নিজস্ব প্রতিবেদক: ড. ইউনূসের অন্তর্বতী সরকারের সমালোচনা করায় কারাগারে অন্তরিন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। দুই মাস যাবৎ তিনি কারাগারে আছেন। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিম থেকে তুলে নেওয়ার পর তাঁকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর অন্তর্র্বতী সরকারের সময়েও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়া এভাবে আটকের পর দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সঙ্গে তুলনা করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা। সরকারের কড়া সমালোচনা করাতেই কি এই পরিণতি? এমন প্রশ্নও তোলেন কেউ কেউ। এর পরও টনক নড়েনি সরকারের। উল্টো বারবার জামিন বাতিল হওয়ায় শুনানি শেষে আদালত চত্বরে ক্ষোভ প্রকাশ ও কাঠগড়ায় কান্নাও করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ধানমন্ডির একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাবাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ওইদিন (১৪ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তিনিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ দেন জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স নামে একটি সংগঠনের সংগঠক আরিয়ান আহমেদ। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে (আওয়ামী লীগ) ফিরিয়ে আনার প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পর দিন আদালতে তোলে ডিবি পুলিশ। ওই দিন আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এ অর্থকে আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এজাহারে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর পর থেকে কারাগারেই আছেন তিনি। এদিকে আনিস আলমগীরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানোর পর মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বিবৃতিতে জানিয়েছিল,একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই আইনটির উদ্দেশ্য ও পরিধির অপপ্রয়োগের শামিল। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনের জন্য প্রণীত একটি কঠোর আইনকে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার ওপর প্রয়োগ করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক নীতির পরিপন্থি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের আচরণ অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে সাংবাদিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের স্মৃতি উসকে দেয়।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :