1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

সেই অভি কোথায়

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

বহুল আলোচিত মডেল কন্যা সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যার প্রায় ১৯ বছর পর পেরিয়ে গেলেও একমাত্র আসামি সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি এখনও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঘটনা জানাজানির কিছুদিন পরই দেশ ছেড়ে পালানো অভিকে ফিরিয়ে আনা যায়নি এই দীর্ঘদিনেও। এ অবস্থায় আগামী ১৫ নভেম্বর অভির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। অভিকে গ্রেফতারের জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) পরপর তিনবার রেড নোটিশও জারি করেছিল; কিন্তু তার সুনির্দিষ্ট কোনো হদিস পায়নি তারা।

যদিও সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পার্টির সাবেক এই এমপি অভি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। কানাডায় অবস্থান করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেখানে বেশ আয়েশেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

ইন্টারপোলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে গতকালও দেখা যায়, বিভিন্ন মামলা ও শাস্তি মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পালিয়ে থাকা অর্ধশতাধিক আসামিকে ‘রেড নোটিশের’ তালিকাবন্দি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মডেল তিন্নি হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি কথিত ‘প্রেমিক’ গোলাম ফারুক অভির নাম ও ছবি রয়েছে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে।

এ প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যার পর ইন্টারপোলের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (এনসিবি) মহিউল আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মডেল তিন্নি হত্যা মামলার রায় ১৫ নভেম্বর : আগামী ১৫ নভেম্বর তিন্নি হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন বিচারক রায় ঘোষণা না করে ১৫ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মডেল তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরানীগঞ্জ বর্তমান মডেল থানার তৎকালীন এএসআই মো. সফি উদ্দিন। এরপর নিহত তিন্নির লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে সুজন নামে নিহতের এক আত্মীয় লাশটি মডেল কন্যা তিন্নির বলে শনাক্ত করেন। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার তৎকালীন এসআই মো. কাইয়ুম আলী সরদার। পরে লাশ শনাক্ত হলে মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। সে সময় তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক ফজলুর রহমান। এরপর মামলাটি সাত হাত ঘুরে সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তিন্নি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়। এ ছাড়া এই মামলায় ২২টি আলামত জব্দ করা হয়।

গোলাম ফারুক অভি পলাতক থাকা অবস্থায় উচ্চ আদালতে আবেদনের মাধ্যমে মামলাটি স্থগিত করা হয়েছিল বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে মামলাটির স্থগিতাদেশ বাতিল হলে গতি পায়।

সেই অভি কোথায় : গোলাম ফারুক অভির উত্থান ঘটে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে। সে সময়ে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অভিযোগে গ্রেফতার হন। এরপর নব্বইয়ের গণআন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছলে তাকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ছাড়া পেয়েই অভি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। একজন সন্ত্রাসী হলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের হাত ধরে ১৯৯৬ সালে বরিশাল-২ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চাঞ্চল্যকর তিন্নি হত্যা মামলার একমাত্র আসামি অভি। অভিকে ধরতে ২০০৭ সালে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। কিন্তু পুলিশ সদর দফতরকে জানাতে পারেনি তারা। এরপর ২০১২ ও ২০১৭ সালে পুনরায় রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল।

অন্যদিকে পুলিশ ১৪ বছরেও অভিকে গ্রেফতার করতে না পারলেও তার নিজ এলাকায় ঈদের জামাতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে। জাপার একটি সূত্র জানায়, অভি এখন কানাডায় অবস্থান করছেন। যদিও কানাডার কোন শহরে তিনি বসবাস করেন তা জানাতে চায়নি জাপার সূত্রটি।

যেভাবে তিন্নি হত্যা : ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন মডেল কন্যা তিন্নি। এর আগে ৬ নভেম্বর তিন্নিকে তার স্বামী সাক্কাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেন একমাত্র আসামি অভি। তিন্নি অভির কথায় তার স্বামীকে তালাক দেন। ওই দিনই পিয়ালকে তার দেড় বছর বয়সি কন্যা সন্তানসহ রাজধানীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দিতে থাকেন তিন্নি।

একপর্যায়ে তিন্নি বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। ১০ নভেম্বর রাতে মাথায় আঘাত করে তিন্নিকে হত্যা করা হয়। এরপর গুমের উদ্দেশ্যে ওই রাতে বুড়িগঙ্গার ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় লাশ। কিন্তু পানিতে নয়, লাশটি পড়ে পিলারের উঁচু অংশে। পরদিন সকালে লাশ ঘিরে জমে উৎসুক জনতার ভিড়। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। কিন্তু চার দিনেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় অজ্ঞাতনামার লাশ হিসেবে ১৫ নভেম্বর জুরাইন কবরস্থানে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পরে এ ঘটনায় থানা পুলিশের মামলার পর একটি ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। সেই ছবির সূত্র ধরে তিন্নির স্বজনরা তিন্নির লাশ বলে পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর