বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

বাংলাদেশ টি-২০ বিশ^কাপ না খেললে কোন দেশ সুযোগ পাবে?

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ টি-২০ বিশ^কাপ না খেললে কোন দেশ সুযোগ পাবে?

স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর শুরু আগামী মাসে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এক অস্বস্তিকর মোড়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিলামে দল পাওয়া মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তে কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। 
২০ দলের আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচ খেলবে। যার মধ্যে তিনটিই নির্ধারিত কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে, আর একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড চায় এই ম্যাচগুলো ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া হোক। এক চিঠিতে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধও জানিয়েছে বিসিবি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতেই না যায়, তাহলে কী হবে বিশ্বকাপের ভাগ্যে? মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল-পর্ব ঘিরে তৈরি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জটিলতা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সম্ভাব্য বৈশ্বিক ক্রিকেট সংকটে। আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও তারা বাংলাদেশের দাবি মানতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে অনেক গণমাধ্যম। যদিও এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।
এই সংকট মোকাবিলায় আইসিসির সামনে বাস্তবসম্মত তিনটি পথ খোলা আছে, আর সময়ই নির্ধারণ করবে কোন পথে হাঁটবে আইসিসি। প্রথমত, ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে দিতে পারে শ্রীলঙ্কায়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশকে পয়েন্ট হারাতে হতে পারে এবং ভারতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো ছেড়ে দিতে হতে পারে। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই বাতিল করে দিতে পারে আইসিসি।
বিশ্বকাপে যদি বাংলাদেশকে বাতিল করা হয়, সেক্ষেত্রে অন্য একটি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেয়া হবে। তবে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নির্ধারণের জন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ‘রিজার্ভ তালিকা’ নেই। ফলে প্রতিস্থাপন হলে সেটি হবে আইসিসির বিবেচনাধীন সিদ্ধান্ত। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে আইসিসির অভিজ্ঞ সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ড।
২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ালে স্কটল্যান্ডই তাদের জায়গা নিয়েছিল। তবে একটি জটিলতা আছে। ২০২৬ সালের ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে স্কটল্যান্ড শীর্ষে ছিল না। নেদারল্যান্ডস ও ইতালি সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে, আর স্কটল্যান্ডের ওপরে ছিল জার্সি। ফলে যোগ্যতার ভিত্তিকে প্রাধান্য দিলে জার্সি ও বিকল্প হিসেবে সামনে আসতে পারে।
এই পুরো পরিস্থিতি আসলে আইসিসির শাসনব্যবস্থার বড় পরীক্ষা। একদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, অন্যদিকে আয়োজক দেশের দায়বদ্ধতা, আর তৃতীয়ত ভবিষ্যতের নজির। একবার যদি কোনো দল সূচি ঘোষণার পর ভেন্যু নিয়ে অনড় অবস্থান নেয়, ভবিষ্যতে অন্য দলগুলিও একই পথ নিতে পারে।
বাংলাদেশ আপাতত ভেন্যু বদলের আবেদন জানিয়েছে। সেটি কি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহারে রূপ নেবে, নাকি আইসিসি সমঝোতার পথে হাঁটবে তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই সংকট বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি করে দিয়েছে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!