1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

সাঈদ খোকনের বিদায় বেলায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে পদোন্নতির হিড়িক

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ১৫০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি: নির্বাচিত নতুন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের এক সপ্তাহ আগে চাকরিবিধি ও আইনের তোয়াক্কা না করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) পদোন্নতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়ার হিড়িক চলছে।

বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনের দায়িত্বে থাকার মাত্র এক সপ্তাহ সময়ে এসে তড়িঘড়ি করে এমন অনৈতিক পদোন্নতিতে ডিএসসিসির ভেতরে-বাইরে বইছে সমালোচনার ঝড়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক সুত্র জানা বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে ডিএসসিসিতে উপ-কর কর্মকর্তা (ডিটিও) পদে ৩১ জন ও কর কর্মকর্তা (টিও) পদে সাতজনকে পদোন্নতি (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেয়া হচ্ছে। তবে এ পদোন্নতিতে ডিএসসিসির চাকরিবিধি বা আইনের ন্যূনতম অনুসরণ করা হয়নি।
দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ অনৈতিক পন্থায় পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তৃতীয় শ্রেণিতে থাকা কর্মকর্তাদের। তা ছাড়া পদোন্নতির এ ফাইল সংস্থাপন শাখা থেকে উপস্থাপন করার নিয়ম থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা করেছে রাজস্ব বিভাগ। প্রশ্ন উঠেছে মোটা অংকের অর্থের লেনেদেনের গন্ধ না পেলে এসময় পদোন্নতি কেন? রুটিন মাফিক পদোন্নতির কার্যক্রম বলা হলেও এটি কেউ বিশ্বাস করছে না। বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে। মেয়র সাঈদ খোকনের সম্মতি ছাড়া তো আর এসব অনৈতিক কাজ হতে পারে না।
এখানেই শেষ নয়, ফাইলে সংস্থার সচিবের স্বাক্ষর শেষে ডিএসসিসির মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) স্বাক্ষরের বিধান থাকলেও তাকে পাশ কাটিয়ে রাজস্বের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যাক ডেটে (পেছনের তারিখ) মেয়র ও সিইওর অনুমোদনের স্বাক্ষর করিয়ে সচিবের দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগে জানা যায়।
জানা গেছে, ডিএসসিসির জন্য সর্বশেষ প্রণীত তফসিল-২০১৯ অনুযায়ী ‘কোনো পদে কাউকে অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্ব প্রদান করতে হলে ওই পদের একধাপ নিচের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওই পদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।’
এ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ডিটিও পদের জন্য বিএ পাস নির্ধারিত থাকলেও এইচএসসি পাস লোকজনকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ডিএসসিসির লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার ইফতেখার হোসেন, রেভিনিউ সুপারভাইজার মো. আওলাদ হোসেন, রেভিনিউ সুপারভাইজার (চলতি দায়িত্ব) মোন্তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, রেভিনিউ সুপারভাইজার শনয় কুমার পালসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ মাধ্যমিক পাস কর্মচারীকে কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। অনুমোদিত ওই ফাইলের স্মারক নম্বর- ৪৬.২০৭.০০০.১০.০১.০৮৮১.২০১৯; তারিখ ১৯.১২.২০১৯।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান মেয়রের শেষ সময়ে এসে একটি মহল লুটপাটে বেসামাল হয়ে পড়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিশাল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে সাতজনকে কর কর্মকর্তা ও উপ-কর কর্মকর্তা পদে ৩১ জনকে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে।
তবে এ পদোন্নতিতে ডিএসসিসির চাকরিবিধি ও আইন কোনোটির বিন্দুমাত্র মানা হয়নি। এমনকি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এ মহামারীতে ত্রাণ বিতরণে অধিকতর মনোযোগী না হয়ে চক্রটি এ ধরনের অবৈধ লেনদেনের বিষয় নিয়েই বেশি ব্যস্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে এসব পদোন্নতি (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেয়ার পাশাপাশি কিছুদিন পর এসব পদই তাদের মূল পদ করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন এ চক্রের মূল হোতা রাজস্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
এমনকি নতুন মেয়র যোগদানের পর তাদের এসব পদ থেকে অপসারণ করতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে তা স্থগিত করা যাবে বলেও এ জাতীয় দু-একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন রাজস্ব শাখার ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ পদোন্নতি বাস্তবায়িত হলে নতুন মেয়র তথা ডিএসসিসি পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দেবে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ডিএসিসির পদোন্নতি বিষয়ক ফাইল সংস্থাপন শাখার মাধ্যমে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করার বিধান থাকলেও বিশেষ কারণে তা না মেনে রাজস্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা নিজেই সচিবকে পাশ কাটিয়ে সিইও এবং মেয়রের স্বাক্ষর করিয়ে তারপর সচিবের দফতরে পাঠান। যদিও নিয়ম অনুযায়ী সচিবের স্বাক্ষর শেষে তাদের কাছে ফাইল পাঠানোর কথা। এমনকি পদোন্নতির এ ফাইল সচিব দফতরে পাঠানোর পর তা অনুমোদন দিতে বাধ্য করতে সচিব দফতর ও সংস্থাপন শাখায় রাজস্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা কয়েকজনকে বসিয়ে রাখেন। তারা দিনভর সংস্থাপন শাখার সহ-সচিবকে এ ব্যাপারে অফিস আদেশ জারির জন্য চাপাচাপি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে নতুন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের খালাতো ভাই পরিচয় দানকারী ডিএসসিসির লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার ইফতেখার হোসেন তাকে চেয়ারে না থাকার হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে মো. ইফতেখার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংস্থাপন শাখার সহ-সচিবকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে যোগ্য মনে করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি তা মনে করি না।’ অথচ মো. ইফতেখার হোসেনই ডিটিওর পদোন্নতির এ তালিকায় অবস্থান ১ নম্বরে।
জানা গেছে, পদোন্নতির এ ফাইলে সিইও অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করেছেন ১ এপ্রিল এবং মেয়র ২ এপ্রিল। সচিব দফতরে ওই ফাইল এসেছে ২৮ এপ্রিল। পরবর্তী সময়ে এ ফাইল সংস্থাপন শাখায় অফিস আদেশ জারির জন্য যায় ৪ মে। এরপর পদোন্নতির তালিকাভুক্তদের একটি অংশ গত ৫ এপ্রিল সচিব দফতর ও সংস্থাপন শাখায় দ্রæত এ অফিস আদেশ জারির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং একপর্যায়ে ঘুষ প্রদানের প্রস্তাবও দেয় তারা।
এত কিছুর পরও অফিস আদেশ জারি না করতে পেরে একপর্যায়ে ডিএসসিসির লাইসেন্স শাখার একজন স্টাফ সংস্থাপন শাখার একজন সহ-সচিবকে ‘চেয়ার কেড়ে নেয়ার’ হুমকি দেন। সাচিবিক দফতর ও সংস্থাপন শাখায় বসে থেকে সংশ্লিষ্টদের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রæত অফিস আদেশ জারি করাতে এবং তা না করলে হইচই করতে রাজস্ব বিভাগের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসিসির সংস্থাপন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি যদিও আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়, তবে আমি শুনেছি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এ পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। তিনি বলেন, পদোন্নতির এ তালিকায় ডিএসসিসির চাকরি বিধিমালা, তফসিল কিংবা আইন কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করা হয়নি। এমনকি সাচিবিক দফতরকে পাশ কাটিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা যে কাজ করেছেন তা শুধু বেআইনিই নয়, অন্যায়ও। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এসব ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংস্থার সিইও যদি এসব ব্যাপারকে প্রশ্রয় দেন তাহলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিছুই করার থাকে না। এর ফলে ক্রমান্বয়ে এক পর্যায়ে সংস্থার শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে বলেও জানান তিনি। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহ মো. ইমদাদুল হকের সঙ্গে এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে একাধিকবার তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন সংবলিত ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। ডিএসসিসির সচিব মো. মোস্তফা কামাল মজুমদারের সঙ্গে এ ব্যাপারে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেয়রের ফোনও পাওয়া যায় বন্ধ।এদিকে গতকাল বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় ডিএসসিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যারা এ পদোন্নতির বৈধ অধিকারী এবং বি ত তারা এ আদেশ বাতিলের জন্য ইতোমধ্যেই সচিবের দফতরে সম্মিলিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। পদোন্নতির এ অন্যায় আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে এ আদেশের বিরুদ্ধে এবং যারা এ কাজে সংশ্লিষ্ট তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলার হুমকী দিযেছেন বঞিতরা। সূত্র জানায় গত ৫ বছরে নানা কাজেঅনিয়ম অগ্রিম কশিশন আদায় করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর