1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

স্কুল-কলেজ খুলছে ১২ সেপ্টেম্বর: পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১২ সেপ্টেম্বর খুলছে। খোলার পর প্রতিদিনই এবারের পিইসি এবং এ বছর ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস হবে। প্রথম থেকে চতুর্থ এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন স্কুলে যেতে হবে। তাদের ক্লাস হবে আগের তুলনায় অর্ধেক। এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শেষ হয়ে গেলে নবম এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস সংখ্যা বাড়ানো হবে। ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ক্লাস শুরুর জন্য প্রস্তুত করা হবে।

রোববার সচিবালয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খোলার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল নেবে। তবে এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উপাচার্যদের সঙ্গে এ সপ্তাহে বৈঠক করবে।

সভা শেষে এসব সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, খোলার পরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনিক তথ্য নির্দিষ্ট চেকলিস্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকাভেদে কখনও প্রয়োজন হলে যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে। সব স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি নিতে রোববারই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ১৯ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এর আগে বেলা ৩টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সভা শুরু হয়। এতে শিক্ষামন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মাস দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। করোনা সংক্রমণ বর্তমানে নিুমুখী। তাছাড়া টিকা দেওয়ার কাজ জোরেশোরে চলছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরাও ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। তাছাড়া গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংক্রমণ অনেক নেমে গিয়েছিল। গত মাসের হিসাবেই কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণ ৭০ শতাংশ কমেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব পরিস্থিতি ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে সরাসরি পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে চাই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর উপযোগী করে তোলা হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করবেন মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত কিনা তা তারা সরকারকে নিশ্চিত করবেন। তিনি আরও বলেন, সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য অভিভাবকদের সচেতনতা প্রয়োজন। বাড়ির কেউ আক্রান্ত আছে কিনা তা তারা নিশ্চিত করবেন। সন্তান আক্রান্ত নন সেটা যতটা সম্ভব নিশ্চিত করে স্কুলে পাঠাবেন। প্রত্যেক অভিভাবক এটা নিশ্চিত করলে সব বাচ্চা ভালো থাকবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন ধরনের গাইডলাইন, এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) বা পরিচালনা বিধি হালনাগাদ করেছি। সেগুলোর বাস্তবায়ন শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা নিশ্চিত করবেন। প্রতিদিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর তাপমাত্রা মাপা এবং তাদের অন্যান্য উপসর্গ আছে কিনা সেটি চেক করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাসরুমের মধ্যে যে বিষয়গুলো মানা দরকার তা মানতে হবে। বিশেষ করে সবার মাস্ক আছে কিনা সেটা শিক্ষক নিশ্চিত করবেন। মাস্ক পরা ছাড়া কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকবে না। কাজেই অভিভাবকদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে, তারা তাদের সন্তানদের মাস্কটি দিয়ে দেবেন। যেন শিক্ষার্থীরা মাস্কটি বাসা থেকেই পরে স্কুলে আসে। তারা বাসায় ফিরে যাওয়া পর্যন্ত যেন মাস্ক পরে থাকে। সবার মাস্ক পরতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তবে খুব ছোট বা কম বয়সি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা খেয়াল রাখবেন, এতে কারও অসুবিধা হয় কিনা। কোনো শিক্ষার্থীর যদি মাস্কের কারণে কোনো অসুবিধা হয়, সেটি তারা অবশ্যই দেখবেন। ক্লাসরুমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য উপকরণ স্কুলে আছে। যেখানে নেই তারা কিনে ফেলবেন। স্কুলে এখন কোনো অ্যাসেম্বলি হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা চলবে, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে। খোলার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় সবকিছু তদারকি করা হবে। যেদিন যেই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুলে নেওয়া হবে সেদিন তাদের দুভাগে প্রয়োজনে তিনভাগে তিন কক্ষে বসানো হবে। প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দৈনিক অনলাইনে নেওয়া হবে।

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি আছে।

অর্ধেক সময় ক্লাস, ক্রমাগত দিন বাড়বে : প্রথম থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন ক্লাস হবে। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রথমে সপ্তাহে দুদিন স্কুলে নেওয়া হবে। পরিস্থিতি আরও ভালো হলে দিন সংখ্যা বাড়বে। আর খোলার পর শুরুতে আগের তুলনায় অর্ধেক সময় ধরে ক্লাস হবে। অন্যদিকে এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস দ্রুত শেষ করা হবে। কেননা, নভেম্বর-ডিসেম্বরে তাদের পরীক্ষা। তাদের ক্লাস শেষ হয়ে গেলে নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দৈনিক ক্লাসে যাবে।

পিইসি-জেএসসির প্রস্তুতি থাকবে : এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ দুটি পরীক্ষা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখব। যদি পরিস্থিতি অনুকূল থাকে তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এদিকে বৈঠক সূত্র জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের মায়েদের আড্ডার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়। বলা হয়, স্কুলে সন্তানদের দিয়ে মায়েরা গেটের সামনে বা মাঠে আড্ডা দেন। কাছাকাছি সার্কেল করে বসেন, সেখানেও যাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয় তাও সচেতনতার মধ্যে রাখতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার স্কুলের সামনে এগুলো হয়। অপর একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী সপ্তাহে একদিন করে স্কুল খোলা না রেখে একাধিক দিন স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে মত দেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ স্কুল খোলার বিষয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, স্কুল যদি খুলেই দেন তাহলে একদিন করে কেন খুলবে, আরও বেশি দিন খুলুক।

১৯ দফা নির্দেশনা : এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার লক্ষ্যে রোববার ১৯ দফা গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। এ গাইডলাইন অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখসহ অন্যান্য স্থানে কোডিড-১৯ অতিমারি সম্পর্কিত সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়সমূহ ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে সব শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণ; শিক্ষার্থীদের ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সব প্রবেশমুখ ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা। যদি শুধু একটি প্রবেশমুখ থাকে সেক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশমুখের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা; প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে সে বিষয়ে শিক্ষণীয় ও উদ্বুদ্ধকারী ব্রিফিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা; এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা; প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসাবে প্রস্তুত রাখা; প্রতিষ্ঠানের সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ এবং আঙ্গিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করা; প্রতিষ্ঠানের সব ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং অভিভাবক প্রবেশের সময় সরকার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন; প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর সঠিকভাবে মাস্ক (সম্ভব হলে কাপড়ের মাস্ক) পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত; প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দ্বারা হাত ধোয়ার এমন ব্যবস্থা করা যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢোকার আগে সবাই সাবান দিয়ে হাত ধুতে পারে; শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পারস্পারিক ৩ (তিন) ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কোথাও পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা।

প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করা; প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা; স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা; প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত মেরামত, বৈদ্যুতিক মেরামত এবং পানি সংযোগজনিত মেরামত সম্পন্ন করা; প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করে এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর