1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

৪ বছরে শত কোটি টাকার মালিক এমপি জাফর!

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিতে মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে হাজির হন কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ-সদস্য জাফর আলম ও তার স্ত্রী। দুপুর ১২টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কক্সবাজার কার্যালয়ে উপস্থিত হলে তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকাল ৩টার দিকে তারা দুদক কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি জাফর আলম। গত ২৪ আগস্ট দুদক কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিনের স্বাক্ষরে তাদের আলাদা চিঠি দিয়ে তলব করা হয়। চিঠিতে জাফর আলম, তার স্ত্রী শাহেদা বেগম, মেয়ে তানিয়া আফরিন ও ছেলে তানভীর সিদ্দিকী তুহিনকে ৪ সেপ্টেম্বর হাজির হয়ে সম্পদের হিসাব দিতে বলা হয়েছিল। তবে দলীয় কাউন্সিলের ব্যস্ততা দেখিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নেন তারা।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাফর ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিদখল, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও তা বিক্রি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে দুদকে অভিযোগ জমা পড়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের নামে অন্তত ২০০টি দলিল সম্পাদন হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছে দুদক। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের তলব করা হয়।

জানা যায়, জাফর আলম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামায় নিজেকে অর্ধকোটি টাকার মালিক হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। শুধু তিনি নন, তার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনে পিছিয়ে নেই স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা শাহেদা বেগম, ছেলে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী তুহিন ও মেয়ে তানিয়া আফরিনও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এমপি জাফর পেকুয়ায় জলাশয় ও পানি চলাচলের ড্রেন (সরকারি জায়গা) ভরাট করে মেয়ে তানিয়া আফরিন নিউমার্কেট নির্মাণ করছেন; যার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি টাকা। চকরিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে এসি ল্যান্ড অফিসের সামনে অন্যের জায়গা জবরদখল করে ছেলে তুহিন ও মেয়ে তানিয়া মার্কেট নির্মাণ করছেন; যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা। এছাড়া চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে গ্রিন ভ্যালির পাশে তানিয়া আফরিনের নামে ২ একর জমি ক্রয় করে ভরাট করেছেন; যার মূল্য ৩ কোটি টাকার বেশি।

অভিযোগ আছে, চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগায় তানিয়া আফরিন ও তুহিনের নামে মাল্টিপ্লেক্স নামে একটি মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে। ওই মার্কেটের মূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা। এ ছাড়া ছেলে তুহিনের নামে ৩টি বিলাসবহুল গাড়ি, ২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং সেখানে সেকেন্ড হোম কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর জাফর ও তার ছেলেমেয়েদের চেয়ে কয়েকগুণ সম্পদ বেশি রয়েছে স্ত্রী শাহেদার নামে।

দুদক কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে সাবরেজিস্ট্রার অফিস, চকরিয়া ও কক্সবাজারে ২০১৬ থেকে ২০২২ সময়ে প্রায় ২০০টি দলিল সম্পাদিত হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এসব দলিলের সম্পদের মূল্য অন্তত ১০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি সম্পদ কেনা হয়েছে এমপির স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা শাহেদা বেগমের নামে।

সম্পদের পাশাপাশি অন্যদের জমি দখল করে চকরিয়া থানার রাস্তার মাথায় সিস্টেম কমপ্লেক্স ও শাহেদা বেগমের নামে মাল্টিপ্লেক্স ভবন ‘শাহেদা কমপ্লেক্স’ করার অভিযোগ উঠেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনালের পূর্বপাশের জলাশয় দখল ও ভরাট করে একটি শিল্প গ্রুপের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জাফর আলমের বিরুদ্ধে।

এছাড়া এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চকরিয়া শাখা, ইসলামী ব্যাংকের চকরিয়া শাখা, ইউনিয়ন ব্যাংক চকরিয়া শাখা, ব্র্যাক ব্যাংক কক্সবাজার শাখা, এক্সিম ব্যাংক কক্সবাজার শাখাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকার স্থায়ী আমানত এবং সঞ্চয়পত্র কেনা আছে বলেও তথ্য পেয়েছে দুদক।

অভিযোগ আছে, গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের নামে রামপুর মৌজায় বরাদ্দকৃত ৩০০ একর চিংড়ি প্রজেক্ট রাতের অন্ধকারে জবরদখল করে নেন জাফর আলম। এছাড়া তার আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়া সন্ত্রাসীরা পেকুয়া ও চকরিয়াতে ব্যক্তিমালিকানাধীন কয়েকটি চিংড়ি ঘের, হাজার একর বনভূমি দখল করে রেখেছে। বরইতলী-মগনামা সড়কে নবনির্মিত বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি সড়কে মাটি দেওয়ার নাম করে মছনিয়া কাটা এলাকার বিশাল পাহাড় কেটে ফেলার অভিযোগ আছে জাফর আলমের বিরুদ্ধে।

এছাড়া সংসদ-সদস্য জাফর আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পরিবারের জমি আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মো. আলমগীর নামে এক ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, পেকুয়া মৌজায় ২০২০ সালে এক মাসের ব্যবধানে ৬টি দলিলে নিঃস্বত্বদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে সংসদ-সদস্য নিজে, তার মেয়ে ও নিকটাত্মীয়রা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১ একর জমির মালিক বনে গেছেন। এ জায়গায় ডেভেলপারকে দিয়ে এখন নিউমার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামরুল হাসান চৌধুরীর চকরিয়ার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে পৈতৃকভাবে পাওয়া ৬ একর ৯ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি জবরদখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জাফর আলম।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ-সদস্য জাফর আলম বলেন, যড়যন্ত্রকারীরা কেন্দ্রীয় নেতা হানিফ ভাইয়ের কাছে নানা অভিযোগ দিয়েছিল। পরে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এখন তারা আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদকে ডাহা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি চাই দুদকে এসব অভিযোগ তদন্ত করুক। আমার পক্ষ থেকে দুদককে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

এমপির স্ত্রী শাহেদা বেগম জানান, ‘এই অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। মূলত আমার স্বামীর রাজনৈতিক বিরোধী গ্রুপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ দিয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘একজন নারীর পক্ষে জমি, চিংড়ি ঘের, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি করা কী করে সম্ভব?

এমপির ছেলে তুহিন বলেন, আমি নাকি মালয়েশিয়ায় হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করেছি, সেকেন্ড হোম তৈরি করেছি। ৩টি বিলাসবহুল গাড়িও নাকি আমার আছে। এসব মিথ্যা কথা। আমার নামে কোনো জমিজমা বা সম্পদ নেই। ২১ কোটি টাকা মূল্যের যে রেস্টুরেন্টের কথা বলা হচ্ছে সেটা আমরা ৫ জন বন্ধু মিলে ভাড়া নিয়েছি। আর আমার মায়ের নাম শাহেদা কমপ্লেক্স নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে সেটা আমার বাবার টাকায় করা। সেটা বাবা মায়ের নামে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ-সদস্যের সপরিবারের সদস্যরা দুদক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তারা কিছু ডকুমেন্ট দলিল-কাগজপত্র দিয়েছেন; যা যাচাই-বাছাই করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর