিক পর্যন্ত থাকছে না কোনো বিভাগ-বিভাজন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সবাইকে পড়তে হবে ১০টি বিষয়। দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপরই অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভাগ পছন্দ করতে হবে। একাদশ শ্রেণি শেষে পরীক্ষা এবং দ্বাদশ শ্রেণি শেষে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই দুই পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে তৈরি হবে এইচএসসির ফল। এ ছাড়া প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকছে না। চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে হবে আটটি বই। তবে সব শ্রেণিতেই শিখনকালীন মূল্যায়নেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রাধান্য দেওয়া হবে হাতে-কলমে অর্থাৎ কারিগরি শিক্ষা।

শিক্ষায় এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনে যথেষ্ট গবেষণা দরকার। আমি বিশ্বাস করতে চাইব, এ নিয়ে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক দেশেই এ ধরনের শিক্ষা কাঠামো রয়েছে। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো। শিক্ষায় বিনিয়োগ না করলে কোনো পদ্ধতি কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, উন্নতমানের ও মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে, যাতে করে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক পড়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে। অসংখ্য ভালো শিক্ষকের প্রয়োজন পড়বে। শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষার পরিবর্তনটি আনতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, আগেও এক সময় নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ-বিভাজন ছিল না। মাধ্যমিকের একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে বিভাগ পছন্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অভিভাবকরা তার সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেন। অনেকেই মনে করে মানবিক পড়লে স্ট্যাটাস থাকে না। কিন্তু মাধ্যমিকে বিজ্ঞানে পড়ে কলেজে গিয়ে মানবিক নিয়ে পড়াশোনা করছে। তিনি বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে তো একজন শিক্ষার্থীকে সব বিষয় জানতে হবে। নতুন রূপরেখায় এ বিষয়গুলো থাকলে অবশ্যই তা যুক্তিসঙ্গত ও সময়োপযোগী হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় সবসময়ই পরিবর্তন প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পর এ নিয়ে অনেক নেতিবাচক ধারণা থাকলেও এর সুফল এখন মিলছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই সবাই নতুন পরিবর্তন আয়ত্ত করে ফেলবেন বলে তিনি মনে করেন।

প্রাথমিকের পড়াশোনার সঙ্গে মাধ্যমিকের কোনো ধারাবাহিকতা নেই। বর্তমান শিক্ষাক্রমে একজন শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পরই প্রচণ্ড চাপ নিতে হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে ছয়টি বই পড়লেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দ্বিগুণ হয়ে যায়। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা নাকি মানবিকÑ কোন বিভাগে পড়বে তা ঠিক করতে হয়। কিন্তু মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওই শিক্ষার্থী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ফলে অভিভাবক বা শিক্ষকরা যেকোনো একটি বিভাগ তার ওপর চাপিয়ে দেন। এতে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী হয়তো জোর করে বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা বিষয় নিয়ে পড়ছে। মুখস্থের ওপর ভর করে নম্বর পেলেও প্রকৃত অর্থে সে বিষয়গুলো আত্মস্থ করতে পারে না। এ ছাড়া একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকায় সামগ্রিক বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয় না।

নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়নে ২০১৭ সালে কাজ শুরু করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তখন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে দুটি কমিটি করা হয়। এরপর আবার ১০ জন শিক্ষাবিদ নিয়ে ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিভিশন কোর কমিটি’ গঠন করা হয়। গত বছরের শেষদিকে তারা ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা, প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি’ নামে ১১৪ পৃষ্ঠার রূপরেখা জমা দেন। এই রূপরেখার ওপর বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদদের মতামত নেয় এনসিটিবি। এরপর তা ন্যাশনাল কারিকুলাম কো-অর্ডিনেশন কমিটির (এনসিসি) কাছে পাঠানো হয়। এর আলোকেই পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডেসি) পরীক্ষা থাকছে না।

নতুন শিক্ষাক্রম উপস্থাপনকালে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দঘন শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে। এ শিক্ষাক্রম পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ প্রাথমিক ও ১০০ মাধ্যমিক স্কুলে আগামী বছর থেকে শুরু করা হবে। তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। ২০২৪ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণি এ শিক্ষাক্রমের আওতায় আসবে। ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণি যুক্ত হবে। ২০২৬ সালে একাদশ ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণি যুক্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর