1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

সমন্বিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা গ্রহণযোগ্য নয়, আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন-আবীর আহাদ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১
  • ৩২৮ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান লেখক গবেষক আবীর আহাদ গত ২৮ জুলাই জামুকা ঘোষিত উপজেলাভিত্তিক সমন্বিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকাকে ভুয়ায় ভরা অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ‘৭২ সালের মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে নানান গোঁজামিল সংজ্ঞা, প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশিকার আশ্রয়ে দীর্ঘ তথাকথিত যাচাই বাছাই অন্তে সম্প্রতি প্রকাশিত উপজেলাভিত্তিক সমন্বিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকার মধ্যে বিপুলসংখ্যক অমুক্তিযোদ্ধা এমনকি রাজাকারদেরও নাম থাকায় এ তালিকা প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে মাননীয় হাইকোর্ট বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ নির্ধারণের মৌলিক সংজ্ঞা ধরে নিয়ে অন্যান্য সংজ্ঞা, লাল মুক্তিবার্তাসহ অননুমোদিত নির্দেশিকায় যেসব মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করা হয়েছে তা কেনো বেআইনি ও কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে গণ্য হবে না, সেবিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল/মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তথা সরকারের প্রতি রুলনিশি জারি করেছেন। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে উক্ত রুলের জবাব প্রদানসহ আদালতের ফাইনাল রায় না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখাই সমীচীন হবে। অন্যথায় তা হবে আদালত অবমাননার সামিল।
আজ এক বিবৃতিতে উপরোক্ত মন্তব্য প্রদান করে আবীর আহাদ বলেন, আমরা বহুপূর্ব থেকে বলে আসছি যে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হলো জাতীয় গরিমা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার বিষয়। এর সাথে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্যাদার প্রশ্ন জড়িত । জড়িত বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের পবিত্রতার প্রশ্ন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত জনগণের আবেগ ও অনুভূতির প্রশ্ন। এ নিয়ে কোনো প্রকার ছলচাতুরি, বাণিজ্যিক ধান্দা ও প্রতারণা চলতে পারে না।
আবীর আহাদ বলেন, আমরা রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা বড়ো বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করে আসছি যে, অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার থেকে শুরু করে চলমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারিভাবে কমবেশি ২ লক্ষ ৩৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। তথাকথিত যাচাই বাছাই অন্তে এখন যে তথাকথিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তা পূর্বের তালিকারই নয়া সংস্করণ। অর্থাত্ তালিকায় হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা এমনকি রাজাকার রয়েই গেছে! অমুক্তিযোদ্ধা উচ্ছেদের জন্যে যাচাই বাছাইয়ের নামে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয়সহ বিশাল বাণিজ্যিক ধান্দার মাধ্যমে ভুয়াদের পার করে আনা হয়েছে!মূলত: যাচাই বাছাই ছিলো একটা আইওয়াশ প্রক্রিয়া। এ তালিকা প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে ছিলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নিরন্তর গবেষণাকর্মে নিয়োজিত আছি তারাই জানি মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কতো। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা নির্ণয়ে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালে যে সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন, সেটিকে মূল ধরে আগালে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি হবে না। সংগতকারণে বঙ্গবন্ধু সরকারের মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞাটি এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। সেটি হলো : ঋৎববফড়স ঋরমযঃবৎং (ঋঋ) সবধহং ধহু ঢ়বৎংড়হ যিড় যধফ ংবৎাবফ ধং ধ সবসনবৎ ড়ভ ধহু ভড়ৎপব বহমধমবফ রহ ঃযব ডধৎ ড়ভ খরনবৎধঃরড়হ——[ মুক্তিযোদ্ধা মানে একজন ব্যক্তি যিনি মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত যেকোনো সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য হিশেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ]। এটাই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা। সম্প্রতি মাননীয় হাইকোর্টও বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞাকে মৌলিক সংজ্ঞা ধরে অন্যান্য তথাকথিত সংজ্ঞা, নির্দেশিকা, বিশেষ করে লাল মুক্তিবার্তা কেনো বেআইনি ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না—-এসব বিষয়ে সরকারের প্রতি একটি রুলনিশি জারি করেছেন। মূলত বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার বাইরে মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব প্রমাণক, ২০১৬ সালের তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা ও নির্দেশিকা চালিয়ে দেয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক, আত্মীয়তা ও রাজনৈতিক বিবেচনার দৃষ্টিভঙ্গি যা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আবীর আহাদ বলেন, অতীত বিএনপি- জামায়াত জোট সরকারের ফর্মুলায় আওয়ামী লীগ সরকার জামুকা নামক যে কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করেছেন,এই জামুকার চেয়ারম্যান (মুবিমমন্ত্রী)সহ এর সদস্যরা তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে শুধু জটিলতাই সৃষ্টি করে আসছেন। এদের দিয়ে রাজাকারদের তালিকা করাতে গিয়ে যে হযবরল হয়েছিলো,ঠিক তেমনি এদের হাত দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গোঁজামিলের তালিকাই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ! কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তো বটে, গোটা বাঙালি জাতি কোনো তামাশা ও ছেলেখেলা দেখতে চায় না। অপরদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গোঁজামিলের তালিকা জাতির পিতার কন্যার হাত দিয়ে অনুমোদিত হয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবে তা ভাবাই যায় না!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবীর আহাদ বলেন,বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা দ্বারা কেবলমাত্র সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারাই ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে গণ্য হবেন। এ সংজ্ঞার আলোকে মুজিবনগর সরকারের নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডের অধীনস্থ সেনা-বিমান-নৌ বাহিনী, বিজিবি,পুলিশ,আনসার, এফএফ-গণবাহিনী,বিএলএফসহ দেশের অভ্যন্তরে গড়েওঠা কাদেরীয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, হালিম বাহিনী, আবসার বাহিনী, আকবর বাহিনী ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য—সবাই বঙ্গবন্ধুর সংজ্ঞার মুক্তিযোদ্ধা বলে গণ্য হবেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,তৎকালীন এমসিএ,কূটনীতিকবৃন্দ, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, স্বাধীনবাংলা বেতারের কলাকুশলী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিত্সক, ফুটবলার প্রভৃতি অ-সশস্ত্র ব্যক্তিবর্গও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেয়া হোক তা আমরাও চাই। তবে সবাইকে গড়ে “বীর মুক্তিযোদ্ধা” বলে দেয়া হবে চরম ইতিহাস বিকৃতি। মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্মপ্রক্রিয়ার নিরিখে যার যার ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে হবে। যেমন একজন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বংশিবাদক বা একটি গানের দোহাড় বা একজন ফুটবল দলের সদস্য মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে অবগাহন করা শত্রুকে মেরে, নিজে মরে বা বুলেট ও গ্রেনেডে হাত পা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তির সমান্তরাল হতে পারেন না। যার যার কর্মপ্রক্রিয়া বিচার-বিবেচনা করা হলে যার যার অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়; কারো সঙ্গে কারো সংঘর্ষ বাঁধার অবকাশ থাকে না। সুতরাং সশস্ত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একদিকে রেখে,অন্যান্যদের যার যার কর্মপ্রক্রিয়া অনুযায়ী অন্য যেকোনো ঐতিহাসিক অভিধায় স্বীকৃতি দেয়া যেতেই পারে।
পরিশেষে আবীর আহাদ বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা এমনকি রাজাকাররাও স্থান পাচ্ছে, যে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করার নামে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞাকে অবমাননা করার মাধ্যমে তাঁকেই অপমান করা হচ্ছে, যে মুক্তিযোদ্ধা তালিকার মধ্যে বিশাল বাণিজ্যিক ধান্দা রয়েছে, যে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয়ে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও মর্যাদায় বিশালসংখ্যক অমুক্তিযোদ্ধা ভাগ বসিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধাদি লুটপাট করছে—-এমনই একটি কলঙ্কজনক তালিকাকে অনুমোদন দিয়ে নিশ্চয়ই মহলবিশেষের চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়ে তিনি নিজের ভাবমূর্তিকে বিসর্জন দিয়ে ইতিহাসের পাতায় বিতর্কিত হবেন না।

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর