মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪, ১৭ বৈশাখ ১৪৩১

দুবাই হয়ে দেশে ফিরতে চান জিম্মি নাবিকরা

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৪, ০১:০৮ পিএম

দুবাই হয়ে দেশে ফিরতে চান জিম্মি নাবিকরা


দুবাই হয়ে দেশে ফিরতে চান জিম্মি নাবিকরা। বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি সোমালিয়ার উপকূলে এখনও জিম্মি। জাহাজটি মুক্ত হলে যাতে দ্রæত নাবিকদের ফিরিয়ে আনা যায়, সে জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে জাহাজের মালিকপক্ষ।
মুক্তির পর নাবিকেরা কোথা থেকে সাইন অফ (জাহাজের কর্ম হতে অব্যাহতি) করবেন, তার তালিকা জাহাজের ক্যাপ্টেনকে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে মালিকপক্ষ। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গণমাধ্যম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মালিকপক্ষের নির্দেশনার পর জাহাজের ২৩ নাবিকের মধ্যে ১৮ জন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর থেকে সাইন অফ করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। বাকি পাঁচজন জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে সাইন অফ করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাই করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নেওয়ার ৯ দিনের মাথায় দস্যুরা মুক্তিপণের জন্য জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নানা পর্যায়ে দর-কষাকষির পর দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতার অগ্রগতি হয়েছে বলে মালিকপক্ষ জানিয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সমঝোতার কথা স্বীকার করেনি মালিকপক্ষ।
জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রæপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছে। আশা করছি, কম সময়ের মধ্যে নাবিকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে পারব।’
জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে দস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজটি মুক্ত হলে প্রথমে নেওয়া হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরে। সেখানে কয়লা খালাস করে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসার কথা রয়েছে। এ কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কারা সাইন অফ করবেন, তাদের তালিকা প্রস্তুতত করছে মালিকপক্ষ। যতজন নাবিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর থেকে নেমে যাবেন, সমানসংখ্যক নাবিক বাংলাদেশ থেকে সেখানে পাঠানো হবে। নতুন নাবিকেরা যোগ দেবেন এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে। এরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরিয়ে আনা হবে জাহাজটি।
জিম্মি জাহাজ ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে একাধিক বলছেন, সাধারণত দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষি চূড়ান্ত হলে এমন প্রক্রিয়া শুরু করে মালিকপক্ষ। দর-কষাকষির পর এক-দুই সপ্তাহ লাগে নাবিকদের মুক্ত করতে। এ সময় মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ এবং জাহাজ ফিরিয়ে আনা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলোর কাজ এগিয়ে নিতে হয়। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, জাহাজটি মুক্ত হলে কখন কী করতে হবে, তার আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মালিকপক্ষ এমন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এমন পরিকল্পনার অর্থ হলো, জাহাজটি মুক্ত হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু দ্রæত বাস্তবায়ন করা যায়।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!