1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৪ অপরাহ্ন

সহপাঠীর চোখে বঙ্গবন্ধুকন্যা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মুক্তা গেছেন তার প্রিয় বান্ধবী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসায়। মুক্তার ড্রাইভারের শখ শেখ হাসিনাকে দেখার। তার দেখা করার কৌতূহল দেখে মুক্তা জিজ্ঞেস করলেন, কারণ কী? ড্রাইভার নিচুস্বরে জানালেন, তার বাড়ি মাদারীপুর। মাদারীপুরের ছেলে হিসেবে একবার দেখার শখ হচ্ছে। মুক্তা তার ড্রাইভারের ইচ্ছার কথা জানালেন শেখ হাসিনাকে। কোনো কথা না বাড়িয়ে শেখ হাসিনা নিজে হাতে নাশতা নিয়ে ড্রাইভারের সামনে হাজির। নাশতা হাতে বললেন, ধরেন, নাশতা খান। সে সময় ড্রাইভার গাড়ি মুছতে মগ্ন ছিলেন। শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া না দেওয়ায় মুক্তা নিজেই ডাকলেন। ফিরে তাকিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে দেখে ড্রাইভার রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান। তাকিয়ে থাকেন অনেকক্ষণ। আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মুক্তা আপা স্মৃতির জানালা খুলে বেশ কিছু ঘটনার কথা জানালেন। এটি ছিল একটি আশ্চর্য রকম স্মৃতিচারণ। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বান্ধবী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বিশাল মনের পরিচয় তুলে ধরেন তিনি।

 

মুক্তা ছিলেন শেখ হাসিনার আজিমপুর স্কুলের অনেক বান্ধবীর মধ্যে অন্যতম। নারী শিক্ষা মন্দির (বর্তমানে শেরেবাংলা

বালিকা মহাবিদ্যালয়) থেকে শেখ হাসিনা ক্লাস সেভেনে ভর্তি হন সেখানে। স্কুলে দাঁড়িয়াবান্ধা থেকে শুরু করে অনেক ধরনের খেলা চলত। টিফিনের ফাঁকে কাঁচা আম খাওয়া হতো- জানালেন মুক্তা আপা।

অনেক স্মৃতি মনের জানালায় মুক্তা আপার। কোনটা রেখে কোনটা বলবেন ভেবে পান না। আজিমপুর স্কুলে পড়তে গিয়ে মুক্তা আপা আর শেখ হাসিনার এক সময় ক্লাস ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু মনের মিল কখনও ভাগ হয়নি বলে জানালেন মুক্তা আপা। যোগাযোগ ছিল সবসময়। তবে মনে দুঃখ, শেখ হাসিনার বিয়ের সময় অনেক বান্ধবীর মতো মুক্তা আপা উপস্থিত হতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় জেলখানায়। যে কারণে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।

মুক্তা আপা জানালেন, বিয়ের পর আমিও করাচি চলে যাই স্বামীর চাকরির সুবাদে। কিন্তু মনের দিক থেকে আমরা কখনও বিচ্ছিন্ন হইনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ড শোনার পর আমি অনেক চেষ্টা করি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। মনটা আমারও খুব খারাপ হয়ে গেল। এক সময় শেখ হাসিনাকে টেলিফোনে পেলাম। সে সময় সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আমার আর করার কিছুই ছিল না।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আমি তার সঙ্গে দেখা করি। নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। বিরোধীদলের যখন নেত্রী ছিলেন তখন যেমন যোগাযোগ হতো, এই করোনাকালেও তা বিন্দুমাত্র কমেনি। একবার শেখ হাসিনার ইচ্ছা হলো সব বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করবে। আর এর একমাত্র পথ হচ্ছে আজিমপুর স্কুলের ছাত্রীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। আমাকে দায়িত্ব দিল পত্রিকায় একটি নিউজ দেওয়ার জন্য। আমি দিলাম ছোট করে। কিন্তু ছোট করে নিউজ দেখে শেখ হাসিনা বললেন, এত ছোট নিউজে কি সবাই আসবে? সবার তো চোখে পড়বে না। এরপর ঠিকই মোটামুটি সবাই এলো। এর আগে অবশ্য আজিমপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার পারমিশন নেই। আমরা সে সময়ের ঝালমুড়ি বিক্রেতাদের জড়ো করলাম।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি তো আমাদের পাত্তা না দিলেই পারতেন। কিন্তু তিনি সেই তার স্বভাবসিদ্ধ অনুযায়ী হইচই করে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠলেন। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি সবার সঙ্গে মন খুলে কথা বললেন। আমাদের তখন মনেই হয়নি তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি অনুষ্ঠানে এসে কিন্তু সারি সারি বেশ কয়েকটি গাছ রোপণ করলেন। তাও আবার কি গাছ। যেসব ফল মেয়েরা খায়, ঠিক সেসব গাছ। এই যেমন জাম্বুরা, আমলকী ইত্যাদি।
একবার আমাকে বললেন, যখন আমাকে ফোন করে পাবি না তখন একটা এসএমএস দিয়ে রাখিস। আমার সময়মতো ফোন করব। কারণ বেশিরভাগ সময় যোগাযোগটা হতো টেলিফোনে।

২০১৮ সালের কথা। স্মৃতি যেন চোখের সামনেই। আমরা কয়েক বান্ধবী মিলে দেখা করতে যাই। তখন আমাদের একটা করে ইলিশ মাছ আর একটা করে শাড়ি দিয়েছেন। এখনও ভাবি শেখ হাসিনা ইচ্ছা করলে আমাদের এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তার মনটা খুবই সরল আর আকাশের মতো উদার। সবসময় বান্ধবীদের খোঁজখবর নেন।

করোনাকালে শেখ হাসিনা গণভবনে। কোথাও বের হন না। এ সময়ে প্রায়ই টেলিফোনে কথা হতো। আমি জিজ্ঞেস করি, তোর সময় কাটছে কী করে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, লেকে বসে মাছ ধরি। পাল্টা প্রশ্ন করি, কোথায় আবার লেক পেলি? এই তো এখানে বড় লেক আছে। সেই মাছ ধরার ছবি আমাকে পাঠিয়েছিল। অবশ্য পরে সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

এক দিন আমাকে বলল, জানিস, নৌকায় ভাত খেতে বেশ মজা। এক দিন আমি ত্রাণ দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখি এক মাঝি তার নৌকায় বসে খুব মজা করে ভাত খাচ্ছে। আমার খুব লোভ হচ্ছিল। সেই ভাতের গন্ধ আমাকে আকুল করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক হিউমার করতে পারতেন। এত স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর