রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২

তারা ১৯৭১ সালে কী করেছিল,তা ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন: মির্জা ফখরুল

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

তারা ১৯৭১ সালে কী করেছিল,তা ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন: মির্জা ফখরুল

জেলা প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা স্মরণ করে ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে তারা কী করেছিল, তা মানুষ ভুলে যায়নি। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভেবেচিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।’রোববার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও মাদ্রাসা মাঠ ও চেরাডাঙ্গীতে গণসংযোগের তৃতীয় দিনে আয়োজিত পৃথক দুটি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা এই দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে দেখেছি। তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য।’
বক্তব্যের শুরুতেই মির্জা ফখরুল নিজের দলের নেতা-কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমার দলের কোনো লোক যদি কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, আমাদের জানাবেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ যে অপকর্ম করেছে, আমার দলের লোককে আমরা তা করতে দেব না।’
ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নৌকা আর ধানের শীষকে সবাই চেনে, কিন্তু দাঁড়িপাল্লাকে এই অঞ্চলের মানুষ সেভাবে চেনে না। জামায়াত পুরোনো দল হলেও আমাদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য বিশাল। বিএনপি একটি পরীক্ষিত দল, যারা পাঁচবার সুনামের সঙ্গে সরকার চালিয়েছে।’
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করে সম্পদ বাড়াইনি, বরং বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি। আপনাদের আমানত নিয়ে আমরা খেয়ানত করব না।’
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৫ বছর আমরা পুলিশের তাড়া খেয়েছি। আমাদের এমন কোনো কর্মী নেই যার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। আমার নিজের বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা এবং ১১ বার জেলে যেতে হয়েছে। দেশনেত্রী ৬ বছর জেলে ছিলেন এবং তারেক রহমান ১৮ বছর দেশে ফিরতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘এখন আমরা মুক্ত বাতাস পাচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব এখন সুন্দর দিন তৈরি করা, হানাহানি বা পাল্টা মামলাবাজি না করা। এটি কোনো আপস নয়, বরং ভ্রাতৃত্ববোধের নতুন সমাজ তৈরি করা।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা নিজেরা শক্ত হন, বুকে সাহস আনুন। প্রতিরোধ গড়ার মানসিকতা তৈরি করুন। আপনার ভোট আপনি যাকে খুশি দেবেন,এর জন্য কেন নির্যাতনের শিকার হতে হবে?’সংগৃহীত ছবি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!