1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

৩০ কোটি টাকা লোপাটের ছক

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৬৫ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: লোপাটের ছক কষে বলা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পাওে বলে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে স্বাস্থ্য ভবন। উপকরণের দর নির্ধারণে মানা হয়নি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস। প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপকরণ ও বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে কেনা হচ্ছে উপকরণ। ফলে ভবনটি নির্মাণে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এই অতিরিক্ত টাকা পকেটে ঢুকবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি চক্রের। এই চক্রের যোগসাজশে সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে নির্মাণ কাজে নয়ছয় হচ্ছে। হচ্ছে তদন্ত কমিটিও। কিন্তু দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা একের পর এক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।

সূত্র জানায়, করোনাকালেও স্থাপনা নির্মাণ, কেনাকাটা, কাজের অনুমোদন, মূল্যায়নসহ সার্বিক কর্মকান্ডে লাগামহীন দুর্নীতি চলছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। মানা হচ্ছে না পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)। দেশের বিভিন্ন স্থানে একই রকম উপকরণ দিয়ে সরকারি অন্য দপ্তরের নির্মাণ করা ভবনের প্রতি বর্গফুটের খরচ যেখানে ২ হাজার টাকা। সেখানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের (এইচইডি) ভবন নির্মাণে প্রতি বর্গফুটের খরচ পড়ছে ৫ হাজার টাকারও বেশি। এসব দুর্নীতিকে বৈধতা দিতে এবং অনলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে টেন্ডার আহ্বান, মূল্যায়ন, কাজের অনুমোদন এমন কি বিল পর্যন্ত পরিশোধও করছেন একই ব্যক্তি। অথচ পিপিআর অনুযায়ী এর প্রত্যেকটি ধাপ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে।

একের পর এক দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে। এমনকি স্বাস্থ্যভবন নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। ভবনটির প্রথম ধাপের নির্মাণ কাজের সিংহভাগ অসম্পূর্ণ রেখে পুরো বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছিল। ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। উপরন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজে বাজার দরের চেয়ে বেশি দর নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের মূল্যায়নপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, এইচইডি মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য ভবনের ৫ম তলা হতে ১৫ তলা পর্যন্ত মোট ১০টি তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করছে। সম্প্রতি এ কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। প্রতি তলায় ১৫ হাজার বর্গফুট হিসাবে ১০টি তলায় মোট আয়তন ১ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট। গণপূর্ত অধিদপ্তরের দর অনুসরণ করে এইচইডি এর ব্যয় প্রাক্কলন করেছে ৯৭ কোটি টাকা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের দর অনুসরণে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করতে প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা। যেহেতু এখানে ভিত্তির জন্য কোনো ব্যয় হচ্ছে না। সে হিসাবে স্বাস্থ্য ভবনের প্রাক্কলিত মূল্য হওয়ার কথা ৬৭ কোটি টাকা। অথচ সেটার প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য ভবনের ৪ তলা ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, প্রায় ৭১ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই সমুদয় অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ওই সময় নির্মাণ কাজের চুক্তিভুক্ত ৮৬৬টি আইটেমের মধ্যে মাত্র ২৫৩টি আইটেমের কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবশিষ্ট ৬০৩টি আইটেমের কাজ না করেই সমুদয় চুক্তিমূল্যের টাকা ব্যয় দেখানো হয়। সূত্র জানায়, ওই সময় দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পরে পুনরায় টেন্ডার করে প্রায় ১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এভাবেই স্বাস্থ্য প্রকৌশলের অধীনে নির্মাণ কাজে ধারাবাহিকভাবে অনিয়মের ঘটনা ঘটছে।

সূত্র আরো জানায়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এইচইডি) হাজার হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণে বিভিন্ন প্রকার কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে নির্মাণ ব্যয় বেশি দেখিয়ে তা ভাগাভাগি করা হচ্ছে। পদে পদে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো নির্মাণ কাজে দুর্নীতি বন্ধ করার প্রথম ধাপই হলো ঐ কাজের প্রতিটি উপকরণের কাজের পরিমাপ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা এবং কাজের পরিমাণকে দর দিয়ে গুণ করে সঠিক প্রাক্কলন করা। কিন্তু এইচইডি’তে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে তা করা হয় না। দর নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান ও স্বাস্থ্য উইংয়ের প্রধান ডা. আ. এ. মো. মহিউদ্দিন ওসমানী বলেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশলের নির্মাণ কাজে সব সময় গণপূর্তের দরই অনুসরণ করা হয়। গণপূর্তের একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণকাজে প্রতিটি উপকরণের আলাদা আলাদা দর হিসাব করা হয়। মোট দর থেকে প্রতি বর্গফুটের দর বের করা হয়। সেই হিসাবে বর্তমানে অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণে সাড়ে ৪ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট অনেক বেশি এবং বাজার দরের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: আবদুল মান্নান বলেন, স্বাস্থ্য খাতের যে কোনো অনিয়মের বিষয়ে আমরা কঠোর। স্বাস্থ্য ভবন নির্মাণের অনিয়মের বিষয়ে আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি। এমন অভিযোগ আসলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। সূত্র- মানবজমিন

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর