1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

১০০ আসনে প্রার্থিতায় আসতে পারে পরিবর্তন

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

তৃণমূলে নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব, স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন, জনসমর্থন নেই, নির্বাচিত হওয়ার পর জনসম্পৃক্ততা নেই এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সঙ্গে জড়িত- এমন অনেক এমপি, মন্ত্রী ও দলের ডাকসাইটে নেতা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। দলের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিতর্কিত নেতাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরতে জরিপ চালাচ্ছে সরকারি-বেসরাকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে কোনো কোনো সংস্থা জরিপের ফল দলটির হাইকমান্ডের কাছেও জমা দিয়েছে। এ ছাড়া দলের সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দিয়েও একটি জরিপ চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের ত্যাগী-পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত-পদবঞ্চিত, দুর্দিনে মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে তার কাছে দলের অনেক বড় বড় নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে পৌরসভাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে এবং বিদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে। জরিপে উঠে এসেছে, অনেক এমপি-মন্ত্রীর নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার অবস্থাও নাজুক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর অনেকেই জনবিচ্ছিন্ন। অথচ এলাকায় নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। এতে তৃণমূলের ত্যাগী ও দুর্দিন-দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা অনেক নেতা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছেন।

সূত্র বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবার জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। ফলে নৌকার প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠ জরিপ করছে দলটি। এ জরিপকাজ মনিটরিং করছেন দলের সভাপতি স্বয়ং শেখ হসিনা। গত ৭ মে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তিনি বলেন, বিতর্কিত কর্মকা- ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত যত বড় নেতা, এমপি বা মন্ত্রী হন, তাদের আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিমের নেতাদেরও দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের ফিরিস্তি তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি এসব অভিযোগ তার নিজ দফতরে দিতে বলেছেন। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামীতে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন দলের অনেক প্রভাবশালী নেতা ও এমপি-মন্ত্রী। এতে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অন্তত ১০০ আসনে প্রার্থিতায় পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে দলটির অনেক ডাকসাইটে নেতা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযোগ। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের এখনও প্রায় দেড় বছর বাকি থাকলেও বিতর্কিত অনেক নেতাই দলটির মনোনয়ন বোর্ডে থাকা শীর্ষ নেতাদের কাছে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও লবিং-তদবির শুরু করেছেন। এর মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সভাপতি ম-লীর সদস্য, সম্পাদক ম-লীর একাধিক সদস্যসহ কেন্দ্রীয় সদস্যরাও রয়েছেন। রয়েছেন বর্তমান এমপি ও মন্ত্রীও। তবে নৌকার চূড়ান্ত টিকেট দেবেন আওয়ামী লীগ ও মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলের সবার খবর রাখেন তিনি। দলের সবকিছুই তার নখদর্পনে। কে কোথায় কী করে, কার জনপ্রিয়তা রয়েছে, কে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করছেন- তিনি সবই জানেন। তাই তিনি দল এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেন বিচক্ষণতার সঙ্গে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিতর্কিত নয়- সৎ, শিক্ষিত, মেধাবী, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যরাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। সবার আমলনামা শেখ হাসিনার কাছে আছে। ইতোমধ্যে বিতর্কিতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি একাধিক সংস্থার মাধ্যমে মাঠ জরিপ করে আমলনামা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই আমালনামা অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে তারা কেউ আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না, তিনি যত বড় নেতা-এমপি-মন্ত্রীই হন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উইং কাজ করছে। যারা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান অথবা বিদ্রোহীদের মদদ দিয়েছেন তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন, তারা ভবিষ্যতে শুধু দলীয় এমপি মনোনয়নই নয়, দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও থাকতে পারবেন না। তারা শুধু দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবেই থাকবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে, যদি কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন, জনসম্পৃক্ত না থাকেন, তার বিরুদ্ধে যদি কোনো নেতিবাচক কর্মকা-ের অভিযোগ থাকে, তিনি যত বড় নেতা ও এমপি-মন্ত্রী হোক না কেন ভবিষ্যতে কোনো মনোনয়ন তো দূরের কথা তাকে দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেই রাখা হবে না। অন্তত একবার হলেও তাকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রী শেখ হাসিনা সবার খোঁজখবর রাখছেন। যারা বিতর্কিত কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত তাদের বিষয়ে দলের নিজস্ব ইন্টেলিজেন্ট ফোর্স কাজ করছে। তাই যে যত বড় নেতাই হোক তার আমলনামা ভালো না থাকলে দলীয় কোনো মনোনয়ন পাবেন না।

তিনি বলেন, গত ৭ মে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে যেসব নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়েছেন, তাদের ভবিষ্যতে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এখানেই শেষ নয়, অনেক এমপি-মন্ত্রী আছেন, যারা নির্বাচিত হওয়ার পর আর এলাকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি তারাও দলীয় মনোনয়ন পাবেন না।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর