1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২০ অপরাহ্ন

সশস্ত্র জঙ্গিদের অপতৎপরতা: নজরে হিন্দালের মাস্টারমাইন্ডরা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের ভূখণ্ড বিচ্ছিন্নের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন ‘কেএনএফ’-এর অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া জঙ্গিদের মাস্টারমাইন্ড বা মূল হোতারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র ব্যানারে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ঘরছাড়া উঠতি তরুণদের কেএনএফের তত্ত্বাবধানে অস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণে এই মাস্টারমাইন্ডরাই মূল ভূমিকা পালন করেছে।

এ কারণে গোয়েন্দারা মূল টার্গেটে রেখেছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ এবং ওই জঙ্গি সংগঠনের মূল হোতাদের। ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নাথান বম এবং ওই জঙ্গি সংগঠনের আমির আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদ এবং প্রধান উপদেষ্টা শামিন মাহফুজ ওরফে শামিন স্যার ওরফে ম্যানরিং মুরংসহ নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের গতিবিধির দিকে সর্বাধিক নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।

সম্প্রতি বান্দরবান ও রাঙামাটিতে র‌্যাবের যৌথ অভিযানে সশস্ত্র জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সংগঠন কেএনএফের তিন সদস্য ও প্রশিক্ষণ নেওয়া সাতজনসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই ১০ জনকে গ্রেফতারের পর জট খুলতে থাকে নতুন জঙ্গি সংগঠনের মাস্টারমাইন্ড ও অর্থদাতাদের নাম। গত ২১ অক্টোবর এ সংক্রান্ত রাঙামাটি জেলার ঝিলাইছড়ি থানায় মামলা করে র‌্যাব। মামলার এজাহারে কেএনএফ সদস্য ও জঙ্গিদের আমির এবং শূরা সদস্যসহ ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে পলাতক রয়েছে আরও ৫৮ জন।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কেএনএফ নেতা নাথান বম ও নতুন জঙ্গি সংগঠনের আমির আনিছুর রহমানসহ অন্তত আরও ৩০ জনকে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছে। আর শামিন মাহফুজকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছে। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পাহাড়ে জঙ্গি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরা অভিযান চলমান রাখব। গত রোববার থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেখানে অভিযান ধীরগতিতে চলছে। আবহাওয়া ঠিক হলে ফের অভিযান চালাবে র‌্যাব।’

গোয়েন্দাদের তথ্য মতে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে দেশ ও র‌্যাবের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করা। এর পাশাপাশি তাদের উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা, গুরুতম জখম করা কিংবা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি বা ধ্বংস করার সক্রিয় ষড়যন্ত্র। এসব বাস্তবায়নের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র চালানো, বোমা তৈরি করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করা উদ্দেশ্য ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

র‌্যাবের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ অক্টেবর থেকে রাঙামাটি ও বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনের সামরিক প্রশিক্ষণের স্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করলে বিষয়টি টের পেয়ে যায় সামরিক প্রশিক্ষণরত জঙ্গিরা। তারা বিলাইছড়ির রামযোদানের উঁচু পাহাড় থেকে সরে যায়। ওই তথ্য পাওয়ার পরপরই র‌্যাব সদস্যরা ১৪ অক্টোবর বিকালে বিলাইছড়ির আইঙ্গাছড়া এলাকায় পাহাড়ের ঢালে গেলে সশস্ত্র জঙ্গি ও তাদের সহায়তাকারী পাহাড়ি সশস্ত্রগোষ্ঠীরা র‌্যাবের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। র‌্যাব আত্মরক্ষার্থে সেখানে এলএমজি ২৩৪ রাউন্ড, এসএমজি ৩৯০ রাউন্ড ও বিডি ৮ রাইফেলের ১৮৪ রাউন্ডসহ ৮০৮ রাউন্ড গুলি এবং ৭৫ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এর একপর্যায়ে সশস্ত্র জঙ্গিরা গভীর জঙ্গলে আত্মগোপন করে।

এরপর টানা ছয় দিন আত্মগোপনে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ২০ অক্টোবর ফের অভিযানে নামে র‌্যাব। একপর্যায়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে রাঙামাটির বিলাইছড়ি সাইজাম পাহাড়ের ঢালে দুর্গম ও গভীর জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠনের শূরা সদস্য সৈয়দ মারুফ আহমেদ ওরফে মানিক ও কেএনএফ সদস্য জৌথান স্যাং বমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবান শহর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও আটজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এজাহার থেকে আরও জানা যায়, কথিত ‘হিজরতের’ নামে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘরছাড়াদের দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে কেএনএফের সঙ্গে ২০২১ সালে তিন বছরের জন্য চুক্তি করে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় দিয়ে আসছিল কেএনএফ।

এ মামলায় জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার আমির আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদ ও ছয় শূরা সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। অন্য সুরা সদস্যরা হলো-মারুফ হোসেন, মোশারফ হোসেন, আবদুল্লাহ মায়মুন, মাসুকুর রহমান, শামিন মাহফুজ ওরফে শামিন স্যার ওরফে ম্যানরিং মরং ও ভোলার শায়েখ ওরফে দাদু ভাই। তাদের মধ্যে শূরা সদস্য শামীম মাহফুজ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ ২০১১ সালে বিজিবির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানচি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছিল।

মামলায় কেএনএফের প্রধান নাথান বম ছাড়াও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়। তারা হলো-কেএনএফের চিফ অব স্টাফ ও সহ-সভাপতি ভাং চুং লিয়ান, মুখপাত্র মুইয়া ওরফে উইলস, আইন ও জনসংযোগ শাখার লালমুন ঠিয়ালা ওরফে কর্নেল সলোমান, মেডিকেল শাখার বমলুন সাং ওরফে লিউন, পররাষ্ট্র লিয়াজোঁ শাখার পা মিং, লজিস্টিকস (রসদ) শাখার ‘মেজর’ লারবাম মুই ওরফে জামপুই ও লজিস্টিকস (অস্ত্র ও ইউনিফর্ম) শাখার লাল সাং রেম ওরফে স্টুয়ার্ট।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হরকাতুল জিহাদ, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসার আল ইসলামের কিছু সদস্য মিলে ২০১৭ সালে নতুন করে উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৯ সাল থেকে তারা জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। আমির মো. আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদের নেতৃত্বেই উগ্রবাদী সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে। নতুন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে গত ২৩ আগস্ট কুমিল্লা থেকে আট কলেজছাত্র নিখোঁজ হন। কিছুদিন পর তাদের একজন ফিরে এলে এই আটজনের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ‘হিজরতের’ নামে ঘর ছাড়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, নতুন জঙ্গি সংগঠনের আমির আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার সদর এলাকায়। তার বাবার নাম মো. মোখলেছুর রহমান। মায়ের নাম রুফিয়া খাতুন। জন্ম ১৯৮৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর।

নতুনভাবে উগ্রপন্থিদের চাঙ্গা করতে নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন আনিছুর ও সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শামিন মাহফুজ। ২০১৮ সালে শামিন আনসার আল ইসলামের একজন শীর্ষ নেতা মাইনুল হাসান রক্সির সঙ্গে নতুন সংগঠন তৈরির জন্য কাজ করতে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গাইবান্ধার বাসিন্দা শামিন গবেষণার নামে পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা তৈরি করেন। ২০১১ সালে বান্দরবানে পাহাড়ে জমি বরাদ্দ নিয়ে কৃষি খামারের আড়ালে জঙ্গি আস্তানা তৈরি করেছিলেন।

পরে বিজিবি তাকে আটক করে। কিন্তু জামিনে বের হয়ে এসে আবারও তিনি নতুন উদ্যমে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম চালাতে থাকেন। শামিন মাহফুজের সঙ্গে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমানমারের সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকাভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। নাথানের সহযোগিতায় পাহাড়ি এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলে জঙ্গিদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, আনসার আল ইসলাম ও হুজিবি থেকে সদস্য এনে নতুন এই জঙ্গি প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে শামিনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শামিনের বিরুদ্ধে বান্দরবানের থানচি ও যাত্রাবাড়ী থানায় পাঁচটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়াও পাহাড়ে প্রশিক্ষণ, ভারী অস্ত্র সংগ্রহসহ জঙ্গি সংগঠনের মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক। পাহাড়ি ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা এক জঙ্গির কাছ থেকেও এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

এ বিষয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার নেতা শামিন মাহফুজসহ কয়েকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য এবং অর্থ জোগানদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

সূত্র: সময়ের আলো

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর