1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

হেফাজতের মতো অবস্থান নিতে চায় বিএনপি!

সময়ের আলো
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই দিন বড় রকমের শোডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এই সমাবেশেই পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে দলটির। তবে ১০ ডিসেম্বর বিএনপি নেতাকর্মীরা হেফাজতে ইসলামের মতো ঢাকায় অবস্থান নিতে পারে, সরকারকে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে দেশের কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল। বিএনপি নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় অবস্থান নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে সরকার নিজেই ঢাকা সমাবেশকে স্থায়ী রূপ দেবে কি না সরকারকেই সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্থায়ী রূপ নিলে সেই দায়-দায়িত্ব সরকারের।

তারা বলছেন, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছে বিএনপি।

ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর। ১০ ডিসেম্বর থেকেই আন্দোলনের মূল পর্বে যাত্রা করবে বিএনপি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় থাকা যুগপৎ কর্মসূচি শুরু করার প্রচেষ্টা থাকবে। তবে যদি অন্যান্য দলের সে রকম প্রস্তুতি না থাকে, সে ক্ষেত্রে এককভাবেই রাজপথে ধারাবাহিক থাকবে বিএনপি। সেদিন অবরোধ, লংমার্চ, জেলা থেকে জেলায় রোড মার্চ, ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরে রোড মার্চ, ৬৮ হাজার গ্রামে একই দিন গণমিছিলের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব রয়েছে।

নেতাদের প্রস্তাবে আরও রয়েছে – ১০ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচি প্রদান এবং ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি। কর্মসূচির মধ্যে নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি রাখার প্রস্তাবও এসেছে জোরালোভাবে। জানা গেছে দলের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, বিএনপিকে স্বাধীনভাবে সমাবেশ করতে দিলে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক লোক এনে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। এমনটা না হলেও বড় জমায়েত দেখিয়ে নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে প্রমাণ করতে চাইবে। এতে আওয়ামী লীগের কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার কয়েকটি স্থানে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচির সূচনা হবে মাত্র। ইতিমধ্যে দলের নেতা আমানউল্লাহ আমান ১০ ডিসেম্বরের পর খালেদা জিয়ার নির্দেশে দেশ চলবে বলে বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, আমানের বক্তব্যে সরকার ভয় পেয়েছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি আগামী ১০ ডিসেম্বর হেফাজতের মতো অবস্থান নিতে পারে, সরকারকে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. মনজুর রহমান জানান, ‘১০ ডিসেম্বর বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নেবেন – এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে আমাদের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। এমন কোনো তথ্য পেলে আমরা গণমাধ্যমকে জানাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম ১০ ডিসেম্বরের মধ্য দিয়ে একটি পরিণতির দিকে যাবে। এটিকে আমরা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছি। আমরা সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। ১০ ডিসেম্বরের পর দেশে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এই টার্নিং পয়েন্টের কারণেই ১০ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ।’

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে সারা দেশে সমাবেশ করছি। সর্বশেষ সমাবেশ হবে ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর। এই সমাবেশে আমরা স্মরণকালের জনসমুদ্র তৈরি করতে চাই। যেহেতু এটা সর্বশেষ কর্মসূচি তাই এখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে। এখন পর্যন্ত কর্মসূচির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

‘সেই দিন বিএনপি হেফাজতে ইসলামের মতো অবস্থান নিতে পারে’ উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় এক দিনের জন্য সমাবেশ করছি। আওয়ামী লীগ সব জায়গায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই দিন সমাবেশ করতে পারে। কিন্তু আমরা দুই মাস আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। তারা পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাবেশগুলো এক দিনের হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন দিন, চার দিনে রূপ নিচ্ছে। আমরা সব জায়গায় প্রতিবন্ধকতার মুখে সমাবেশ করছি, ঢাকায়ও করব। সরকার নিজেই ঢাকা সমাবেশকে স্থায়ী রূপ দেবে কি না সরকারকেই সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার স্থায়ী রূপ দিলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারের।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরে কী কর্মসূচি আসবে – এটা আমাদের পলিসির বিষয়। দল যখন কর্মসূচি ঠিক করবে, তখন জানানো হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সেদিন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

সেই দিন বিএনপি অবস্থান নেবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম না। সবার রাজনৈতিক ধারা এক না। হেফাজতকে লালন-পালন করেছে সরকার। হেফাজতের সফি হুজুরকে হেলিকপ্টারে করে কীভাবে নেওয়া হয়েছে সেটা সবাই জানে।’

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর