থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়। তা ছাড়া ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনাকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককের হোটেল সাংগ্রিলা ব্যাঙ্ককে ৪০ মিনিটের বৈঠক শেষে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নরেন্দ্র মোদির কাছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, যা ভারতের আতিথেয়তার অপব্যবহার বলে মনে হচ্ছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,‘তিনি বাংলাদেশের অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক অভিযোগ করে আসছেন।আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করছি,তিনি আপনার দেশে থাকাকালে এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
প্রধান উপদেষ্টার এই কথার প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে দায়ি করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের সম্পর্ক একটি দেশের সঙ্গে; কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে নয়।’
অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মত অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন,প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মো. জসিম উদ্দিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :