1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:০০ অপরাহ্ন

স্বাক্ষর জাল করে তৈরি হয় চোরাই গাড়ির কাগজপত্র

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১
  • ৩০৫ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র কোন গাড়ি চুরি করবে তার আগে রেকি করে। চক্রের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে গাড়ি টার্গেট করে। গাড়ির মালিকের অবস্থান, গতিবিধি পর্যালোচনা করা হয়। চুরি করা গাড়ি কোন রাস্তা দিয়ে নিয়ে গেলে নিরাপদ হবে সেটি আগে থেকে ঠিক করা থাকে। সবকিছু ঠিকঠাক ও ধরা পড়ার সম্ভাবনা না থাকলে চক্রের এক সদস্য নকল চাবি দিয়ে গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। তাকে অনুসরণ করতে থাকে চক্রের আরো কয়েকজন সদস্য। তারপর নিমিষেই গাড়ি স্টার্ট করে এলাকা ছাড়া। চুরি করা গাড়ি নিরাপদ স্থানে নিয়ে ইঞ্জিন ও চেচিস নম্বর পরিবর্তন করা হয়।

পরে বিআরটিএ ও আদালতের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেই গাড়ি অনেকটা কম দামে বিক্রি করা হয় প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে। এভাবেই রাজধানী ঢাকা থেকে প্রতিদিনই গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরি করা বেশিরভাগ গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। কিন্তু ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ সম্প্রতি চুরি হয়ে যাওয়া ৮টি গাড়ি উদ্ধার করেছে। এর সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-নূরুল হক, আব্দুল আলিম, মো: হৃদয় পাঠান ও এএইচ রুবেল।

বিআরটিএ-এর মিরপুর অফিসের রাস্তার বিপরীত দিক থেকে একটি গাড়ি চুরির ঘটনায় ২১শে জানুয়ারি কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মূলত এই গাড়িচোর চক্রের সন্ধান মেলে। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনাস্থলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায় নকল চাবি দিয়ে এক ব্যক্তি গাড়ির দরজা খুলে স্টার্ট করে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ২৮শে জানুয়ারি প্রথমে চক্রের সদস্য নূরুল হককে গ্রেপ্তার করে। তারপর নূরুল হকের দেয়া তথ্যমতে, চক্রের আরেক সদস্য আব্দুল আলিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ১৬ই মার্চ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থেকে হৃদয় পাঠান ও এএইচ রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চক্রের সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে চুরি করে। একেকটি টিমের একেক রকম দায়িত্ব থাকে। ঢাকা থেকে গাড়ি চুরি করে প্রথমে তারা নিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, পূর্বাচল বা কাঁচপুর ব্রিজের দিকে। চুরি করা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় চক্রের বাকি সদস্যরা গাড়ির সামনে-পেছনে মোটরসাইকেল দিয়ে পাহারা দেয়। সেখান থেকে আরেকজন চালক গাড়ি নিয়ে চলে যায় বাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ বা মৌলভীবাজারের প্রভাবশালী গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের কাছে। হাতবদল করে আবার পৌঁছানো হয় সীমানতবর্তী দুর্গম এলাকায়। সেখানে গাড়ির চেচিস ও ইঞ্জিন নম্বর মুছে ফেলা হয়। বিআরটিএ এর সিল-স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করা হয় ভুয়া কাগজপত্র। মূল মালিকের নামের সঙ্গে মিল রেখে করা নকল দলিল অথবা আদালতের স্বাক্ষর সংবলিত নিলামের কাগজপত্র। এরপর সহজ সরল নিরীহ লোকদের কাছেই চক্রের সদস্যরা বাজারদরের চেয়ে অনেকটা কম দামে গাড়িটি বিক্রি করে দেয়। চুরি করা এসব গাড়ি বিক্রি করা হয় সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের কাছে। খুব অল্প সময়ের জন্য যারা দেশে ঘুরতে আসেন এমন ব্যক্তিদের কাছে। তারা কম দামে কিনে দেশে থাকাকালীন অবস্থায় গাড়ি ব্যবহার করেন। দেশ ছাড়ার সময় আবার বিক্রি করে দেন। এছাড়া চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের হোতাদের কাছেও গাড়ি বিক্রি করে। কারণ এসব গাড়ি ব্যবহার করে অপরাধীরা নানা অপকর্ম চালায়। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পরিবহন থেকে শুরু করে চোরকারবারে এসব গাড়ি ব্যবহার করা হয়। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, চক্রটি বেশ শক্তিশালী। সারা দেশেই তাদের নেটওয়ার্ক আছে। চক্রের বেশিরভাগ সদস্য ঢাকাতেই থাকে। তারা সবাই পেশাদার গাড়ি চোর। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তারা প্রাইভেটকার চুরি করে। যেসব গাড়ি রাস্তার পাশে পার্কিং করে মালিক বা চালকরা দূরে কোথাও চলে যান। সে গাড়িগুলো চুরির জন্য চোররা টার্গেট করে। চক্রের সদস্যদের কাছে নকল চাবি থাকে। একটি চাবি দিয়ে একাধিক গাড়ি স্টার্ট করা যায়। যে এলাকার গাড়ি চুরির টার্গেট করা হয় তার আশেপাশে চক্রের একাধিক সদস্য ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পালন করে। কেউ গাড়ি স্টার্ট করে নিয়ে এলাকাছাড়া হয়, আবার কেউ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি দেখে। আরো কেউ কেউ গাড়ির মালিক বা চালকের অবস্থান নিশ্চিত করে। চক্রের আরো কিছু সদস্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গাড়ি বিক্রির ক্রেতার সন্ধান করে। ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার বলেন, চুরি করা এসব গাড়ি মাদক বহনে ব্যবহার করা হয়। চোরচক্র গাড়ি চুরির পর ইঞ্জিন ও চেচিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে নিরীহ লোকদের কাছে বিক্রি করে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের প্রবাসী যারা স্বল্প সময়ের জন্য দেশে ঘুরতে আসেন তাদের কাছে বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, এই চক্রে অনেক সদস্য আছে। সবাইকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমাদের তদন্ত চলছে। আমরা আরো গাড়ি উদ্ধার এবং আরো অনেককে গ্রেপ্তার করবো। সূত্র-মানবজমিন

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর