ডেইলি খবর ডেস্ক: ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করা সংবাদমাধ্যমকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘যেসব গণমাধ্যম ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট করে, প্রমোট করে, কিংবা চর্চা করে তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের বিশেষ অর্জন বিষয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম’ (ইন্টেলেকচুয়াল ফ্যাসিজম)-এর কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘ইন্টেলেকচুয়াল চিন্তা-চেতনায় যদি কেউ ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট বা প্রমোট করে, সেই জিনিসটাকে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমাদের অন্য কিছু করার থাকে না। যারা মুক্ত বাংলাদেশ এবং নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।’
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্র বিশ্বাস করাটা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছর যে মানসিকতা আমরা দেখেছি, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। কিন্তু বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে মিডিয়ার স্বাধীনতা বন্ধ করে দেওয়া বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই।’
বিগত শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের সব সিস্টেম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা আশা করি, যাতে আমরা ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারি।’
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিষয়টি আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার (জুডিশিয়ারি) মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট দাবি হলো জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সব অপরাধের সঠিক বিচারের স্বার্থে যাদের নামে মামলা রয়েছে, তাদের সবাইকে ফেরত আনা হবে।
এছাড়া সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কম পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।
ব্রিফিংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অতীতেও বলেছি, সরকারের বিরুদ্ধে বলার স্বাধীনতা সকলেরই আছে। সরকারের বিরুদ্ধে হোক কিংবা পক্ষে জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র। বিটিভি ও সরকারি মাধ্যমে এখন থেকে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :