1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

৫২ কোটির বাস ৫০ লাখে বিক্রি বিআরটিসির

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

৫২ কোটি টাকায় ৫০টি দ্বিতল সুইডিশ ভলভো বাস কিনেছিল বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি)। বাসগুলো অন্তত ১৫ বছর ঢাকার সড়কে চলবে- এমন উদ্দেশ্য নিয়েই কেনা হয়েছিল। কিন্তু ৫ বছর না যেতেই অকেজো হতে শুরু করে বাসগুলো। আর ৭ বছরের মধ্যেই পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে বাসগুলো এক রকম গলার কাঁটা হয়ে যায় বিআরটিসির। সেই কাঁটা সরাতে ৫২ কোটি টাকায় কেনা বাস ভাঙারি দরে মাত্র ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করল সরকারি এই সংস্থা। অন্যদিকে ৫০ লাখ টাকায় ৪৯টি ভাঙারি বাস বিক্রি করে এবার ৬০০ কোটি টাকায় ৩২০টি এসি বাস কিনতে চায় বিআরটিসি। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে প্রস্তাবিত ‘প্রকিউরমেন্ট অব সিএনজি সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস ফর বিআরটিসি’ প্রকল্পের আওতায় সিএনজিচালিত বাসগুলো কেনা হবে। এর আগে ২০০৪ সালে ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হয় ৫০টি দ্বিতল সুইডিশ ভলভো বাস। যে বাস কমপক্ষে ১৫ বছর চলার কথা। অথচ অযত্ন আর অবহেলায় ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যেই বিকল হতে শুরু করে বিআরটিসির সবচেয়ে দামি এ বাসগুলো। কেনার ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে ৪৯টি বাসই বিকল হয়ে পড়ে। অবশেষে নষ্ট হওয়া বিলাসবহুল বাসগুলো বিক্রি হলো মাত্র ৫০ লাখ টাকায়। তবে বাস দ্রুত বিকল ও নষ্ট হওয়ার পেছনে মূলত যন্ত্রাংশের অভাবকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এবার অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন করে এবার বড় পরিসরে কোরিয়ান এসি বাস কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে বিআরটিসি। আগের প্রকল্পগুলোতে ১০ শতাংশ যন্ত্রাংশের সংস্থান থাকলেও এবার রাখা হয়েছে ৩০ শতাংশ। এতে বাসগুলো দীর্ঘদিন মানুষের সেবা দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পর্যন্ত বিআরটিসির যত বাস কেনা হয়েছে তার কোনোটিরই যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে বাসগুলোর যতদিন সেবা দেওয়ার কথা তা পাওয়া যায়নি। তবে রক্ষণাবেক্ষণের চেয়ে নতুন বাস কেনায় আগ্রহ বেশি কর্তৃপক্ষের। তাই শুধু বাস কিনলেই হবে না, বিআরটিসিকে বাসগুলো রক্ষণাবেক্ষণে বেশি মনোযোগী হতে হবে।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও বৈদেশিক ঋণ ৪৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) কোরিয়ান বৈদেশিক ঋণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃশহরের মধ্যে নির্ভরযোগ্য এবং আরামদায়ক পাবলিক পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা, দূষণমুক্ত বাস পরিচালনা ও দুর্বল বাসগুলো স্থানান্তর করা। প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা দেখিয়ে বিআরটিসি জানায়, ঢাকা মহানগরীতে উন্নত ও সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক সিস্টেম প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিসি বিভিন্ন সময় ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যাত্রীদের কাছে বিআরটিসি বাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু বাসস্বল্পতার কারণে বিআরটিসির পক্ষে যাত্রীদের এ চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মাধ্যমে ইডিসিএফের ঋণ সহায়তায় ৩২০টি সিএনজিচালিত একতলা এসি বাস কেনার পিডিপিপি (প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিআরটিসির আওতায় গুণগত মানসম্পন্ন গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়বে।

প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য কোরিয়ায় প্রস্তাব পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ও কোরিয়ান সরকারের মধ্যে বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন বাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের ঋণে ৩২০টি এসি বাস কেনা হবে। সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে বাসগুলোতে। আমরা এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবনা কমিশনে পাঠিয়েছি। প্রকল্পটির ঋণের বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এটি ফাইনাল হলেই প্রকল্পটি একনেকে তোলা হবে। নতুন এই বাসগুলো রক্ষণাবেক্ষণে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের চেয়ে বর্তমানে আমাদের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। আগে যে বাস মেরামত করতে তিন দিন লাগত তা এখন ৩ ঘণ্টার মধ্যেই মেরামত করা সম্ভব। নতুন বাসগুলো যাতে দীর্ঘদিন ব্যাবহার করা যায় সে জন্য আমরা নতুন নতুন প্রকল্পে ৩০ শতাংশ যন্ত্রাংশের সংস্থান রেখেছি, যাতে কোনো সমস্যা হলেই অকেজো হয়ে না পড়ে। নতুন এই বাসগুলো কমপক্ষে ১৫ বছর সেবা দেবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বিআরটিসিও একটি সরকারের প্রতিষ্ঠান। তারা একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারাও সেটা যাচাই-বাছাই করেছেন। আমরা প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছি। তবে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদনের পরই বাস কেনা হবে। আর সেটি দেবেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিআরটিসির বাস রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিআরটিসির বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তারা সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান। যতদিন তারা আছে তাদের চাহিদার বিষয়টিও দেখতে হবে। বাস রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন না যেতেই বাসগুলো ভেঙে পড়ে, নষ্ট হয়। জনগণের টাকায় কেনা বাসগুলো যাতে দীর্ঘদিন সেবা দিতে পারে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছি।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক বলেন, বিআরটিসিতে জবাবদিহিতার কোনো ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি বিআরটিসি বেসরকারি খাতের মতো বাস লিজ দেয়। তবে মেইনটেন্যান্সটা নিজের ঘাড়ে রাখে। আর যারা লিজ নেন তারা আসেন টাকা কামাতে। তাই যেভাবে দরদ দিয়ে গাড়ি চালানো দরকার তারা তেমনটি করেন না। এ কারণেই বাসগুলো দ্রুত নষ্ট হয়। এ পর্যন্ত বিআরটিসির জন্য যত বাস কেনা হয়েছেÑ সেগুলোর কোনোটিরই যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে প্রত্যাশিত সেবাও পাওয়া যায়নি। তবে রক্ষণাবেক্ষণের চেয়ে নতুন বাস কেনায় আগ্রহ বেশি কর্তৃপক্ষের। কারণ নতুন কিনলে লাভ বেশি, রক্ষণাবেক্ষণে তো সেটি নেই। তিনি বলেন, শুধু নতুন নতুন বাস কিনলেই হবে না। আগে সিস্টেম ঠিক করতে হবে। বিআরটিসিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সরকারের উচিত আগের কিনে দেওয়া বাসগুলোর মূল্যায়ন করা। তারপর নতুন বাস কেনার অনুমোদন দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর