1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজার হতে চলেছে এক অর্থনৈতিক গেম-চেঞ্জার

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১
  • ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে কঠোর লকডাউনে নিজ ঘরেই অবস্থান করছে পুরো জাতি। কিন্তু, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বের জেলা কক্সবাজারের ৭৭টি সাইটে এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা গুঞ্জন তুলছে অবকাঠামো নির্মাণ যন্ত্রের গতিবিধি।

উপর থেকে দেখা যাবে মুক্তার রঙে ঝিনুকের মতো। সাগর ছোঁয়া রানওয়েতে দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই উঠানামা করবে বিমান- এমন রূপে সাজছে পর্যটনখাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

নীল-সাদা সাগর ও আকাশে মেঘের সঙ্গে মিতালী পাতা সুউচ্চ পাহাড়সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যর লীলাভূমি কক্সবাজারের পর্যটনের বিকাশ ও গভীরসমুদ্র বন্দর কেন্দ্রিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগও স্থাপন হচ্ছে। এক বছর পর এটি চালু হলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে অবিরাম যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু সড়কপথের ওপর আর নির্ভর করবে না।

কেবল যোগাযোগ অবকাঠামোই নয়, দেশের অর্থনীতির প্রধান গেম চেঞ্জার হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর- বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মাণ হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর। বাংলাদেশের প্রধান আমদানিস্থল চীনসহ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যে মেলবন্ধনের নিয়ামক হয়ে উঠবে জাপানের কাশিমা বন্দরের আদলে হতে যাওয়া মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর।

১৯৬২ সালে যখন কাশিমা বন্দর স্থাপনের কাজ শুরু হয়, তখন ওই এলাকাটি ছিল ধানক্ষেত। বন্দর নির্মাণের পর সেটি ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরও এমন বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, হংকরংসহ দ্বীপভিত্তিক অর্থনৈতিক হাবগুলোর আদলে গড়ে তুলতে কক্সবাজার ঘিরে এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেল সংযোগ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বৈদ্যুতিক হাব গড়ে তোলার পাশাপাশি কক্সবাজারে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম দ্বীপভিত্তিক পর্যটন পার্ক।

পর্যটন ও বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা সত্বেও স্বাধীনতার পর থেকেই জেলাটি ছিল অবহেলিত। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে থাকাই নিয়তি ছিল উপকূল জেলাটির বাসিন্দারের। ২০০৯ সালে কক্সবাজারের পর্যটন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

কক্সবাজার ঘিরে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিমানবন্দর, রেললাইন, ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও এসপিএম প্রকল্প, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল এক এক করে ২০২৩ সালের মধ্যে চালু জলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চিত্র। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে মহেশখালী ইকোনমিক জোন দ্বীপভিত্তিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ নেবে।

কক্সবাজারের দূর্গম দ্বীপ মাতারবাড়িতে ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ল্যান্ডবেইজ এলএনজি টার্মিনাল, চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা এবং ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন স্থাপনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল কর্মযজ্ঞ অঞ্চলটিকে ইতোমধ্যেই জাপান, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য আকষর্ণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করতে সাবরাং, নাফ ও সোনাদীয়ায় তিনটি ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের কাজও চলছে। স্বাধীনতার পর অবকাঠামো ও বিনিয়োগে পিঁছিয়ে থাকা দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান কক্সবাজরজুড়ে প্রায় ২৫টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৭টি বাস্তবায়নের কাজ চলছে, যা পাল্টে দেবে জেলার রূপচিত্র।

এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি, যা এক বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকারের মোট বরাদ্দ দেওয়া অর্থের দেড় গুণ। গত জুন মাসে সরেজমিন বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলায় জাপানী নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ও চলমান কোভিড মহামারীর স্থবিরতা কাটিয়ে বেশিরভাগ প্রকল্পেই দিন-রাত কাজ চলছে, ক্ষণে ক্ষণে কক্সবাজারের পাল্টে যাওয়ার চিত্র বুনন হচ্ছে।

বেজার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, কক্সবাজারের ঘিরে সরকারের যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, এগুলো বাস্তবায়ন হলে আধুনিক পর্যটন ও বৃহৎ অংকের বিনিয়োগে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই সাবরাং থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত পুরোপুরি বদলে যাবে।

তিনি বলেন, মহেশখালীর ধলঘাটায় বেজার ৪০০০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আছে। সেখানে টিকে গ্রুপ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও এলপিজি টার্মিনাল করার জন্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ইতোমধ্যে ২৫০ একরের জমি ডেভেলপ করেছে। এর পাশেই গভীর সমুদ্রবন্দর হবে। ফলে ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বেশকিছু কোম্পানি জমির জন্য আবেদন করে রেখেছে।

তবে বিপুল এই বিনিয়োগ দৃশ্যমান হতে দু’-তিন বছর সময় লাগবে জানিয়ে পবন চৌধুরী বলেন, মহেশখালী বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় একে দেশের মূল ভু-খন্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সড়ক চালু হলে এবং মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র জেনারেশনে এলে তখন দেশি-বিদেশি ইন্ডাস্ট্রিগুলো বিনিয়োগ কাজ শুরু করতে পারবে। এজন্য মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি (এমআইডিআই) কাজ করছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, কক্সবাজার জেলায় যেসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, তাতে আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যেই অঞ্চলটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার ও কুনমিং হয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে সম্পৃক্ত হওয়াও সহজ হবে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল, আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র, ও ইকোনমিক জোনকেন্দ্রিক মাল্টিবিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে, যার বড় অংশই আসবে দেশি-বিদেশি বড় বড় কোম্পানি থেকে। এই উন্নয়ন যাত্রায় কক্সবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করতে হলে ব্যাংকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তুলতে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

‘আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যে মহেশখালী ও টেকনাফে বিপুল বিনিয়াগ হলে দক্ষ জনশক্তিরও দরকার হবে। কিন্তু কোনখাতে কি পরিমাণ দক্ষ জনশক্তি লাগবে, তার কোন হিসাব সরকার থেকে এখনও দেওয়া হচ্ছে না। আগে থেকে এ তথ্য পাওয়া গেলে স্থানীয় শিক্ষিত তরুণরা এখন থেকেই নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে পারে’- যোগ করেন তিনি।

কমিশনিং হলেই ২৪ ঘন্টা চলবে বিমান:

সড়কপথ ছাড়া কক্সবাজারের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ সার্বক্ষণিক কোন বিকল্প নেই। ব্রিটিশ আমলে গড়ে উঠা বিমানবন্দরটি এক সময় অকেজো ছিল। পর্যটনে খরা দেখা দিলে সেখানে বিমান উঠানামা বন্ধ হয়ে যেত। এখনও দিনের আলো নিভে গেলে অচল পড়ে হয়ে পরে বিমানবন্দরটি।

এই বিমানবন্দরে ২৪ ঘন্টাই বিমান উঠানামার ব্যবস্থা করতে লোকালাইজার, ভিওআর, জিপি স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং হলেই সেখানে সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘণ্টা বিমান উঠানামা করতে পারবে।

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর