1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

১৪ কোটি পরামর্শ ব্যয়ের প্রস্তাব

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: উন্নয়ন কাজ হাতে নিলেই পরামর্শক ব্যয় যেন লাফিয়ে লাফিয়ে আসে। পল্লি অবকাঠামোর উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এর পরও ‘গাজীপুর জেলা পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ১৪ কোটি টাকার ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এতে আপত্তি দিয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, এলজিইডির প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যেই এ ধরনের সাধারণ মানের কাজে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাই অধিক পরিমাণে পরামর্শক সেবা গ্রহণ যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয় না। সেই সঙ্গে আরও সাত খাতের ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমানো হয়েছে। বাদ দেওয়া হচ্ছে অডিও ভিডিও বা চলচ্চিত্র নির্মাণ, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ক্রয়, অন্যান্য মেরামত ও সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং সেমিনার বা কনফারেন্স বাবদ ব্যয়। গত ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা, ডিজাইন ও গবেষণা ইউনিট) (গ্রেড-২) শেখ মোহাম্মদ মহসিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,পল্লি অবকাঠামোসংক্রান্ত একটা প্রকল্প তো আর নয়। বর্তমানে ১২৬টি প্রকল্প আছে। কিন্তু আমাদের ডিজাইন ইউনিটসহ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রকৌশলীর অনেক পদই খালি রয়েছে। প্রয়োজনীয় লোকবলের যথেষ্ট সংকট থাকায় আমরা প্রায় সব প্রকল্পেই কিছু কিছু পরামর্শক রাখি। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত আসা হয়। কিন্তু জনবল থাকলে হয়তো বড় প্রকল্প ছাড়া পরামর্শক প্রয়োজন হতো না। সূত্র জানায়, গাজীপুর শিল্প ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে অন্যতম অগ্রসর জেলা। সারা দেশের রাজস্ব আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এ জেলার শিল্প ও পর্যটন এলাকা থেকে। কিন্তু জেলার রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ও হাট-বাজার উন্নয়নের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার জনগণের আর্থ-সামাজিক এবং শিল্পসমৃদ্ধ এলাকাভিত্তিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা,ভারি যানবাহন চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি, শিল্পজাত পণ্যের বাজারজাতকরণে সুবিধাসহ গ্রামীণ জনগণের বাণিজ্যিক সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৮৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর হতে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি। পিইসি সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে কন্সালটেন্সি (পরামর্শক) খাতে থোক হিসাবে ১৪ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সভার সভাপতি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ ওই সভায় বলেন, এলজিইডির প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যেই এ ধরনের সাধারণ মানের কাজে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাই অধিক পরিমাণে পরামর্শক সেবা গ্রহণের যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয় না। এ বিষয়ে এলজিইডির প্রতিনিধি সভায় জানান, শুধু ব্রিজগুলোর নির্মাণকাজ সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য ডিজাইন ও সুপারিভিশনে পরামর্শক খাতের প্রয়েজনীয়তা রয়েছে। পরে একান্ত প্রয়াজনীয়তার নিরিখে পরামর্শক খাতে বরাদ্দ পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,বর্তমানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাস্তবভিত্তিক করা প্রয়োজন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ভ্রমণ ব্যয় ৩২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ লাখ টাকা এবং অফিস ভাড়া ৮১ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মুদ্রণ ও প্রকাশনা খাতে ২০ লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ লাখ টাকা, অন্যান্য মনিহারি খাতে ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ১৫ লাখ টাকা, পেট্রল ও লুব্রিকেন্টে ৬০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকা, বইপত্র ও সাময়িকীতে ১০ লাখ টাকার পরিবর্তে পাঁচ লাখ টাকা এবং প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে ৫০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। পিইসি সভার কার্যবিবরণীতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ১০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় উল্লেখ করা হয় যে, জনবহুল এ দেশে জমির পরিমাণ কম হওয়ায় যৌক্তিক এবং সতর্কতার সঙ্গে কৃষিজমি ব্যবহার করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে প্রকল্প থেকে ভূমির পরিমাণ ও ব্যয় যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জমির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে জমির মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কিত দলিল ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংযোজন করা যেতে পারে। এছাড়া পিইসি সভায় আরও বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় ৩৩২ মিটার ব্রিজ বা কালভার্টের জন্য ৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সভার সভাপতি জানতে চান এবং একান্ত প্রয়োজন না হলে ব্রিজ নির্মাণ না করার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পে মোট কতটি ব্রিজ ও কালভার্ট হবে তার তথ্য সংশ্লিষ্ট ছকে পৃথকভাবে ডিপিপিতে উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। সূত্র-যুগান্তর

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর