শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

পুষ্টিকর ফল সবার জন্য উপকারী নয়,কার ক্ষেত্রে কোনটি ক্ষতিকর, জানালেন পুষ্টিবিদ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

পুষ্টিকর ফল সবার জন্য উপকারী নয়,কার ক্ষেত্রে কোনটি ক্ষতিকর, জানালেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক: গ্রীষ্মকাল মানেই বিভিন্ন রঙের রসালো ও পানি-সমৃদ্ধ ফলের সমাহার। এই ঋতুতে তীব্র গরমে শরীরকে সুস্থ রাখতে রসালো ফলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অপরিসীম। প্রচণ্ড গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রতিনিয়ত পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যায়। ফলে তৈরি হয় ডিহাইড্রেশন ও দুর্বলতা, দেখা দিতে পারে ক্লান্তি ও অবসাদ। এ অবস্থায় তরমুজ, বাঙ্গি, ডাবের পানি, আনারস, আমের মতো মৌসুমি ফল শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে বেশ সহায়ক।
এসব রঙিন ফলে থাকা ভিটামিন এ, সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সারাদিনের ভিটামিনের চাহিদা পূরণে ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে আনতেও গ্রীষ্মের রঙিন ফলের জুড়ি নেই। তবে সবার জন্য সব ফল একভাবে উপকারী হবে না। প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা ও রোগ অনুযায়ী ফল নির্বাচন করা জরুরি। কোন সমস্যায় কোন কোন ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, এ ব্যাপারে চ্যানেল ২৪ অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ওয়ারীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা।
ডায়াবেটিক:ডায়াবেটিক পেশেন্টদের জন্য কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ও ফাইবার বেশি আছে, এমন ফল গ্রহণ করা উচিত। যেমন- পেয়ারা, আপেল, জাম ও কমলা (টক ফল) ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত আম, লিচু বা আঙুর গ্রহণে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষত যাদের ব্লাড সুগার উঠানামা করে তাদের জন্যও অতিরিক্ত মিষ্টি ফল গ্রহণ করা অনুচিত।
উচ্চ রক্তচাপ:উচ্চ রক্তচাপের (হাইপারটেনশন) রোগীদের জন্য কলা, তরমুজ ও ডাবের পানি উপকারী। কারণ, এসব ফলে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হৃদপিন্ডের ক্রমসংকোচন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু হাইপারটেনশনে যেসব ফল উপকারী, একই ফল কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত পেশেন্টদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা, কিডনি রোগীদের সাধারণত লো পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ফল সিলেকশন করতে বলা হয় এবং ইলেকট্রোলাইট রিপোর্ট ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তিভেদে নির্দেশনা ভিন্ন হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক-অ্যাসিডিটি:গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় কলা, পেঁপে ও বাঙ্গি খাওয়া ভালো। রসালো ফল সহায়ক হয় এ ক্ষেত্রে। তবে আনারস বা কাঁচা আম বেশি খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। কারণ, টক বা বেশি অ্যাসিডিক ফল এড়িয়ে চলা উচিত।
স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ:যারা ওজন কমাতে চান বা ওভারওয়েট পেশেন্ট, তাদের জন্য তরমুজ, পেয়ারা ও পেঁপে উপকারী। অর্থাৎ পানিজাতীয় ফল সিলেকশন করা উচিত। কারণ, এগুলো কম ক্যালরি ও বেশি ফাইবারযুক্ত, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে ও ক্ষুধার প্রবণতা কমায়।
সবশেষ পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা বলেন, ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় ভাবা প্রয়োজন। এছাড়া ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া, কেটে দীর্ঘক্ষণ না রাখা, অর্থাৎ বাতাসের সংস্পর্শে না রাখা এবং জুসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া বেশি উপকারী। কারণ, এতে ফাইবার বা ফলের আঁশ বজায় থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত কোনো ফল গ্রহণই ভালো নয়। সঠিক ফল সঠিক পরিমাণে এবং নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে গ্রহণ করলে গ্রীষ্মকালীন ফল হতে পারে আপনার সুস্থ থাকার সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়।সংগৃহীত

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!