1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

৯০ সচিবের মধ্যে ২১ জনই চুক্তিভিত্তিক

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারকে তৃতীয় দফায় গত ৯ সেপ্টেম্বর আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট থেকে তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মতো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় ৯০টি পদে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কমপক্ষে ২১ জন। এর মধ্যে প্রশাসনে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন ১১ জন এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন আরও ১০ জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও দূতাবাসে প্রায় ১৫০ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে চাকরি করছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত এক বছরে সচিব পদমর্যাদার ১২ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। কেউ কেউ চার বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকের আবার এক বা একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অবসরে যাওয়ার পরও বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের মধ্যে।

বর্তমানে সচিব পদে যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রয়েছেন তারা হলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব, সম্পদ বড়ুয়া (দ্বিতীয় মেয়াদে তিন বছরের জন্য), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান (দ্বিতীয় মেয়াদে এক বছরের জন্য), সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম।

এ ছাড়াও অবসরে যাওয়া আরও ১০ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদায় চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন।

একাধিক কর্মকর্তার দাবি জনপ্রশাসনে পদ ছাড়াই ঢালাও পদোন্নতির ঘটনা বারবার ঘটছে। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর ৮৯ জন যুগ্ম সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদ ১১১টি হলেও নতুন করে পদোন্নতির পর অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৫ জনে। এতে পদোন্নতি পেয়েও অধিকাংশ কর্মকর্তা আগের পদেই চাকরি করছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশাসনে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। পদ ছাড়া ঢালাও পদোন্নতির কারণে জনপ্রশাসনে যেখানে নিয়মিত কর্মকর্তারা পদ পাচ্ছেন না সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কারণে সঙ্কট আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত কর্মকর্তা থাকার পরও চুক্তিতে ১১ জন সচিবকে দায়িত্ব দেওয়ায় বছরে তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের অতিরিক্ত প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মেয়াদ শেষে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, সবার আশা থাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ সচিব হওয়া। কিন্তু সচিব পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়তে থাকায় অনেকেরই সচিব পদে পদোন্নতি কেবল স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কর্মকর্তাই কথা বলতে রাজি হননি।

আরেক জন অতিরিক্ত সচিব জানান, বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকলেও এখন সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাসে চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে তিন সচিবের। তারাও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেখানে কর্মরত অতিরিক্ত সচিবরা সচিবের চেয়েও সিনিয়র। এ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাদের মধ্যে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারভুক্ত একটি বিশেষ ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতি ১০ শতাংশ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করতে পারেন। তাই দীর্ঘদিন ধরেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি চলে আসছে। তবে এটি বন্ধ হলে প্রশাসনের কাজ আরও গতিশীল হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, দেশের চলমান উন্নয়ন ধরে রাখতে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। নির্দিষ্ট কাজে বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদেরই সরকারের প্রয়োজনে ওই পদে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিনি বলেন, বিশেষায়িত পদে এবং যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল সঙ্কট রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় উপযুক্ত সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের মধ্য থেকে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর