1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ, বিরত ভারত

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

শ্রীলঙ্কায় তামিলদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধকালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার ইস্যুতে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীন। ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল ভারত। এ নিয়ে অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাটে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, ডিপ্লোম্যাট রিস্ক ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা বিষয়ক পরিচালক অভিজনান রেজ। এতে তিনি লিখেছেন, মঙ্গলবার ২৩শে মার্চ শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে ৪৭ সদস্যের জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে (ইউএনএইচসিআর)। এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ২২টি সদস্য দেশ। তবে ‘প্রোমোটিং রিকনসিলিয়েশন, একাউন্টেবলিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ইন শ্রীলঙ্কা’ শীর্ষক ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান। ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল ভারত। ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকা এই ভোটকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসের জন্য একটি এসিড টেস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

তার সরকার এই প্রস্তাব বা ভোটকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে।

অভিজনান রেজ আরো লিখেছেন, এই প্রস্তাবে শ্রীলঙ্কায় তামিল সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। এতে শ্রীলঙ্কা সরকারকে গৃহযদ্ধের সময় ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের আইন মারাত্মক আকারে লঙ্ঘনসহ সব যুদ্ধাপরাধের দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ এবং পক্ষপাতিত্বহীন তদন্ত নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীনেশ গুনাবর্ধনা সপ্তাহান্তে বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে তাকে পরাজিত করার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে অনেক বন্ধুদেশ আমাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আমরা আশা করি, এতে ভারতও আমাদেরকে সমর্থন করবে।

একই সময়ে শ্রীলঙ্কায় জাতিগত তামিলদের রাজনৈতিক সংগঠন তামিল ন্যাশনাল এলায়েন্স (টিএনএ) একটি প্রতিক্রিয়া দেয়। ভারত এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে বলে তারা আশা করেছিল। একই সময়ে ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন, টিএনএর মুখপাত্র এবং জাফনার আইনপ্রণেতা এম.এ সুমানথিরান। তিনি বলেছেন, ভারত এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকবে এটাই আমাদের বড় প্রত্যাশা। শ্রীলঙ্কার অখ-তার জন্য এটা জরুরি। তবে ভোটের আগেই ভারত একটি বিবৃতি দিয়েছিল। তাতে তারা শ্রীলঙ্কায় তামিলদের অধিকারকে যেমন সমুন্নত রাখায় সমর্থন করে। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অখন্ডতায়ও সমর্থন করে। তারা বলেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসের উচিত হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রাসঙ্গিক রেজুলেশন অনুসরণ করা।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতের অবস্থান একই সঙ্গে বৈদেশিক ও আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে জাতিগত তামিল সংখ্যাগরিষ্ঠদের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারিত হয়। এই রাজ্যে দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা কাজাগাম নেতা এমকে স্টালিনসহ প্রথম সারির প্রথিতযশা রাজনীতিকদের একটি গ্রুপ গত ২১শে মার্চ নয়া দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের ওই প্রস্তাবনাকে সমর্থন দিতে। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে স্টালিন বলেছেন, ভারতের অবস্থানের দিকে তাকিয়ে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছে তামিলরা। তবে এটা বেদনার যে, ভারতের অবস্থান কি হবে সে বিষয়ে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র সচিবকে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছে বিজেপি সরকার। যদি তামিলদের স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, তাহলে সারাবিশ্বের ৯ কোটি তামিল কোনোদিন তা ভুলে যাবে না।

উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে আগামী মাসেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু এক্ষেত্রে ভোটদানে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে মতবিরোধকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। মোদি সরকার আশা করছে, তারা একই সঙ্গে দেশের ভিতরে তামিলদের ক্ষোভকে ব্যবহার করবে এবং একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক খেলা চালিয়ে যাবে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে গোটাবাইয়া রাজাপাকসে ক্ষমতায় ফেরার পর মনে হচ্ছিল ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরছে। কিন্তু সম্প্রতি যেসব জটিলতা তৈরি হয়েছে তাতে নয়া দিল্লির জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর