1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

স্কুল-কলেজে ক্লাসে ক্লাসে আনন্দ, অভিভাবকদের সামলাবে কে

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

অপেক্ষার পালা শেষে প্রাণহীন শিক্ষাঙ্গনে আবার প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে। ১৭ মাস পরে খুলেছে স্কুলের ফটক। রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস করে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুল-কলেজে এসেছে ছাত্রছাত্রীরা। বহুদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের পেয়ে তারা খুব খুশি। একে অন্যের সঙ্গে দেখা হতেই কুশল বিনিময়। কিন্তু সেটিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। শিক্ষার্থীদের সবার মুখেই ছিল মাস্ক। স্কুল গেটে তাপমাত্রা মাপা হয়। এক পা, দুই পা করে সামনে এগোলেই হাত ধোয়ার বেসিন। সেখানে সাবান পানি দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে তারপর যেতে হয়েছে শ্রেণিকক্ষে। দূরত্ব মেনে ক্লাসে বসতে হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের পেয়ে খুশি শিক্ষকরাও। মহামারির শঙ্কায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা যায়। কিন্তু অভিভাবকদের জটলায় স্বাস্থ্যবিধি হারিয়ে যায়। স্কুল গেটে অভিভাবকদের জটলা ভাবাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের।

তারা বলছেন, অভিভাবকদের সামলাবে কে? অভিভাবকদের এই জটলা দেশের করোনা সংক্রমণের বর্তমানের নিম্নমুখিতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাই অভিভাবকদের দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলার সময় ফটকের বাইরে ভিড় করবেন না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে, তাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক- নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব নানা বিষয় আমাদের মাথায় নিতে হয়েছে। আর এটাও ঠিক, বিশ্বব্যাপী সবাই বলছে করোনাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বসবাস করতে হবে অনেকদিন। সে কারণেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটকের বাইরে ভিড় না করতে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সেগুনবাগিচা আইডিয়াল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই সচেতন। শিক্ষার্থীরা শতভাগ সুরক্ষায় থাকবে। নিশ্চিন্তে আপনাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠান। পিতামাতাকেও সন্তানের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাজধানীর বিদ্যালয়গুলো। তবে চেনা পরিবেশ বদলে গেছে অনেকটা। মহামারিতে ৫৪৩ দিন ঘরবন্দি শিক্ষার্থীরা থেকে সকাল থেকে স্কুল-কলেজে ফেরে।
রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন দেখা গেছে। অনেকদিন পর স্কুলে ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ তো আছেই, কিন্তু ভাইরাসের ভয়ে বদলে যাওয়া জীবনে ক্লাসে ফেরার অভিজ্ঞতাটা হলো অনেকটাই নতুন। প্রথম দিন পাঠ্যবইয়ের কোনো লেখাপড়া হয়নি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা সবার কুশল জানতে চান। জানতে চান করোনাকালের অভিজ্ঞতা। আর শিক্ষকরা জানান, করোনার সঙ্গে কীভাবে বেঁচে থাকতে হবে। কীভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের পরিবেশ ছিল ভিন্ন। অভিভাবকরা স্কুলের মূল ফটক আটকে ভিড় করেন। অভিভাবকদের চাপে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশে সমস্যায় পড়তে হয়। কয়েকটি স্কুলে শিক্ষকদের বারবার বলতে শোনা যায়, ‘দয়া করে প্রবেশ পথটি ছেড়ে দাঁড়ান।’ অনেকে আবার স্কুলের বাইরের ফুচকা-চটপটি, ঝালমুড়ির দোকানে ভিড় করে। সেখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল ও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও অভিভাবকরা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। প্রবেশ পথে জটলা করে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাদের জটলায় ভেতরে ঢুকতে হিমশিম খেতে হয় শিক্ষার্থীদের।

সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প ম শ্রেণির ছাত্রী মুনতাহা বলে, স্কুলে এসে খুব ভালো লাগছে। স্কুলে ঢোকার সময় তাকে চকলেট দিয়েছেন শিক্ষকরা। স্কুলের গেট সাজানো হয়েছে রঙিন বেলুন দিয়ে। এ স্কুলের প ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা রাজিয়া সুলতানা বললেন, এখনও করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। সন্তানকে নিয়ে স্কুলে আসতে একটু ভয় পাচ্ছি।

বাংলা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা সুষ্মিতা বড়ুয়া বলেন, মা হিসেবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকাটাই স্বাভাবিক। তারপরও করোনাকালে বাচ্চাদের সুরক্ষার কথাই বেশি ভাবতে হচ্ছে।
বংশালের সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, করোনা তো সহজে যাবে না। তাই বলে বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ থাকবে? এতদিন স্কুল বন্ধ থাকার কারণে যে ক্ষতিটা হলো সেটা তো সারাজীবন বহন করতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

স্কুলে উপস্থিতি অর্ধেক হলেও কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এক দিনও ক্লাস করার সুযোগ পায়নি। করোনার আগে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারলেও কলেজে ক্লাসের সুযোগ পায়নি। এমনই এক শিক্ষার্থীর মা তার অভিব্যক্তি প্রকাশে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অবশেষে মহামারি পেরিয়ে সকালের সূর্যটা হেসে উঠল আজ। ঘরে ঘরে কি অসম্ভব প্রস্তুতি ভোর থেকে স্কুল কলেজে যাওয়ার। কলেজ জীবনের প্রথম ক্লাস অহনার। প্রথম বর্ষ কেটেছে অনলাইনে। আমার মুখে শোনা কলেজের নানা গল্প তাকে এতদিন হতাশ করেছিল না পাওয়ার কষ্টে। শুভ হোক আর অনেক আনন্দে ভরে উঠুক সংক্ষিপ্ত কলেজের করিডোরের আড্ডার দিনগুলো।’

দেশসেরা নটর ডেম কলেজের ফটকে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে টাঙানো হয়েছে, ‘ঝড় থেমে যাবে, মেঘ কেটে যাবে, আলো আসবেই এসো হে ছাত্রবৃন্দ স্পন্দিত হও কলেজ প্রাঙ্গণে।’ এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিমুল্লাহ খোন্দকার সময়ের আলোকে বলেন, প্রথমদিনে একাদশে ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৯২ জন উপস্থিত ছিলেন। অল্প সময়ের ভেতরে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠাতে কিছুটা সংশয়ে থাকবেন- তা স্বাভাবিক। তবে আমরা বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর